ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নেপালকে হারিয়ে নারী সাফ ফুটবলের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আবারো শিরোপার কাছে পৌছে গেলো বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌছে যায় লাল-সবুজ পতাকাধারীরা। যদিও শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। কিক অফের ২৩ মিনিটে গোল হজম করা বাংলাদেশকে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় ম্যাচ সমতায় ফেরায় ঋতু পর্নার অসাধারণ এক কর্ণার কিক। স্বতিতে ফিরে লাল-সুবজ শিবিরে। ম্যাচটির নির্ধারিত সময় যখন নিশ্চিত ১-১ গোল দিয়ে শেষ হবার পথে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে একটি কাউন্টার এ্যাটাক থেকে গোল করে বাংলাদেশ বিজয় ছিনিয়ে নেয়। বাংলাদেশের পক্ষে গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা। নেপালের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন গীতা রানি।

এর আগে টানা দুবার ফাইনালে এই নেপালকেই হারিয়ে বাংলাদেশ নারী সাফ ফুটবলের শিরোপা জিতেছিলো। এটি বাংলাদেশের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠা। এবার জিতলেই ঋতু পর্ণাদের হ্যাটট্রিক শিরোপা। সে মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ।

তবে এবারের টুর্ন‍ামেন্টে সাগরিকারা পারেনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে থাকতে। ফাইনালে ওঠার আগে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ১-৩ গোলে ভারতের কাছে হেরে যায়। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে নেপাল ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। গ্রুপ পর্বে তারা ভুটানকে ১-০ ও শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারায়।

অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোল ব্যবধানে জেতেন মারিয়া মান্দা। পরের ম্যাচেই ঘটে ছন্দপতন। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তিন গোল হজম করে বড় ব্যবধানে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ রানার্স আপ হয়েই বাংলাদেশ নেপালের বিপক্ষে  সেমিফাইনালে লড়াই করে।

যদিও ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই ছন্নছাড়া ছিল চ্যাম্পিয়নরা। তারবিপরীতে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন নেপালী কন্যারা। তাতে সুযোগও আদায় করে নেন হিমালয় কন্যারা। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে দীপা শাহির নেওয়া কর্নার কিক থেকে আসা বলে বাংলাদেশের গোলকিপার প্রতিহত করলেও রক্ষা করা সম্ভবয় হয়নি। তার পুস করা বলটি নেপালের গীতা রানির সামনে পড়তেই আলতো পায়ের টোকায় বলটি বাংলাদেশের জালে জড়িয়ে যায়।

আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে পরের মিনিটেই বাংলাদেশ গোল পরিশোধের সুযোগ মিস করে মূলত যোগ্য ফিনিশিংয়ের অভাবে। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আরও একটি গোল হজম কর‍া থেকে বেচে যায় ঋতৃপর্ণারা। প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শট গো্ল কিপার মিলি আক্তারের হাত ছুয়ে গোল পোস্টে লেগে বিপদমুক্ত হয় বাংলাদেশ।

সাগরিকারা পরিশ্রমী ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও প্রত্যাশিত ফুটবল নৈপুন্য উপহার দিতে পারেনি ।পরস্পরের সাথে বোজাপোড়াটাও ছিলো না চোখে পডার মতো। এলোমেলো পাস ছিলো লক্ষণীয়। বল আদান-প্রদানে নজর কাড়তে পারেনি।  আর যে ক’টাতেই একটু বোজাপোড়া ছিলো সেখানেই সফলতা দেখাতে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

যে কারণে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।

অন্যদিকে ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় হিমালয়ের দেশটি। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা। যদিও যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় চতুর্থ দিনেই একটি সংঘবদ্ধ আক্রমন থেকে বাংলাদেশ জয়ের জন্য প্রত্যাশিত গোলটি পেয়ে যায়। এ সময় দারুণ বোজাপড়া ছিলো সামসুন্নাহার-সাগরিকার। এ সময় ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ একাদশ
মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নেপালকে হারিয়ে নারী সাফ ফুটবলের ফাইনালে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আবারো শিরোপার কাছে পৌছে গেলো বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌছে যায় লাল-সবুজ পতাকাধারীরা। যদিও শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। কিক অফের ২৩ মিনিটে গোল হজম করা বাংলাদেশকে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় ম্যাচ সমতায় ফেরায় ঋতু পর্নার অসাধারণ এক কর্ণার কিক। স্বতিতে ফিরে লাল-সুবজ শিবিরে। ম্যাচটির নির্ধারিত সময় যখন নিশ্চিত ১-১ গোল দিয়ে শেষ হবার পথে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে একটি কাউন্টার এ্যাটাক থেকে গোল করে বাংলাদেশ বিজয় ছিনিয়ে নেয়। বাংলাদেশের পক্ষে গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা। নেপালের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন গীতা রানি।

এর আগে টানা দুবার ফাইনালে এই নেপালকেই হারিয়ে বাংলাদেশ নারী সাফ ফুটবলের শিরোপা জিতেছিলো। এটি বাংলাদেশের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠা। এবার জিতলেই ঋতু পর্ণাদের হ্যাটট্রিক শিরোপা। সে মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ।

তবে এবারের টুর্ন‍ামেন্টে সাগরিকারা পারেনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে থাকতে। ফাইনালে ওঠার আগে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ১-৩ গোলে ভারতের কাছে হেরে যায়। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে নেপাল ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। গ্রুপ পর্বে তারা ভুটানকে ১-০ ও শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারায়।

অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোল ব্যবধানে জেতেন মারিয়া মান্দা। পরের ম্যাচেই ঘটে ছন্দপতন। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তিন গোল হজম করে বড় ব্যবধানে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ রানার্স আপ হয়েই বাংলাদেশ নেপালের বিপক্ষে  সেমিফাইনালে লড়াই করে।

যদিও ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই ছন্নছাড়া ছিল চ্যাম্পিয়নরা। তারবিপরীতে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন নেপালী কন্যারা। তাতে সুযোগও আদায় করে নেন হিমালয় কন্যারা। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে দীপা শাহির নেওয়া কর্নার কিক থেকে আসা বলে বাংলাদেশের গোলকিপার প্রতিহত করলেও রক্ষা করা সম্ভবয় হয়নি। তার পুস করা বলটি নেপালের গীতা রানির সামনে পড়তেই আলতো পায়ের টোকায় বলটি বাংলাদেশের জালে জড়িয়ে যায়।

আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে পরের মিনিটেই বাংলাদেশ গোল পরিশোধের সুযোগ মিস করে মূলত যোগ্য ফিনিশিংয়ের অভাবে। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আরও একটি গোল হজম কর‍া থেকে বেচে যায় ঋতৃপর্ণারা। প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শট গো্ল কিপার মিলি আক্তারের হাত ছুয়ে গোল পোস্টে লেগে বিপদমুক্ত হয় বাংলাদেশ।

সাগরিকারা পরিশ্রমী ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও প্রত্যাশিত ফুটবল নৈপুন্য উপহার দিতে পারেনি ।পরস্পরের সাথে বোজাপোড়াটাও ছিলো না চোখে পডার মতো। এলোমেলো পাস ছিলো লক্ষণীয়। বল আদান-প্রদানে নজর কাড়তে পারেনি।  আর যে ক’টাতেই একটু বোজাপোড়া ছিলো সেখানেই সফলতা দেখাতে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

যে কারণে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।

অন্যদিকে ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় হিমালয়ের দেশটি। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা। যদিও যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় চতুর্থ দিনেই একটি সংঘবদ্ধ আক্রমন থেকে বাংলাদেশ জয়ের জন্য প্রত্যাশিত গোলটি পেয়ে যায়। এ সময় দারুণ বোজাপড়া ছিলো সামসুন্নাহার-সাগরিকার। এ সময় ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ একাদশ
মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।