তবুও তুমিই সরা মেসি
- আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / ৮৯ বার পড়া হয়েছে
কাঁদলেন মেসি,কাঁদালের মাঠ ভর্তি দর্শকদের। ম্যাচের শেষ দিকে তোরেসের গোল যেন হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছে মেসির। তাই হয়ত ম্যাচ শেষে দর্শকদের দিকে তাকাতেই ডুমরে কাঁদলেন সময়ের সেরা এই ফুটবলার।
যোগ্যদল স্পেনের কাছে ট্রফি হারাতে হয়ত দুঃখ্য নেই৷ কিন্তু তাই বলে ব্যক্তিগত কোন পুরস্কারই তার ভাগ্যে জুটবে না? এটা মেনে নিতে মেসি সমর্থকরাই শুধু নন, সমালোচকদেরও মেনে নিতে কষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক৷
আগের রাতে গোল্ডেন বুট হারালেন, আজ ফাইনালে হেরে ট্রফির পাশাপাশ গোল্ডেন বলটাও হারালেন৷ গোল্ডন বলের সম্মান পেলেন স্পেনের অধিনায়াক এবং মিডফিল্ডার রুদ্রি৷ টুর্নামের্ন্ট জুড়ে যার কৃতিত্বের পাশে নেই কোন গোল করা, গোলে যোগান দেয়ার কৃতিত্ব, কিংবা একক কোন নৈপুন্য৷
ফিফার ম্যাচ বিশ্লেষকরা রুদ্রির মধ্যে দেখতে পেয়েছেন নেতৃত্বের গুণাবলীর পাশাপাশি টুর্ণামেন্টের সবচে সফল পাস দেওয়ার দক্ষতা৷ যার সব গুণাগুণই গোটা টুর্ণামেন্ট জুড়ে দেখিয়েছেন মেসি৷ আর তাই তাকে ঘিরে টর্ণামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের প্রত্যাশা ছিল সবার ওপরে৷ কিন্তু ম্যাচ শেষে টুর্ণামেন্ট সেরার নামটি শুনে রুদ্রি নিজেও যেন ছিলেন অপ্রস্তুত৷
টুর্ণামেন্ট জুড়ে নেতৃত্বের গুণাগুণের পাশাপাশি ৮ আট গোল ও চার অ্যাসিস্টের পরেও ফিফার নির্বাচকদের চোখে আসেনি মেসির নৈপুন্য৷ নাকি ফাইনালে ব্যর্থতার এক ঝড়েই মেসির সব কৃতিত্ব মলিন হয়ে গেল!৷
নাকি মেসিকে পুরিয়ে গেছে ফিফার! নেটজেনদের কাছ থেকে ফফার দিকে ছুটে যাচ্ছে এমন সব সমালোচনার প্রশ্ন৷
অথচ কিছুদিন আগেও মেসি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আর্জেন্টিনারই শুধু নয়, ফিফার ও পোস্টার বয় ছিলেন। টুর্নামেন্টে তার টিকে থাকা মানে বিশ্বকাপের বাজার জমজমাট। টুর্ণামেন্ট জুড়ে খেলেওছিলেন নামের প্রতি সুবিচার রেখে। আর্জেন্টিনাকে আবারো টেনে তুলেছেন ফাইনালে। শুধু ফাইনালে দলটি খেলেছিল নিজেদের ছায়া হয়ে৷ এই এক ব্যর্থতায় ফাইনালের ট্রফি হাত হওয়াই স্বাভাবিক৷ কিন্তু গোল্ডেন বুল জয়ের সকল কুতিত্ব তো ছিল তার৷
মেসির নেতৃত্বে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপে ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যায় মেসির আর্জেন্টিনা। এবার ট্রফি হারালো লামিন ইয়ামেলদের স্পেনের কাছে হেরে। মাঝখানে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ট্রফিটা হাতে তুলেছিলেন মেসি।
টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠায় প্রত্যাশায় ছিলো রেকর্ড শিরোপা জিতার। কিন্তু আর্জেন্টিনা পুরো দলটিই যেন খেললো নিজেদের ছায়া হয়ে। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন নি মেসি নিজেও। স্পেনের ছন্দময় ফুটবলে বোতল বন্দী হয়ে পড়া আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ রক্ষা করতে পারেনি।
বিদায়ী ম্যাচে সব কিছু ছুটে যাওয়ার কষ্টে হতাশা ছড়িয়ে পড়াই যে স্বাভাবিক।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষের বাঁশি বাজার পর তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়াই যেন সেটাই নিশ্চিত করেছিল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন, দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেক ধরেন। সতীর্থ বা প্রতিপক্ষ কেউই তাকে সান্ত্বনা দিতে পারছিলেন না।
রানার্স-আপ মেডেল সংগ্রহের জন্য নিজেকে সামলে নেওয়ার পর সেই মুহূর্তের আবেগের চাপ ফুটবলের সর্বকালের সেরা এই খেলোয়াড়ের জন্য বড্ড বেশি হয়ে গিয়েছিল। ফলে স্পেন ট্রফি তোলার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু গ্যালারীতে থাকা দর্শকরা তাকে সান্ত্বনা দিলেন,মেসি মেসি জয়োধ্বনিতে আর করোতালিতে৷ তারা বুজাতে চেয়েছিলেন, হারলেও তুমিই সেরা মেসি৷ ফুটবলে তোমার অবদান চিরদিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব৷
মেসি হয়তো ইন্টার মায়ামির সঙ্গে খেলে যাবেন। তবে তার দেশের হয়ে আর কখনোই সর্বোচ্চ স্তরে খেলার সম্ভাবনা নেই। কারণ পরবর্তী বিশ্বকাপ যখন অনুষ্ঠিত হবে তখন তার বয়স হবে ৪৩ বছর।
এক নজরে মেসির বিশ্বকাপ
৬ বিশ্বকাপ,৩৪টি ম্যাচ (ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, ২১টি গোল (ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ)
১২টি অ্যাসিস্ট (ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি),
২৩টি জয়,৫টি ড্র, ৬টি হার
১৬ বার ম্যাচ সেরা
১টি চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২২)
২টি রানার্সআপ ফিনিশ (২০১৪, ২০২৬)



















