ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অস্ত্রহাতে মাদক বিরোধী অভিযান ও একজন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে লাউডস্পিকার নিয়ে ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযান চলাকালীন ৬ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷ 

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে লাউডস্পিকার নিয়ে ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে গেন্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন বস্তি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযান চলাকালীন ৬ জনকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়৷ তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই হাতে পিস্তল উঁচিয়ে প্রতিমন্ত্রী চিৎকার করে বলছেন, “এই ধর ধর ধর…”। এরপর তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ধাওয়া করেন এবং মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন—একজন রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারক বা প্রতিমন্ত্রী কি এভাবে নিজে অস্ত্র হাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা পালন করতে পারেন? ব্যাপক অনলাইন সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)  এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, জীবন বা জননিরাপত্তার হুমকি তৈরি হলে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তবে অন্যদের মধ্যে ভয় বা অস্বস্তি তৈরি হয় এমনভাবে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা আইনি নীতিমালার পরিপন্থী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ৬ জনকে আটক করেন, যাদের কাছ থেকে হেরোইন সদৃশ সাদা গুঁড়ো পাওয়া গেছে।

তীব্র সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তার হাতের আগ্নেয়াস্ত্রটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং লাইসেন্সকৃতঁ। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরও পুলিশ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং অতীতে সেখানে অভিযানে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার নজির থাকায়, তিনি সতর্কতাবশত নিজের সুরক্ষায় অস্ত্রটি সঙ্গে রেখেছিলেন। এটিকে আইন হাতে তুলে নেওয়া নয়, বরং মাদকের বিরুদ্ধে একটি “সামাজিক প্রতিরোধ” হিসেবে দেখছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন৷

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অস্ত্রহাতে মাদক বিরোধী অভিযান ও একজন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

আপডেট সময় : ০৭:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে লাউডস্পিকার নিয়ে ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযান চলাকালীন ৬ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷ 

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে লাউডস্পিকার নিয়ে ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে গেন্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন বস্তি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযান চলাকালীন ৬ জনকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়৷ তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই হাতে পিস্তল উঁচিয়ে প্রতিমন্ত্রী চিৎকার করে বলছেন, “এই ধর ধর ধর…”। এরপর তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ধাওয়া করেন এবং মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন—একজন রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারক বা প্রতিমন্ত্রী কি এভাবে নিজে অস্ত্র হাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা পালন করতে পারেন? ব্যাপক অনলাইন সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)  এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, জীবন বা জননিরাপত্তার হুমকি তৈরি হলে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তবে অন্যদের মধ্যে ভয় বা অস্বস্তি তৈরি হয় এমনভাবে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা আইনি নীতিমালার পরিপন্থী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ৬ জনকে আটক করেন, যাদের কাছ থেকে হেরোইন সদৃশ সাদা গুঁড়ো পাওয়া গেছে।

তীব্র সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তার হাতের আগ্নেয়াস্ত্রটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং লাইসেন্সকৃতঁ। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরও পুলিশ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং অতীতে সেখানে অভিযানে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার নজির থাকায়, তিনি সতর্কতাবশত নিজের সুরক্ষায় অস্ত্রটি সঙ্গে রেখেছিলেন। এটিকে আইন হাতে তুলে নেওয়া নয়, বরং মাদকের বিরুদ্ধে একটি “সামাজিক প্রতিরোধ” হিসেবে দেখছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন৷