ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভবিষ্যতে দেশে যেন কোনোভাবেই স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা দল ক্ষমতায় গিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ না পায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে আর কোনো দিন স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা স্বৈরাশাসকের উৎপত্তি হতে না পারে, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, যাতে তা টেকসই হয়।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্ব—‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পাহারা দেওয়ার জন্য কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ ছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা ছিল বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদী শক্তি উত্থানের মূল কারণ। যা পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল, যেখানে এ দেশের ছাত্র-জনতা একতাবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমতাসীন দলের মতামত নয়, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভা শেষে জানিয়েছিলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিরোধী দলগুলো সভায় অংশ না নিলেও লিখিতভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটি রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ তৈরির কাজ করছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ বন্ধ করা সম্ভব।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আপডেট সময় : ০৮:৪১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ভবিষ্যতে দেশে যেন কোনোভাবেই স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা দল ক্ষমতায় গিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ না পায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে আর কোনো দিন স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা স্বৈরাশাসকের উৎপত্তি হতে না পারে, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, যাতে তা টেকসই হয়।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্ব—‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পাহারা দেওয়ার জন্য কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ ছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা ছিল বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদী শক্তি উত্থানের মূল কারণ। যা পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল, যেখানে এ দেশের ছাত্র-জনতা একতাবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমতাসীন দলের মতামত নয়, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভা শেষে জানিয়েছিলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিরোধী দলগুলো সভায় অংশ না নিলেও লিখিতভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটি রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ তৈরির কাজ করছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ বন্ধ করা সম্ভব।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলা।