তবুও দলকে উষ্ণ সংবর্ধনা, একা ফিরলেন মেসি
- আপডেট সময় : ১০:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
চার বছর আগে বিশ্বকাপ জিতে ভিন্ন এক আবেগ নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন মেসিরা। এবার ঠিক তার ব্যতিক্রম। ফাইনালে স্পেনের কাছে ট্রফি হারানোর ব্যদনা নিয়ে দেশে ফিরলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দল -খবর দেশটির গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের।
ফ্লোরিডা থেকে নিজ শহর রোসারিওতে পৌঁছেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি। সেখানে পরিবারের সঙ্গে কয়েকদিন বিশ্রাম নেয়ার পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে যোগ দেবেন। তবে তিনি ঠিক কবে দলে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দলের সঙ্গে ছিলেন না সময়ের সেরা ফুটবলার মেসি। এরপরেও দেশের মাটিতে পা রাখা আর্জেন্টিনার অবশিষ্ট দলকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে একটুও কার্পুন্য করেননি আর্জেন্টাইনরা। বিমানবন্দরে তাদের গ্রেনেডিয়ার রেজিমেন্ট ‘মুচাচোস’ গানের সুরে অভ্যর্থনা জানানো হয়। ট্রফি হারার পরেও জাতীয় দলকে দেশে উষ্ণ সংবর্ধনা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়।

কাতার বিশ্বকাপের মতো আর্জেন্টাইনরা যেমনটা আশা করেছিল সে প্রত্যাবর্তনটা হয়নি।এরপরেও খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে রাস্তায় নতুন করে আনন্দের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, যখন তারা নাচছিল, গাইছিল এবং আতশবাজি ফোটাচ্ছিল। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আগেই জানিয়েছিল যে দলের কিছু সদস্য ফ্লাইটে থাকবেন না এবং স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দলের অধিনায়ক মেসিকে বিমান থেকে নামতে দেখা যায়নি।
জানা গেছে, মেসি পরিবারের সাথে দেখা করতে সরাসরি তার নিজ শহর রোজারিওতে গেছেন।
তা সত্ত্বেও, কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দলের বাকি সদস্যদের বিমানের বাইরে লাল গালিচা এবং একটি সামরিক ব্যান্ড দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
এরপর তাঁরা একটি বাসে চড়েন এবং পথিমধ্যে উন্মত্ত ভক্তদের দিকে হাত নাড়েন।টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিততে না পারলেও, “আর্জেন্টাইনরা তবুও উদযাপন করবে,” বলেন গৃহিণী মারগা লেদেজমা।
৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি মেসিকে ধন্যবাদ জানান “এত বছর ধরে আমাদের আনন্দ দেওয়ার” জন্য এবং তাকে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান; তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে, ৩৯ বছর বয়সে এমনটা করা কঠিন হতে পারে।
স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছে; কারণ এতে প্রচুর ফাউল এবং ‘আলবিসেলেস্তে’দের (আর্জেন্টিনা দল) পক্ষ থেকে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের ঘটনা দেখা গেছে।
লেদেজমা বলেন, “আমার মনে হয় তারা আমাদের সমালোচনা করে কারণ আমরা জানি কষ্ট পাওয়া কী জিনিস—আমরা উঠে দাঁড়াই, আবার পড়ে যাই, কিন্তু তবুও এগিয়ে চলি।”
অনেক সমর্থকই উল্লেখ করেছেন যে, আর্জেন্টিনার আসল বিজয় ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের সেমিফাইনাল জয়, যা মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে চলমান ও দীর্ঘস্থায়ী বিবাদের প্রেক্ষাপটে খেলা হয়েছিল। কেউ কেউ “মালভিনাস আর্জেন্টিনার” লেখা পতাকা বহন করছিলেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর খেলোয়াড়রা এই বাক্যটি লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করলে লন্ডনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যার ফলে ফিফা আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
“এই দলটি আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ করেছে, এবং এর জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। ভালো-মন্দ সব পরিস্থিতিতেই আমরা তাদের পাশে থাকব। আমি মেসিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং বলতে চাই যে সে তার সর্বস্ব দিয়ে খেলেছে,” বলেছেন ৩৬ বছর বয়সী লিওনার্দো বারিয়েন্তোস, যিনি একটি টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করেন।
২৮ বছর বয়সী মারিয়া ওর্তিজ তার দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে দলকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন এবং বলেন যে স্পেনের “জয় প্রাপ্য ছিল” কিন্তু তিনি “দলটি আমাদের যা দিয়েছে তার জন্য খুশি”।
‘ব্যথাটা অপরিসীম’
এদিকে, ৩৯ বছর বয়সে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, ২০২৬ বিশ্বকাপই হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, মেসি এখনো জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ নাও হতে পারে।
ফাইনালে হারের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন মেসি। সেখানে রৌপ্যপদক গলায় ঝোলানো একটি ছবি পোস্ট করে তিনি দলের যাত্রা, সমর্থকদের ভালোবাসা এবং নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। বার্তার শুরুতেই তিনি লেখেন, ‘এই কষ্ট অনেক বড়, এই ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগবে।’
হতাশার মাঝেও দলের অর্জনের কথা স্মরণ করেন তিনি, ‘তবে আমি অনেক ভালো স্মৃতিও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যেভাবে কঠিন ম্যাচগুলো ঘুরিয়ে দিয়েছি, সর্বস্ব দিয়ে লড়েছি—সেগুলো চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন, এই দলের পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছে।’
মেসি আরও জানান, শুধুমাত্র ফাইনালের ফল দিয়ে এই দলের মূল্যায়ন করা উচিত নয়, ‘আজ হয়তো আমাদের অর্জন উপলব্ধি করা কঠিন। কিন্তু এই দল টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে।’
পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি ৮টি গোল করেন এবং ৪টি অ্যাসিস্ট দিয়ে দলের ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশ হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।



















