সাগর-রুনি হত্যার ক্লু মিলেছে : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ কানেকশন (সম্পৃক্ততা) পাওয়ার দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। মামলাটির তদন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা করছে না, এটি করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্য কোনো ঘটনার ক্লু পেয়ে যাই। এখন যেমন আমরা সাগর-রুনির তদন্তের ব্যাপারে ক্লু পেয়েছি। তবে আমরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। এইটুকু বলতে পারছি যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির ঘটনার একটা কানেকশন পাওয়া গেছে।’
মামলাসংশ্লিষ্ট কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার সময় এই সংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাদের নজরদারিতে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে নিয়োজিত পিবিআই কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হতে পারে।
এর আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তার দাবি ছিল, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আগে থেকেই র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের কাছে তথ্য ছিল।
এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জোহা জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’ তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে ওই কর্মকর্তা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলা একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা হওয়ায় এর বিচার সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই হবে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা ওয়াইডস্প্রেড বা সিস্টেমেটিক অফেন্স না, এটা একটা ইন্ডিভিজুয়াল মার্ডার কেস, সে কারণে এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে।’
১২৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৯ বার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব র্যাবকে দেয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে ওই আদেশ সংশোধনের জন্য। শুনানি শেষে আদালত বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তবে গত দেড় বছরে টাস্কফোর্সটি আদালত থেকে তিন দফা সময় নেয়। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।
গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টে ওই অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রতিবেদনের প্রকাশযোগ্য অংশ তুলে ধরে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং পুলিশ প্রশাসনের তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনেকের কাছ থেকেই বর্তমান টাস্কফোর্স প্রয়োজনীয় তথ্য বা সহযোগিতা পাচ্ছে না।






















