‘যৌন মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে মারামারি
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি’র একটি বিতর্কিত প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দলটি চলতি বছরের শুরুতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে দেশে ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এ প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের মধ্যেই পার্লামেন্টে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশন চলাকালে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট’ পার্টির আইনপ্রণেতা তারন চাকোইয়ান বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলের নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের পরিবারের সদস্যদের প্রসঙ্গ তোলেন। বিশেষ করে তাঁর এক আত্মীয়ের ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে নারীদের কাছে ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
চাকোইয়ানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান নারেক কারাপেতিয়ান। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরে বিরোধী দলের নেতা বক্তব্য দেওয়ার মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই দলের আইনপ্রণেতারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় একে অপরকে ধাক্কা দেওয়া, ঘুষি ছোড়া এবং চেয়ার ও পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত অধিবেশনে বিরতি ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য পার্লামেন্ট ভবনে অ্যাম্বুলেন্সও ডাকা হয়।
‘যৌন মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাবটি মূলত বিরোধী দলের নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের চাচাতো ভাই সার্গিস কারাপেতিয়ানের একটি মন্তব্য থেকে আলোচনায় আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক পডকাস্টে আর্মেনিয়ার জনসংখ্যা হ্রাস ও জন্মহার নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এমন একটি মন্ত্রণালয় গঠনের ধারণা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দেশে কোনো নারী যেন যৌন অসন্তুষ্টিতে না থাকেন। জনসংখ্যা ও জন্মহারসংক্রান্ত আলোচনায় এমন মন্তব্যের পর দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
তবে বৃহস্পতিবারের পার্লামেন্ট অধিবেশনের মূল আলোচ্যসূচিতে এ ধরনের কোনো মন্ত্রণালয় গঠনের বিষয় ছিল না। অধিবেশনে মূলত দেশটির অডিট চেম্বারের একজন সদস্য নিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতার বক্তব্যে পুরোনো সেই বিতর্ক সামনে আসার পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের পর বিরোধী দলের নেতা নারেক কারাপেতিয়ান ঘটনাটিকে পার্লামেন্টের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ভিন্নমতের মানুষের মধ্যে মতবিরোধ ও সংঘাত হতে পারে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাসিনাইয়ান বলেছেন পার্লামেন্টে যে সহিংতা হয়েছে সেটির নিন্দা জানান তিনি। তবে সরকারি দলের এমপিরা যা করেছেন, ভালো করেছেন। কারণ বিরোধী দলে থেকে কেউ এমন দৃষ্টতা দেখাবে তা তারা মেনে নেবেন না।

























