ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অস্ত্র বিতর্কে সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উদ্দেশ্য ছিলো স‍ৎ।মাদক মুক্ত সমাজ গড়া। যা কিনা সমাজে চরম ব্যাধি হিসাবে আবির্ভাব। ।শহরের বস্তি এলাকাগুলোতেই এই ব্যবসাটা জমজমাট এবং মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ স্থান। এর প্রভাবে দেশের তরুণ সমাজ ধ্বংসের ‍মুখে ধাবিত হচ্ছে। তাই নিজ এলাকায় মাদক মুক্তি অভিযান চালাতে গিয়ে সংসদ সদস্য ইশরাক অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে জন্মদিয়েছেন চরম বিতর্কের। তার এই অপরিপক্কতার জন্যই বিএনপিকে নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। যার ফলে মাদক অভিযানের মাত্র দুদিনের মাথায় মন্ত্রীত্ব হারাতে হলো ইশরাক হোসেনকে। দলীয় প্রধান এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে ইশরাক নিজেই মন্ত্রীত্ব পদ থেকে পদত্যাগ করলেন।

এর ফলে সরকার গঠনের মাত্র আট মাসে বিএনপি সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগের কোনোটিই তাদের নিজেদের ইচ্ছায় হয়নি, বরং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

সবশেষ আজ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

গত শনিবার, রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক। অভিযানে তার নিজের হাতে এবং সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনার সেই ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুক পেইজে প্রচার করেন ইশরাক হোসেন। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। কেবল সাধারণ মানুষের মাঝেই নয়, বরং বিএনপি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এই ঘটনায়।

৮ মাসে বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

সমালোচনার মুখে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। সেই দায়িত্ব তিনি পালন করে আসছিলেন। তবে গত দুই দিন ধরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি সেই সুযোগ দিয়েছেন।’

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে যেন প্রধানমন্ত্রীর এবং সরকারের কার্যক্রম ম্লান না হয়, সে বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে কক্ষে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী প্রবেশ করায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ভিড় বাড়লে ইশরাক মাইকে তাঁদের বাইরে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে অনেক নেতাকর্মী কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগে রোববার রাতে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে তখন তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইনসংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও সে সময় পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইশরাক নিজেই প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান।

তবে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অস্ত্র বিতর্কে সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন

আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

উদ্দেশ্য ছিলো স‍ৎ।মাদক মুক্ত সমাজ গড়া। যা কিনা সমাজে চরম ব্যাধি হিসাবে আবির্ভাব। ।শহরের বস্তি এলাকাগুলোতেই এই ব্যবসাটা জমজমাট এবং মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ স্থান। এর প্রভাবে দেশের তরুণ সমাজ ধ্বংসের ‍মুখে ধাবিত হচ্ছে। তাই নিজ এলাকায় মাদক মুক্তি অভিযান চালাতে গিয়ে সংসদ সদস্য ইশরাক অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে জন্মদিয়েছেন চরম বিতর্কের। তার এই অপরিপক্কতার জন্যই বিএনপিকে নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। যার ফলে মাদক অভিযানের মাত্র দুদিনের মাথায় মন্ত্রীত্ব হারাতে হলো ইশরাক হোসেনকে। দলীয় প্রধান এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে ইশরাক নিজেই মন্ত্রীত্ব পদ থেকে পদত্যাগ করলেন।

এর ফলে সরকার গঠনের মাত্র আট মাসে বিএনপি সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগের কোনোটিই তাদের নিজেদের ইচ্ছায় হয়নি, বরং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

সবশেষ আজ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

গত শনিবার, রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক। অভিযানে তার নিজের হাতে এবং সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনার সেই ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুক পেইজে প্রচার করেন ইশরাক হোসেন। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। কেবল সাধারণ মানুষের মাঝেই নয়, বরং বিএনপি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এই ঘটনায়।

৮ মাসে বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

সমালোচনার মুখে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। সেই দায়িত্ব তিনি পালন করে আসছিলেন। তবে গত দুই দিন ধরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি সেই সুযোগ দিয়েছেন।’

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে যেন প্রধানমন্ত্রীর এবং সরকারের কার্যক্রম ম্লান না হয়, সে বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে কক্ষে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী প্রবেশ করায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ভিড় বাড়লে ইশরাক মাইকে তাঁদের বাইরে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে অনেক নেতাকর্মী কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগে রোববার রাতে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে তখন তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইনসংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও সে সময় পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইশরাক নিজেই প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান।

তবে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।