তৃতীয় স্থান লড়াইয়ে অনাগ্রহ, তবুও অনেক প্রাপ্তির অপেক্ষা
- আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপের পর্দা নেমে আসছে। আর মাত্র দুই ম্যাচ পরেই সমাপ্তি। রোববার আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ট্রফি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দীর্ঘ মাস ব্যাপী বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা। লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালদের মুখোমুখি হবার আগে আজ বাংলাদেশ সময় রাত তিনটায় তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ। এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফ্রান্স এবং হেনরি ক্যানের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড লড়বে সেরা তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে।
স্বাভাবিকভাবেই মাঠের লড়াইয়ের আগে এই ম্যাচকে ঘিরে কিছুটা আলোচনা থাকবেই। প্রশ্ন উঠেছে তাই তৃতীয় স্থান লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে কোন দল? তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা শেষে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ দশ মিনিটে হেরে ট্রফি থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। পক্ষান্তরে এমবাপ্পের ফ্রান্সকে ছোট ছোট পাসে বাক্সবন্দি করে সহজের ফাইনালের টিকিট হাতে নেয় বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
যদিও ফাইনালে উঠতে না পারায় ইংল্যান্ড দলের ফুটবলারদের এই ম্যাচে খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কোচ থমাস টুখেলের কথাতেই সেটা পরিস্কার,‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল’। তাই অনেকটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী এই ম্যাচটি।
তবে দল দুটির মধ্যে ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা বিরাজ করলেও ভিন্ন কিছু অর্জন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আর সেটি ফিফা র্যাংকিংয়ের সমীকরণ এবং নক আউটে শক্তি ও ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনায় বাড়তি র্যাংকিং পয়েন্ট বোনাস সুবিধা, যা দলগুলোর ভবিষ্যৎ গ্রুপিং ও মর্যাদার লড়াইয়ে বেশ কাজে দেবে। আর ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য এমবোপ্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে গোল পেলেই গোল্ডেন বুটের পুরস্কার অপেক্ষা করছে তার জন্য। বর্তমানে মেসিও এমবাপ্পে আটটি করে গোল করেন।
সেমিফাইনালে ওঠার পথে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্স গত মঙ্গলবার স্পেনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের সামনে একেবারেই ধরাশায়ী হয়েছে। যে কারণে ২-০ গোলে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে বুধবার আটলান্টায় আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপে হতাশাজনক পরাজয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে আরও একটি অধ্যায় যোগ করে ইংল্যান্ড। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় থ্রি লায়ন্সদের।
এখন দুই দলকেই এমন একটি ম্যাচের জন্য নিজেদের মানসিক ও শারীরিক শক্তির শেষটুকু জড়ো করতে হবে, যেটি ফুটবল বিশ্বে সাধারণভাবে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। এমন ম্যাচ সাধারণত কোনও দলই খেলতে চায় না।
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর বলছিলেন, ‘আমাদের এবং ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চায়। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ জিততে চায়, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। ফ্রান্সের তুলনায় আমাদের বিশ্রামের জন্য একদিন কম সময় মিলেছে। তবুও আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই ম্যাচটি খেলব।’
অন্যদিকে সেমিফাইনালে হারের পর দেশ্যম বলছিলেনন, ‘তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো আছে। তাই সেটি জিততে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম বা আশা করেছিলাম, সেখানে নেই। আমাদের হতাশার মাত্রা আমাদের উচ্চাকাঙ্খারই প্রতিফলন। কিন্তু এটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
সান্ত্বনা হিসেবে খুব বেশি মূল্য না থাকলেও, এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি- দুজনই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ রক্ষণভাগের বিপক্ষে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজবেন এমবাপে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের গোলসংখ্যা ছয়টি করে। হার্ড রক স্টেডিয়ামে বড় কোনো পারফরম্যান্স করলে তারাও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শক্তভাবে ফিরতে পারেন। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইনের জন্য এটি হয়তো বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচও হতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার চলতি মাসেই ৩৩ বছরে পা রাখবেন। ফলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে গোল সংখ্যার সাথে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার প্রাইজ মানি পাবে। তাদের চেয়ে দুই মিলিয়ান ইউএস ডলার কম পাবে চতুর্থস্থান দখলকারী দল। পাশাপাশি ফিফা র্যাংকিংয়ের সমীকরণও জড়িয়ে আছে এই ম্যাচের সঙ্গে। ফিফার বিশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী দল প্রতিপক্ষের শক্তি ও ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনায় বাড়তি র্যাংকিং পয়েন্ট বোনাস হিসেবে পাবে, যা দলগুলোর ভবিষ্যৎ গ্রুপিং ও মর্যাদার লড়াইয়ে বেশ কাজে দেবে।






















