ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিদ্যুৎ নেই, গল্প আছে: লোডশেডিংয়ে ফিরে দেখা পুরোনো দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হঠাৎ ঘর অন্ধকার। ফ্যান থেমে গেছে, ওয়াই-ফাই বিচ্ছিন্ন, মোবাইলের চার্জও শেষের পথে। কয়েক মিনিটের লোডশেডিং যেন আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে এক বিরক্তিকর বিরতি। অথচ একটা সময় ছিল, যখন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মানেই ছিল না বিরক্তি—বরং শুরু হতো অন্যরকম এক সন্ধ্যা।

হারিকেনের মৃদু আলো কিংবা মোমবাতির শিখা জ্বেলে পরিবারের সবাই এক জায়গায় বসত। কেউ গল্প করত, কেউ লুডু বা ক্যারাম খেলত, কেউবা রেডিওর অনুষ্ঠান শুনত। বাড়ির ছাদে উঠে বাতাস খাওয়া, প্রতিবেশীর সঙ্গে দু-এক কথা বলা কিংবা দাদা-দাদির মুখে পুরোনো দিনের গল্প শোনা—লোডশেডিংয়ের সময়টুকুই যেন হয়ে উঠত দিনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশ।

আজকের দিনে সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। হাতে স্মার্টফোন, সামনে ল্যাপটপ, ঘরে টেলিভিশন—বিনোদনের অভাব নেই। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে হঠাৎ করেই যেন সবকিছু থেমে যায়। অথচ সেই অন্ধকারটুকুকেই চাইলে আবারও কিছুটা আনন্দের সময়ে পরিণত করা যায়।

লোডশেডিংয়ের সময় মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার বদলে বের করা যেতে পারে পুরোনো বোর্ড গেম, তাস বা লুডু। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করা, বই পড়া, ডায়েরিতে লেখা, ছবি আঁকা কিংবা বারান্দায় বসে বৃষ্টির শব্দ শোনাও হতে পারে চমৎকার সময় কাটানোর উপায়। বিদ্যুৎ থাকলে যে মানুষগুলো একই ঘরে থেকেও আলাদা আলাদা পর্দায় ব্যস্ত থাকে, বিদ্যুৎ না থাকাটাই কখনো কখনো তাদের আবার একসঙ্গে বসার সুযোগ করে দিতে পারে।

আর যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে, ছাদে গিয়ে কিছুক্ষণ রাতের আকাশ দেখাই বা মন্দ কী? শহরের কৃত্রিম আলোর ভিড়ে যে আকাশকে আমরা প্রায় ভুলেই গেছি, লোডশেডিং হয়তো তাকে একটু কাছে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তাছাড়াও পাড়া-প্রতিবেশীদের কিংবা বন্ধুবান্ধবের সাথে কিছু মুহূর্তও বিনিময় করা যেতে পারে।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই প্রযুক্তির আলোয় আমরা হয়তো হারিয়ে ফেলেছি অন্ধকারে বসে গল্প করার আনন্দটুকু। তাই পরবর্তীতে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরক্ত হয়ে ফোনের চার্জ খোঁজার আগে একটু থামা যাক। হয়তো সেই অন্ধকারেই খুঁজে পাওয়া যাবে পুরোনো দিনের এক টুকরো আলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিদ্যুৎ নেই, গল্প আছে: লোডশেডিংয়ে ফিরে দেখা পুরোনো দিন

আপডেট সময় : ০৭:২৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

হঠাৎ ঘর অন্ধকার। ফ্যান থেমে গেছে, ওয়াই-ফাই বিচ্ছিন্ন, মোবাইলের চার্জও শেষের পথে। কয়েক মিনিটের লোডশেডিং যেন আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে এক বিরক্তিকর বিরতি। অথচ একটা সময় ছিল, যখন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মানেই ছিল না বিরক্তি—বরং শুরু হতো অন্যরকম এক সন্ধ্যা।

হারিকেনের মৃদু আলো কিংবা মোমবাতির শিখা জ্বেলে পরিবারের সবাই এক জায়গায় বসত। কেউ গল্প করত, কেউ লুডু বা ক্যারাম খেলত, কেউবা রেডিওর অনুষ্ঠান শুনত। বাড়ির ছাদে উঠে বাতাস খাওয়া, প্রতিবেশীর সঙ্গে দু-এক কথা বলা কিংবা দাদা-দাদির মুখে পুরোনো দিনের গল্প শোনা—লোডশেডিংয়ের সময়টুকুই যেন হয়ে উঠত দিনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশ।

আজকের দিনে সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। হাতে স্মার্টফোন, সামনে ল্যাপটপ, ঘরে টেলিভিশন—বিনোদনের অভাব নেই। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে হঠাৎ করেই যেন সবকিছু থেমে যায়। অথচ সেই অন্ধকারটুকুকেই চাইলে আবারও কিছুটা আনন্দের সময়ে পরিণত করা যায়।

লোডশেডিংয়ের সময় মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার বদলে বের করা যেতে পারে পুরোনো বোর্ড গেম, তাস বা লুডু। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করা, বই পড়া, ডায়েরিতে লেখা, ছবি আঁকা কিংবা বারান্দায় বসে বৃষ্টির শব্দ শোনাও হতে পারে চমৎকার সময় কাটানোর উপায়। বিদ্যুৎ থাকলে যে মানুষগুলো একই ঘরে থেকেও আলাদা আলাদা পর্দায় ব্যস্ত থাকে, বিদ্যুৎ না থাকাটাই কখনো কখনো তাদের আবার একসঙ্গে বসার সুযোগ করে দিতে পারে।

আর যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে, ছাদে গিয়ে কিছুক্ষণ রাতের আকাশ দেখাই বা মন্দ কী? শহরের কৃত্রিম আলোর ভিড়ে যে আকাশকে আমরা প্রায় ভুলেই গেছি, লোডশেডিং হয়তো তাকে একটু কাছে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তাছাড়াও পাড়া-প্রতিবেশীদের কিংবা বন্ধুবান্ধবের সাথে কিছু মুহূর্তও বিনিময় করা যেতে পারে।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই প্রযুক্তির আলোয় আমরা হয়তো হারিয়ে ফেলেছি অন্ধকারে বসে গল্প করার আনন্দটুকু। তাই পরবর্তীতে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরক্ত হয়ে ফোনের চার্জ খোঁজার আগে একটু থামা যাক। হয়তো সেই অন্ধকারেই খুঁজে পাওয়া যাবে পুরোনো দিনের এক টুকরো আলো।