ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতিহাতির ঘটনায় বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ৮৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছন্দময় ফুটবল খেলে বিশ্বকাপের  ‍মুকুট ঘরে তুলেছে স্পেন। ফাইনালে তারা ডেফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হবার পর অতিরিক্ত সময়ে, ১০৬ মিনিটের সময় গোলটি করেন বদলী খেলোয়াড় ফেরান তোরেস। গোল নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।

দুই দলের লড়াইয়ে অসন্তষের দানা বেধেছে নব্বই মিনিটের যোগ করা সময়ে। আর্জেন্টিনার আক্রমন ভাগে খেলোয়াড় এন্দোজ ফার্নান্দেজ বল নিয়ে গিয়ে যেতে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার কোরাসির সাথে সংঘর্ষ লাগে। আর তাতেই কোবারসির ইন্জুরি হওয়ার অভিনয়ে পড়ে গেলে  রেফারি প্রথমে হলদু কার্ড পরে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করান ফান্দাজেকে। ক্রমাগত আক্রমনে এ সময় স্পেন এগিয়ে থাকলেও গোলের সন্ধান মিলাতে পারছিল না। তবে দশজন খেলোয়াড় হওয়ায় আর্জেন্টিনা আরো দূর্বর হয়ে পড়ে। বাকি ত্রিশ মিনিট দশজন নিয়ে লড়তে গিয়ে আর্জেন্টিনা গোল হজম করে। এই ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। ২০১০ সালের পুনরায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উচ্ছাস করতে থাকে স্প্যানিশরা।

এদিকে নব্বই মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য তেতেছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। এ নিয়ে স্প্যানিশ প্লে-মেকার দানি ওলামোর সঙ্গে বাদানুবাদ ও পারে হাতাহাতি শুরু হয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের এই হাতাহাতির ঘটনায় ফিফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।  পাশাপাশি আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো  ফার্ন্দাজের লাল কার্ডের বিষয়টিও সামনে এসেছে। -সূত্র ইংল্যান্ডের দি ডেইলি সান

স্পেনের খেলোয়াড়দের শিরোপা বিজয় উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা স্পেনেরওপর চড়াও হয় এবং এক অভূতপূর্ব  উগ্র ও সহিংস ঘটনা ঘটায়। ম্যাচ-পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা দলের আচরণ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা স্পেনের প্লে-মেকার দানি ওলমোর মুখে ঘুষি মারছেন। মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের দুই খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন এবং এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ঘুষি মারেন।

ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা রদ্রির মুখোমুখি হন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে পা চালানোর ভঙ্গি করেন। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির প্রাক্তন ডিফেন্ডার আর্জেনিটনাইন ফুটবলার নিকোলাস ওতামেন্দি অভিযোগ করেন যে, ম্যাচের আগে রেফারিদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ রদ্রি ও আইমেরিক লাপোর্তে তাঁর দলের বিরুদ্ধে কটু কথা বলেছিলেন। মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে আরও কিছু হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে, অসন্তোষ প্রকাশের জন্য হলুদ কার্ড পাওয়ার মাত্র আট মিনিট পর, অতিরিক্ত সময়ে পাউ কুবারসিকে করা এক মারাত্মক ফাউলের ​​জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হলে চেলসির এনজো ফার্নান্দেজকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
প্যারেদেস, যিনি ম্যাচের পর কোনোমতে বহিষ্কার হওয়া থেকে রক্ষা পান, দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে মাঠে নামার পর যেন এক মানব বিধ্বংসী শক্তিতে পরিণত হন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল যে প্যারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, কিন্তু ফিফা জানিয়েছে যে চূড়ান্ত বাঁশি বাজার সাথে সাথেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

এসেব ঘটনার ফলে ফিফা অভিযুক্ত খেলোয়াড় এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এ সব কিছু নির্ভর করছে রেফারিদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে।  তাতে করে আর্জেন্টিনাকে একটি বড় অঙ্কের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে এবং পারেদেসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও এই তদন্তের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতিহাতির ঘটনায় বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে আর্জেন্টিনার

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ছন্দময় ফুটবল খেলে বিশ্বকাপের  ‍মুকুট ঘরে তুলেছে স্পেন। ফাইনালে তারা ডেফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হবার পর অতিরিক্ত সময়ে, ১০৬ মিনিটের সময় গোলটি করেন বদলী খেলোয়াড় ফেরান তোরেস। গোল নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।

দুই দলের লড়াইয়ে অসন্তষের দানা বেধেছে নব্বই মিনিটের যোগ করা সময়ে। আর্জেন্টিনার আক্রমন ভাগে খেলোয়াড় এন্দোজ ফার্নান্দেজ বল নিয়ে গিয়ে যেতে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার কোরাসির সাথে সংঘর্ষ লাগে। আর তাতেই কোবারসির ইন্জুরি হওয়ার অভিনয়ে পড়ে গেলে  রেফারি প্রথমে হলদু কার্ড পরে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করান ফান্দাজেকে। ক্রমাগত আক্রমনে এ সময় স্পেন এগিয়ে থাকলেও গোলের সন্ধান মিলাতে পারছিল না। তবে দশজন খেলোয়াড় হওয়ায় আর্জেন্টিনা আরো দূর্বর হয়ে পড়ে। বাকি ত্রিশ মিনিট দশজন নিয়ে লড়তে গিয়ে আর্জেন্টিনা গোল হজম করে। এই ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। ২০১০ সালের পুনরায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উচ্ছাস করতে থাকে স্প্যানিশরা।

এদিকে নব্বই মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য তেতেছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। এ নিয়ে স্প্যানিশ প্লে-মেকার দানি ওলামোর সঙ্গে বাদানুবাদ ও পারে হাতাহাতি শুরু হয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের এই হাতাহাতির ঘটনায় ফিফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।  পাশাপাশি আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো  ফার্ন্দাজের লাল কার্ডের বিষয়টিও সামনে এসেছে। -সূত্র ইংল্যান্ডের দি ডেইলি সান

স্পেনের খেলোয়াড়দের শিরোপা বিজয় উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা স্পেনেরওপর চড়াও হয় এবং এক অভূতপূর্ব  উগ্র ও সহিংস ঘটনা ঘটায়। ম্যাচ-পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা দলের আচরণ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা স্পেনের প্লে-মেকার দানি ওলমোর মুখে ঘুষি মারছেন। মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের দুই খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন এবং এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ঘুষি মারেন।

ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা রদ্রির মুখোমুখি হন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে পা চালানোর ভঙ্গি করেন। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির প্রাক্তন ডিফেন্ডার আর্জেনিটনাইন ফুটবলার নিকোলাস ওতামেন্দি অভিযোগ করেন যে, ম্যাচের আগে রেফারিদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ রদ্রি ও আইমেরিক লাপোর্তে তাঁর দলের বিরুদ্ধে কটু কথা বলেছিলেন। মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে আরও কিছু হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে, অসন্তোষ প্রকাশের জন্য হলুদ কার্ড পাওয়ার মাত্র আট মিনিট পর, অতিরিক্ত সময়ে পাউ কুবারসিকে করা এক মারাত্মক ফাউলের ​​জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হলে চেলসির এনজো ফার্নান্দেজকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
প্যারেদেস, যিনি ম্যাচের পর কোনোমতে বহিষ্কার হওয়া থেকে রক্ষা পান, দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে মাঠে নামার পর যেন এক মানব বিধ্বংসী শক্তিতে পরিণত হন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল যে প্যারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, কিন্তু ফিফা জানিয়েছে যে চূড়ান্ত বাঁশি বাজার সাথে সাথেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

এসেব ঘটনার ফলে ফিফা অভিযুক্ত খেলোয়াড় এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এ সব কিছু নির্ভর করছে রেফারিদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে।  তাতে করে আর্জেন্টিনাকে একটি বড় অঙ্কের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে এবং পারেদেসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও এই তদন্তের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।