ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নতুন কুড়ি স্পোর্টসে মিললো ৪০ জন ভবিষ্যত তারকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের তৃণমূলের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে আনার স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো। দেড় লাখেরও বেশি প্রতিযোগীর দীর্ঘ লড়াই শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর প্রথম আসর থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেরা ৪০ জন ভবিষ্যৎ তারকাকে।

বিকেএসপির আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার সমন্বয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই তরুণ অ্যাথলেটরাই আগামী দিনে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ওড়াবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম আসরের সফল সমাপ্তির রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ৫ নভেম্বর থেকে দেশব্যাপী ১৬ লক্ষাধিক ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে অংশ নিয়েছিল প্রায় দেড় লাখের বেশি প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ। তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিক ধাপে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৩০৬ জন সেরা খেলোয়াড়কে নির্বাচন করে, যাদের পরবর্তীতে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের বিশেষ আবাসিক ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়। ক্যাম্প শেষে অ্যাথলেটদের সার্বিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে চূড়ান্তভাবে এই সেরা ৪০ জনকে বিকেএসপির দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের প্রথম পর্বের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪০ জনের বাইরে থাকা বাকি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পাশাপাশি তাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রোববার বিকেলে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী তাদের এই আশার বাণী শোনান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সসীমার পাশাপাশি ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী যেসব খেলোয়াড় বয়স বা অন্যান্য কারণে এই দফায় সুযোগ পায়নি, তাদেরকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলানোর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে তুলে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করা হবে। প্রায় ১৬ লক্ষ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া দ্বিতীয় আসরে আরও বড় পরিসরে—ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আবারও বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ার ও নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, এবারের বাছাইয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে তরুণীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে। ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১০ জন উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন মেয়ে এবং তিনজন ছেলে। কাবাডিতে দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের জন্য নির্বাচিত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই মেয়ে। ফুটবলেও একই চিত্র দেখা গেছে, সুযোগ পাওয়া পাঁচজনের চারজন মেয়ে এবং একজন ছেলে।

সাঁতার, জুডো এবং উশু—এই তিনটি ভিন্ন খেলায় দুইজন করে প্রতিভাবান অ্যাথলেট দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে কারাতে এবং তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় সেরা দক্ষতা দেখিয়ে বিকেএসপিতে জায়গা করে নিয়েছেন তিনজন করে মোট ছয়জন ক্রীড়াবিদ। অ্যাথলেটিক্সে চারজন এবং ব্যাডমিন্টনে তিনজনের দলটিও বিকেএসপির আধুনিক সুবিধার অধীনে নিয়মিত অনুশীলন ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিপুল প্রতিযোগীর ভিড় থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা এই তরুণ অ্যাথলেটরা এখন বিকেএসপির বিশ্বমানের কাঠামোর অধীনে নিজেদের গড়ে তুলবেন। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের আশা, শিক্ষা ও ক্রীড়ার এই সমন্বিত সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরবেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নতুন কুড়ি স্পোর্টসে মিললো ৪০ জন ভবিষ্যত তারকা

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের তৃণমূলের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে আনার স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো। দেড় লাখেরও বেশি প্রতিযোগীর দীর্ঘ লড়াই শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর প্রথম আসর থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেরা ৪০ জন ভবিষ্যৎ তারকাকে।

বিকেএসপির আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার সমন্বয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই তরুণ অ্যাথলেটরাই আগামী দিনে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ওড়াবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম আসরের সফল সমাপ্তির রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ৫ নভেম্বর থেকে দেশব্যাপী ১৬ লক্ষাধিক ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে অংশ নিয়েছিল প্রায় দেড় লাখের বেশি প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ। তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিক ধাপে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৩০৬ জন সেরা খেলোয়াড়কে নির্বাচন করে, যাদের পরবর্তীতে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের বিশেষ আবাসিক ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়। ক্যাম্প শেষে অ্যাথলেটদের সার্বিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে চূড়ান্তভাবে এই সেরা ৪০ জনকে বিকেএসপির দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের প্রথম পর্বের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪০ জনের বাইরে থাকা বাকি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পাশাপাশি তাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রোববার বিকেলে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী তাদের এই আশার বাণী শোনান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সসীমার পাশাপাশি ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী যেসব খেলোয়াড় বয়স বা অন্যান্য কারণে এই দফায় সুযোগ পায়নি, তাদেরকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলানোর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে তুলে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করা হবে। প্রায় ১৬ লক্ষ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া দ্বিতীয় আসরে আরও বড় পরিসরে—ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আবারও বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ার ও নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, এবারের বাছাইয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে তরুণীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে। ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১০ জন উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন মেয়ে এবং তিনজন ছেলে। কাবাডিতে দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের জন্য নির্বাচিত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই মেয়ে। ফুটবলেও একই চিত্র দেখা গেছে, সুযোগ পাওয়া পাঁচজনের চারজন মেয়ে এবং একজন ছেলে।

সাঁতার, জুডো এবং উশু—এই তিনটি ভিন্ন খেলায় দুইজন করে প্রতিভাবান অ্যাথলেট দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে কারাতে এবং তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় সেরা দক্ষতা দেখিয়ে বিকেএসপিতে জায়গা করে নিয়েছেন তিনজন করে মোট ছয়জন ক্রীড়াবিদ। অ্যাথলেটিক্সে চারজন এবং ব্যাডমিন্টনে তিনজনের দলটিও বিকেএসপির আধুনিক সুবিধার অধীনে নিয়মিত অনুশীলন ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিপুল প্রতিযোগীর ভিড় থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা এই তরুণ অ্যাথলেটরা এখন বিকেএসপির বিশ্বমানের কাঠামোর অধীনে নিজেদের গড়ে তুলবেন। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের আশা, শিক্ষা ও ক্রীড়ার এই সমন্বিত সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরবেন।