ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্পেনই ফিরলো বিশ্বসেরার মুকুট

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ৭৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় বসলো স্পেন। নিউ জার্সির ঐতিহ্যবাহী মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন।

শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। ম্যাচের ১১৬তম মিনিট পর্যন্ত তারা প্রতিপক্ষের গোলে কোনো শটই নিতে পারেনি। ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হওয়ার স্বপ্নও অধরাই থেকে যায়। আর এই বিশ্বকাপে ট্রফি হারানোর মধ্যদিয়ে ৩৯ বছর বয়সে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে শেষ হলো লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়।

অন্যদিকে, স্পেন এই শিরোপার পুরোপুরি যোগ্য দাবিদার। শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক ও আধিপত্য বিস্তারকারী দল। শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট যে সঠিক দলের হাতেই উঠেছে, এ নিয়ে বিতর্কের কোন সুযোগ নেই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খুবই ছন্দময় এবং প্লেসিং, পাসিংয়ে নজর কাড়া ফুটবল খেলেছে স্পেন।

ম্যাচটি একপেশে হলেও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ফাইনালের সাক্ষী হলো বিশ্ব। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোল পাননি ওলমো-ইয়ামালরা। অতিরিক্ত সময়ে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্রাম্পকার্ড হয়ে মাঠেেআসেন ফেরান তোরেসে। এরপর ১০৬ মিনিটের মাথায় তার অবিশ্বাস্য গোলেই আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে স্পেন।  এর মাধ্যমে ২০১০ সালের পর ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফিটি নিজেদের করে নিল ইউরোপের এই পরাশক্তি।  যদিও তার আগে লাল কার্ডের কারণে দশ জন নিয়ে খেলতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।

খেলা শুরুর মুহূর্ত থেকেই স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। একাধিক গোলেরও সুযোগ পেয়েছিলো। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় স্প্যানিশরা পারেনি একাধিক গোলের সুবিধা নিতে। দশটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ গোলকিপার।

কিক অফের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়ে একের পর এক আক্রমন করে স্পেন। ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত এক প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টিনার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। স্প্যানিশদের ক্রমাগত সেই ধারালো আক্রমন তিনি একাই প্রতিহত করে ম্যাচটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বোতলবন্দী করে রাখতে সমর্থন হলেও স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা পারেনি গোলের ফায়দা তুলে নিতে। এই অর্ধে আর্জেন্টিনা পারেনি প্রতিপক্ষের গোলবারে কোন শট নিতে। ১৯৬৬ সালের পর এমন ব্যর্থতারও নতুন এক নজরি রেখেছে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় আক্রমণ বজায় রাখে স্পেন। স্পেনের নেওয়া একের পর এক ২০টি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন মার্তিনেজ। ফাইনাল ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২টি সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ টিকিয়ে রাখেন তিনি। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের (৯০+৩ মিনিট) মাথায় পাউ কিউবারসিকে মারাত্মক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেস। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতে আরো দূর্বল হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।

 এরপর ১০ জনের দল নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১০৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উড়ে আসা বল নিখুঁতভাবে ডি-বক্সের ভেতর নামিয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় নিকো উইলিয়ামস। সেখানে ওঁত পেতে থাকা বার্সেলোনা তারকা ফেরান তোরেস প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের জাদুকরী ভলিতে কেঁপে উঠে আর্জেন্টিনার জাল।  মার্তিনেজের এখানে আর কিছুই করার ছিল না। গোল উদযাপনে ফেটে পড়ে পুরো স্প্যানিশ শিবির। এছাড়া আরো তিনবার আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়েছিলেন স্প্যানিশরা ফরোয়ার্ডরা। ৯৬ মিনিটে স্পেন ভেবেছিল তারা এগিয়ে গেছে, কিন্তু গোলটি সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ, গোলের আগে স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

এরপর বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসাও ১১৩ মিনিটের সময় আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান। কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয়েছে সেই গোল।

তবে শেষের দিকে সমতায় ফিরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।  লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে বদলি ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমেওনে শট নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় মেসির টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ। তাই শেষটা তাকে চোখের পানিতে বিদায় নিতে হলো। সে সাথে বিশ্বকাপে মেসি অধ্যায়টা শেষ হয়ে গেলো। আগামীতে আর্জেন্টিনার তরীতে নাবিকে হয়ে কে আসবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্পেনই ফিরলো বিশ্বসেরার মুকুট

আপডেট সময় : ০৬:০৯:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় বসলো স্পেন। নিউ জার্সির ঐতিহ্যবাহী মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন।

শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। ম্যাচের ১১৬তম মিনিট পর্যন্ত তারা প্রতিপক্ষের গোলে কোনো শটই নিতে পারেনি। ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হওয়ার স্বপ্নও অধরাই থেকে যায়। আর এই বিশ্বকাপে ট্রফি হারানোর মধ্যদিয়ে ৩৯ বছর বয়সে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে শেষ হলো লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়।

অন্যদিকে, স্পেন এই শিরোপার পুরোপুরি যোগ্য দাবিদার। শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক ও আধিপত্য বিস্তারকারী দল। শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট যে সঠিক দলের হাতেই উঠেছে, এ নিয়ে বিতর্কের কোন সুযোগ নেই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খুবই ছন্দময় এবং প্লেসিং, পাসিংয়ে নজর কাড়া ফুটবল খেলেছে স্পেন।

ম্যাচটি একপেশে হলেও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ফাইনালের সাক্ষী হলো বিশ্ব। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোল পাননি ওলমো-ইয়ামালরা। অতিরিক্ত সময়ে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্রাম্পকার্ড হয়ে মাঠেেআসেন ফেরান তোরেসে। এরপর ১০৬ মিনিটের মাথায় তার অবিশ্বাস্য গোলেই আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে স্পেন।  এর মাধ্যমে ২০১০ সালের পর ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফিটি নিজেদের করে নিল ইউরোপের এই পরাশক্তি।  যদিও তার আগে লাল কার্ডের কারণে দশ জন নিয়ে খেলতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।

খেলা শুরুর মুহূর্ত থেকেই স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। একাধিক গোলেরও সুযোগ পেয়েছিলো। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় স্প্যানিশরা পারেনি একাধিক গোলের সুবিধা নিতে। দশটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ গোলকিপার।

কিক অফের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়ে একের পর এক আক্রমন করে স্পেন। ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত এক প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টিনার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। স্প্যানিশদের ক্রমাগত সেই ধারালো আক্রমন তিনি একাই প্রতিহত করে ম্যাচটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বোতলবন্দী করে রাখতে সমর্থন হলেও স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা পারেনি গোলের ফায়দা তুলে নিতে। এই অর্ধে আর্জেন্টিনা পারেনি প্রতিপক্ষের গোলবারে কোন শট নিতে। ১৯৬৬ সালের পর এমন ব্যর্থতারও নতুন এক নজরি রেখেছে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় আক্রমণ বজায় রাখে স্পেন। স্পেনের নেওয়া একের পর এক ২০টি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন মার্তিনেজ। ফাইনাল ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২টি সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ টিকিয়ে রাখেন তিনি। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের (৯০+৩ মিনিট) মাথায় পাউ কিউবারসিকে মারাত্মক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেস। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতে আরো দূর্বল হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।

 এরপর ১০ জনের দল নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১০৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উড়ে আসা বল নিখুঁতভাবে ডি-বক্সের ভেতর নামিয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় নিকো উইলিয়ামস। সেখানে ওঁত পেতে থাকা বার্সেলোনা তারকা ফেরান তোরেস প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের জাদুকরী ভলিতে কেঁপে উঠে আর্জেন্টিনার জাল।  মার্তিনেজের এখানে আর কিছুই করার ছিল না। গোল উদযাপনে ফেটে পড়ে পুরো স্প্যানিশ শিবির। এছাড়া আরো তিনবার আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়েছিলেন স্প্যানিশরা ফরোয়ার্ডরা। ৯৬ মিনিটে স্পেন ভেবেছিল তারা এগিয়ে গেছে, কিন্তু গোলটি সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ, গোলের আগে স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

এরপর বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসাও ১১৩ মিনিটের সময় আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান। কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয়েছে সেই গোল।

তবে শেষের দিকে সমতায় ফিরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।  লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে বদলি ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমেওনে শট নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় মেসির টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ। তাই শেষটা তাকে চোখের পানিতে বিদায় নিতে হলো। সে সাথে বিশ্বকাপে মেসি অধ্যায়টা শেষ হয়ে গেলো। আগামীতে আর্জেন্টিনার তরীতে নাবিকে হয়ে কে আসবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।