ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাসায় ডিবির অভিযান, আটক ৮৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  •    উদ্ধার গাঁজা, ইয়াবা ও মদ; আটক ২৬ নারী ও ৫৮ পুরুষ, একজন আফগান নাগরিক
  •    রাতভর হতো ডিজে পার্টি,মাদক সেবন
  •    আয়ের ৭০ শতাংশ নিতেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন।

ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বাসায় রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদকের কারবার পরিচালিত হওয়ার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাসাটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের। তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসাটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চালিয়ে বাসাটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া কনডমও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে উদ্ধার করা মাদকের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে কার কার কাছে কী পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে এবং তাঁদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসাটি ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সেখানে একজন হোস্ট ও একজন কো-হোস্টের মাধ্যমে ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, বাসাটি ভাড়া দিয়ে যে আয় হতো, তার ৭০ শতাংশ নিতেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। তবে এই আর্থিক লেনদেনের ধরন, সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত এবং আয়ের হিসাব কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ডিবির একটি সূত্রের দাবি, কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ডিআইজি তদবির করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জহিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আড়াই তলাবিশিষ্ট থ্রিপ্লেক্স বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। সেখানে মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবহার চলত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই গোয়েন্দা নজরদারির পর অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।

এয়ারবিএনবি একটি অনলাইন আবাসন ভাড়া দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা নির্দিষ্ট কক্ষ স্বল্প কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে অতিথিদের কাছে ভাড়া দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক, হোস্ট বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে কোনো আবাসন ভাড়া দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হলেই সেখানে সংঘটিত কথিত অপরাধের দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্মটির ওপর বর্তায় না; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হয়।

রাজধানীর আবাসিক এলাকায় ভাড়া দেওয়া বাসায় এমন অভিযানের ঘটনা ব্যক্তিগত আবাসন ব্যবস্থাপনা, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাসাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের স্বচ্ছতা ও তথ্যের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাসায় ডিবির অভিযান, আটক ৮৪

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  •    উদ্ধার গাঁজা, ইয়াবা ও মদ; আটক ২৬ নারী ও ৫৮ পুরুষ, একজন আফগান নাগরিক
  •    রাতভর হতো ডিজে পার্টি,মাদক সেবন
  •    আয়ের ৭০ শতাংশ নিতেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন।

ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বাসায় রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদকের কারবার পরিচালিত হওয়ার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাসাটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের। তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসাটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চালিয়ে বাসাটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া কনডমও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে উদ্ধার করা মাদকের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে কার কার কাছে কী পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে এবং তাঁদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসাটি ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সেখানে একজন হোস্ট ও একজন কো-হোস্টের মাধ্যমে ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, বাসাটি ভাড়া দিয়ে যে আয় হতো, তার ৭০ শতাংশ নিতেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। তবে এই আর্থিক লেনদেনের ধরন, সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত এবং আয়ের হিসাব কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ডিবির একটি সূত্রের দাবি, কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ডিআইজি তদবির করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জহিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আড়াই তলাবিশিষ্ট থ্রিপ্লেক্স বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। সেখানে মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবহার চলত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই গোয়েন্দা নজরদারির পর অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।

এয়ারবিএনবি একটি অনলাইন আবাসন ভাড়া দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা নির্দিষ্ট কক্ষ স্বল্প কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে অতিথিদের কাছে ভাড়া দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক, হোস্ট বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে কোনো আবাসন ভাড়া দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হলেই সেখানে সংঘটিত কথিত অপরাধের দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্মটির ওপর বর্তায় না; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হয়।

রাজধানীর আবাসিক এলাকায় ভাড়া দেওয়া বাসায় এমন অভিযানের ঘটনা ব্যক্তিগত আবাসন ব্যবস্থাপনা, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাসাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের স্বচ্ছতা ও তথ্যের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।