সেরার মুকুটের অপেক্ষায়
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / ৫২ বার পড়া হয়েছে
১৯ নাম্বার জার্সি ৷ বয়সটাও ঠিক তাই৷ দুটোতেই সংখ্যায় কি দারুন মিল৷ শুধু কি তাই! আবার এই সংখ্যাটির সাথে গ্রেট ফুটবলার মেসির সাথেও যে একটি সম্পর্ক মিশে আছে! বলছি ক্যারিয়ারের শুরুতেই সাফল্যের ঝুড়িতে দুই সর্বোচ্চ ট্রফি জমা রাখা বর্তমান ফুবলের এক ওয়ান্ডার বয়ের রুপ কথার গল্প৷ নাম তার লামিন ইয়ামাল৷
বয়সটা সবে ১৯। কৈশোরের চপলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি তার। অথচ এই বয়সেই ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুই শিরোপার গল্পে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই জিতেছিলেন ইউরো, আর এবার উঁচিয়ে ধরলেন ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফিটি।
সেটি আবার ১৯ বছর আগে কোলে চড়া মেসিকে হারিয়ে৷ কে জানত সে দিনের কোলের শিশুটি চলমান বিশ্ব ফুটবলের বিস্ময়কর বালক হয়ে ওঠবে? বলছি স্পেনের লামিনে ইয়ামালের রুপ কথার গল্প৷
যে বয়সে ইয়ামালে বিশ্বের সেরা দুটি ট্রফি জিতেছেন সে বয়সে গ্রেট ফুটবলার মেসি বা রোনালদোরা ছুতেও পারে নি৷
সত্যি বলতে কি, বয়সের সাথে তার জার্সির নাম্বার আর প্রাপ্তিতে ১৯ সংখ্যাটির দারুন সখ্যতা৷ এই বয়সেই প্রিয় আইডল মেসিকে হারিয়ে ইয়ামাল এখন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথার পরার অপেক্ষায়৷ ব্যালন ডি অর পুরস্কারও কি পেয়ে যাবেন ইয়ামালে? এখানেও প্রতিযোগিতাটা তার মেসির সাথে৷
তবে ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় ব্যালন ডি অর পুরস্কার নিয়ে হয়ত ততটা আগ্রহের ডানা গজাবেনা মেসির৷
ক্যারিয়ারের শোকেসে ৪১টি ট্রফি, অসংখ্য রেকর্ড আর ব্যালন ডি’অর—২০২২ সালের আগে মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে কোন কিছুরই অভাব ছিল না৷ কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কথাই ধরুন, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে জেতেননি এমন কিছু নেই। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে এক হাজার গোলের প্রায চুড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তবুও ফুটবল আড্ডায় উঠে আসে তাদের ফুটবল ক্যারিয়ারের পূর্ণতা নিয়ে৷
সত্যি, যেন প্রাপ্তির অন্তরালেই লুকিয়ে আছে যতসব অপূর্ণতার রহস্য৷ ২০২২ সালের আগে মেসির জীবনে সবচেয়ে বড় অপূর্ণতার নাম ছিল বিশ্বকাপ। আর সেই একই অধরা স্বপ্নের পেছনে আজও ছুঁটে বেড়াচ্ছেন রোনালদো। অধরা স্বপ্ন পূরণে শেষবার চেষ্টা চালাতেই বোধহয় গুঞ্জন থাকা সত্ত্বেও বিদায়ের ঘোষণাটা দিলেন না রোনালদো।কিন্তু ফুটবলের নিয়তি বোধহয় মাঝে মাঝে রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে যাবার পর ৩৯ বছর বয়সী মেসি দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দিকে। হয়তো এটাই ছিল বিশ্বকাপ মঞ্চে তার শেষ যাত্রা। আর ঠিক সেই মুহূর্তে তাকে সান্ত্বনা দেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল, যিনি এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যাকে বলা ফুটবলের এক বিস্ময়কর বালক৷
ফাইনালে গোল আসেনি তার৷ তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাগকে তটস্থ রেখেছেন সর্বক্ষণ৷ সে সুযোগে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। এর মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে তারা। আর এই জয়ের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য আরও দৃঢ় করলো স্পেন।
আর ইয়ামালের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে ইউরো ও বিশ্বকাপ জেতা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার তিনি। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, দলের জন্য অসাধারণ পারফর্ম করেছেন এই তরুণ।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই অপরাজিত ছিলেন ইয়ামাল। দেশের হয়ে খেলা ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এখনো হারেননি তিনি। বড় টুর্নামেন্টে শুরু করা ১৩টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে তার দল। যা ইউরোপিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে অনন্য রেকর্ড।
ফাইনালে স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কৌশলী ফুটবলের বিপরীতে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও শারীরিক ফুটবলে ঝুঁকে পড়ে তারা। যা শেষ পর্যন্ত দলের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচ শেষে হতাশায় ভেঙে পড়েন মেসি। তার চোখে জল, পাশে কাঁদছেন সতীর্থরাও। এই দৃশ্য যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশ্বকাপে মেসির সোনালি অধ্যায় এখানেই শেষ।
অন্যদিকে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ও ইউরো জিতা ইয়ামাল যেন ফুটবলের সব বড় স্বপ্নই পূরণ করে ফেলেছেন। এখন সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার। ফুটবল বিশ্বও তাকিয়ে আছে এই বিস্ময়কর বালকের দিকে৷



















