ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মিরপুর টেস্টে চারদিনেই বড় হার বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ম্যাচের তৃতীয় দিনেই মিরপুৃর টেস্টের গতিবিধি ছিলো অনেকটাই পরিস্কার।  টানা তিনদিন অতিথি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও বিজয়ের উল্লাস করতে পারেনি। ক্যারোবিয়ানরা শেষ ভালোটা দেখিয়ে মিরপুর টেস্ট চতুর্থ দিনেই নিজেদের করে নিয়েছে। ক্রমাগত ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি চতুর্থেদিনে ক্যাচ মিসের মহড়ায় ৮ উইকেটের পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ।

দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, মিরপুরের উইকেটে ব্যাটারদের জন্য বুঝি কিছুই নেই। জোমেল ওয়ারিকান ও রোস্টন চেজের স্পিনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। অথচ সেই একই উইকেটে ব্যাটিংয়ে নেমে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উপহার দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। সুযোগ তৈরি হলেও ফিল্ডারদের ক্যাচ মিস সেই সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ও ফিল্ডিং—দুই বিভাগেই হতাশার পারফরম্যান্সের মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩৫.১ ওভারেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। হারায় মাত্র দুই উইকেট। ৮ উইকেটের এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা।

মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে দলকে রক্ষা করেছিলেন সাদমান ইসলাম। তার সেঞ্চুরিতেই অন্তত আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং যেন সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পুরো ইনিংসে মাত্র একজন ব্যাটার হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। এই ইনিংসে তো দুই অঙ্কের দেখাই পেয়েছিলেন মোটে ৪ জন ব্যাটার।

এমন বিপর্যয়ের পর বোলারদের খুব বেশি কিছু করার ছিল না। তবুও চেষ্টা করেছিলেন তারা। সেই চেষ্টাও নষ্ট হয়েছে ক্যাচ মিস আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে। মাঝে বেরসিক বৃষ্টির হস্তক্ষেপ তো ছিলই। দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। আর চারবার রিভিউ নিয়েই আম্পায়ার্স কলের কারণে উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এর মধ্যে ভারতীয় আম্পায়ার নিতিন মেননের বিপক্ষেই বাংলাদেশের রিভিউ ছিল ৩টি। বাকি একটি ছিল অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার স্যাম নাগোস্কির বিপক্ষে।

তবে আম্পায়ার্স কল বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের পারফরম্যান্সকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই। দারুণ ব্যাটিং করেছেন জন ক্যাম্পবেল, ব্র্যান্ডন কিং আর তেজনারায়ণ চন্দ্রপল। দ্বিতীয় সেশনে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করেছে তারা। ৪.৮৩ ইকোনোমিতে রান তুলেছে তারা।

১৭০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুর ওভারটাতেই একটু কষ্ট করতে দেখা গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বাকি সময়ে সাবলীলভাবে ব্যাটিং করে গেছেন তারা। উদ্বোধনী জুটিতেই ২০.৫ ওভারে ১১২ রান তুলেন ক্যাম্পবেল আর কিং। এসময় বাংলাদেশের কাছে একটি উইকেট যেন ছিল সোনার হরিণের মতো। অবশেষে শরিফুল ইসলাম ভাঙেন এই জুটি। শরিফুলের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ক্যাম্পবেল। এর আগে ৫৫ বলে ৪৯ রান করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মিরপুর টেস্টে চারদিনেই বড় হার বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ম্যাচের তৃতীয় দিনেই মিরপুৃর টেস্টের গতিবিধি ছিলো অনেকটাই পরিস্কার।  টানা তিনদিন অতিথি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও বিজয়ের উল্লাস করতে পারেনি। ক্যারোবিয়ানরা শেষ ভালোটা দেখিয়ে মিরপুর টেস্ট চতুর্থ দিনেই নিজেদের করে নিয়েছে। ক্রমাগত ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি চতুর্থেদিনে ক্যাচ মিসের মহড়ায় ৮ উইকেটের পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ।

দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, মিরপুরের উইকেটে ব্যাটারদের জন্য বুঝি কিছুই নেই। জোমেল ওয়ারিকান ও রোস্টন চেজের স্পিনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। অথচ সেই একই উইকেটে ব্যাটিংয়ে নেমে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উপহার দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। সুযোগ তৈরি হলেও ফিল্ডারদের ক্যাচ মিস সেই সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ও ফিল্ডিং—দুই বিভাগেই হতাশার পারফরম্যান্সের মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩৫.১ ওভারেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। হারায় মাত্র দুই উইকেট। ৮ উইকেটের এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা।

মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে দলকে রক্ষা করেছিলেন সাদমান ইসলাম। তার সেঞ্চুরিতেই অন্তত আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং যেন সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পুরো ইনিংসে মাত্র একজন ব্যাটার হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। এই ইনিংসে তো দুই অঙ্কের দেখাই পেয়েছিলেন মোটে ৪ জন ব্যাটার।

এমন বিপর্যয়ের পর বোলারদের খুব বেশি কিছু করার ছিল না। তবুও চেষ্টা করেছিলেন তারা। সেই চেষ্টাও নষ্ট হয়েছে ক্যাচ মিস আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে। মাঝে বেরসিক বৃষ্টির হস্তক্ষেপ তো ছিলই। দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। আর চারবার রিভিউ নিয়েই আম্পায়ার্স কলের কারণে উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এর মধ্যে ভারতীয় আম্পায়ার নিতিন মেননের বিপক্ষেই বাংলাদেশের রিভিউ ছিল ৩টি। বাকি একটি ছিল অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার স্যাম নাগোস্কির বিপক্ষে।

তবে আম্পায়ার্স কল বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের পারফরম্যান্সকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই। দারুণ ব্যাটিং করেছেন জন ক্যাম্পবেল, ব্র্যান্ডন কিং আর তেজনারায়ণ চন্দ্রপল। দ্বিতীয় সেশনে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করেছে তারা। ৪.৮৩ ইকোনোমিতে রান তুলেছে তারা।

১৭০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুর ওভারটাতেই একটু কষ্ট করতে দেখা গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বাকি সময়ে সাবলীলভাবে ব্যাটিং করে গেছেন তারা। উদ্বোধনী জুটিতেই ২০.৫ ওভারে ১১২ রান তুলেন ক্যাম্পবেল আর কিং। এসময় বাংলাদেশের কাছে একটি উইকেট যেন ছিল সোনার হরিণের মতো। অবশেষে শরিফুল ইসলাম ভাঙেন এই জুটি। শরিফুলের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ক্যাম্পবেল। এর আগে ৫৫ বলে ৪৯ রান করেন তিনি।