জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৩৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪০ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা অর্জন কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের নতুন শপথ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এ পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। জাতীয় পতাকা অর্জনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও ইউনিটগুলোর ওপর দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। এ সম্মান ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিজের সেনা পরিবারের পরিচয়ের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। ফলে ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তাঁর কাছে নতুন নয়। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর পরিচয় দীর্ঘদিনের।
পেশাগত সাফল্য ও দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পতাকা অর্জন করায় সাতটি ইউনিটকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। ইউনিটগুলো হলো—৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জন সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর জন্য গৌরবের বিষয়। এ অর্জন ধরে রাখতে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিকল্প নেই। দেশ ও জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্জনকারী ইউনিটগুলোর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সম্মাননা সেনাসদস্যদের দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে।
জাতীয় পতাকা প্রদান সামরিক বাহিনীর ইউনিটগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে আরও উন্নত পেশাগত মান বজায় রাখার দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’
মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক গৌরবজনক অধ্যায়।
আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে নিহিত। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।’





















