ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী জরিপ, সানেমের চোখে তরুণদের কাছে বিএনপি এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ২১০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষনার পরেই শুরু হয়ে যায় নির্বচনী জরিপ। অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারীর মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের ঘোষনা দেয়। এই নিয়ে নানা মতভেদ থাকলেও ভিতরে ভিতরে সব কয়টি দল নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কোন দল কতোটা এগিয়ে আছে এ নিয়ে মাঠ জরিপও থেমে নেই। অপরাধীর কাঠগড়ায় থাকায় এবারের নির্বাচনী যুদ্ধে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে না। টানা সতের বছর ভোট বিহীন এক তরফা নির্বাচনের খেসারত হিসেবে দেশ থেকে আওয়ামী লীগ প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যদিও দেশে চলছে তার বিভিন্ন অপরাধের বিচার কার্যক্রম। বিভিন্ন হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ দলের নেতা কর্মীরা  সাজা প্রাপ্ত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি’র জন্য নির্বাচনী মাঠ অনেকটা খালি হয়ে আছে।

সে ধারনা থেকেই নির্বাচনী মাঠে সাধারণ মানুষ বিএনপিকে এগিয়ে রাখছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্বের ঘটনায় বিএনপির তৃনমূল নেতাদের জড়িয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মনে প্রচন্ড ধরনের দাগ কেটেছে। এরপরেও  তরুণদের কাছে বিএনপি এগিয়ে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ স্বীকারে। বিগত সরকারের জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু সততা এবং ন্যায়ের পথ থেকে একটু পথভ্রষ্ট হননি। তার এই ত্যাগ সাধারণ মানুষই শুধু নন, তরুণদের হৃদয়কেও ছুঁয়েছে।

নির্বাচন মুখী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি নতুন জরিপও হয়েছে। সেখানে দেখা যায় ভোটারদের বেশিরভাগই জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।  সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথভাবে পরিচালিত ‘ইউথ ইন ট্রানজিশন’ শীর্ষক জরিপে এমন তথ্য দেখা গেছে।

আজ সোমবার প্রকাশিত এ জরিপে দেশের ৮ বিভাগের গ্রাম ও শহরের ১৫-৩৫ বছর বয়সী প্রায় ২ হাজার তরুণ-তরুণীর মতামত নেওয়া হয়েছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ তরুণ ভোটার বিএনপিকে ভোট দিতে চান। ২১ দশমিক ৪৫ শতাংশ ভোটারের পছন্দের দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। এছাড়া, সদ্যগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোটার।

জরিপে অংশ নেওয়া তরুণ ভোটারদের ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে চান। তবে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে হতাশা ও অনাগ্রহ আছে।

৮২ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, তারা রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান না। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক সহিংসতা ও রাজনীতিবিদদের নৈতিকতার অভাব।

দেশের ৮ বিভাগের দুই জেলা ও প্রতিটি জেলার দুই উপজেলার তরুণ-তরুণীরা জরিপে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগের বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকট।

জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান জানান, ‘১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার উদ্দেশ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জরিপের ফলাফল শুধু তরুণ অংশগ্রহণকারীদের মতামত তুলে ধরেছে। রাজনীতির বিষয়ে এটি পুরো জনসংখ্যার বা অন্যান্য বয়সের নাগরিকদের চিত্র নয়।’

‘এ জরিপের ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত যেন ভুল ব্যাখ্যা বা বিভ্রান্তি না হয়,’ বলেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী জরিপ, সানেমের চোখে তরুণদের কাছে বিএনপি এগিয়ে

আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষনার পরেই শুরু হয়ে যায় নির্বচনী জরিপ। অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারীর মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের ঘোষনা দেয়। এই নিয়ে নানা মতভেদ থাকলেও ভিতরে ভিতরে সব কয়টি দল নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কোন দল কতোটা এগিয়ে আছে এ নিয়ে মাঠ জরিপও থেমে নেই। অপরাধীর কাঠগড়ায় থাকায় এবারের নির্বাচনী যুদ্ধে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে না। টানা সতের বছর ভোট বিহীন এক তরফা নির্বাচনের খেসারত হিসেবে দেশ থেকে আওয়ামী লীগ প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যদিও দেশে চলছে তার বিভিন্ন অপরাধের বিচার কার্যক্রম। বিভিন্ন হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ দলের নেতা কর্মীরা  সাজা প্রাপ্ত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি’র জন্য নির্বাচনী মাঠ অনেকটা খালি হয়ে আছে।

সে ধারনা থেকেই নির্বাচনী মাঠে সাধারণ মানুষ বিএনপিকে এগিয়ে রাখছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্বের ঘটনায় বিএনপির তৃনমূল নেতাদের জড়িয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মনে প্রচন্ড ধরনের দাগ কেটেছে। এরপরেও  তরুণদের কাছে বিএনপি এগিয়ে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ স্বীকারে। বিগত সরকারের জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু সততা এবং ন্যায়ের পথ থেকে একটু পথভ্রষ্ট হননি। তার এই ত্যাগ সাধারণ মানুষই শুধু নন, তরুণদের হৃদয়কেও ছুঁয়েছে।

নির্বাচন মুখী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি নতুন জরিপও হয়েছে। সেখানে দেখা যায় ভোটারদের বেশিরভাগই জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।  সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথভাবে পরিচালিত ‘ইউথ ইন ট্রানজিশন’ শীর্ষক জরিপে এমন তথ্য দেখা গেছে।

আজ সোমবার প্রকাশিত এ জরিপে দেশের ৮ বিভাগের গ্রাম ও শহরের ১৫-৩৫ বছর বয়সী প্রায় ২ হাজার তরুণ-তরুণীর মতামত নেওয়া হয়েছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ তরুণ ভোটার বিএনপিকে ভোট দিতে চান। ২১ দশমিক ৪৫ শতাংশ ভোটারের পছন্দের দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। এছাড়া, সদ্যগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোটার।

জরিপে অংশ নেওয়া তরুণ ভোটারদের ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে চান। তবে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে হতাশা ও অনাগ্রহ আছে।

৮২ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, তারা রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান না। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক সহিংসতা ও রাজনীতিবিদদের নৈতিকতার অভাব।

দেশের ৮ বিভাগের দুই জেলা ও প্রতিটি জেলার দুই উপজেলার তরুণ-তরুণীরা জরিপে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগের বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকট।

জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান জানান, ‘১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার উদ্দেশ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জরিপের ফলাফল শুধু তরুণ অংশগ্রহণকারীদের মতামত তুলে ধরেছে। রাজনীতির বিষয়ে এটি পুরো জনসংখ্যার বা অন্যান্য বয়সের নাগরিকদের চিত্র নয়।’

‘এ জরিপের ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত যেন ভুল ব্যাখ্যা বা বিভ্রান্তি না হয়,’ বলেন তিনি।