বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য দানা বাঁধছে
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৫ বার পড়া হয়েছে
ভয় ছিল, আশঙ্কায় ছিলেন নিজের জীবন রক্ষায়৷ যে কারণে বিমান বাহিনীর চাকরিটাও ছেড়ে দিলেন সাবেক ফ্লাইট ল্যাপ্টেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির৷ কিন্তু অকাল মৃত্যু ঠেকাতে পারেন নি৷ বন্ধুর ডাকে ঘর থেকে বের হওয়া তাহসিফ (২৮) এর মৃতদেহ পাওয়া গেলো তুরাগ নদীতে ভাসমান৷ এই মৃত্যুর রহস্য এখন দানা বাঁধতে শুরু করেছে৷
পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। প্রতিবেদনে শরীরে কোনো জখম না থাকার কথা বলা হলেও কিছু শারীরিক লক্ষণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিচয় শনাক্তকরণ ও বর্তমান অবস্থা
নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরদেহের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই প্রাথমিকভাবে তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর খালাতো ভাই জহির হাসান এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। বর্তমানে মরদেহটি চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নেপথ্যের গুঞ্জন ও পারিবারিক দাবি
২৮ বছর বয়সি তাহসিফ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন এবং তাঁর বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সামরিক বিমানের ভিডিওটি তাহসিফই ধারণ করেছিলেন বলে দীর্ঘদিন ধরে জোর গুঞ্জন রয়েছে, যার কারণে বিমানবাহিনী থেকে তাঁর চাকরি চলে যায় বলেও আলোচনা আছে। তাহসিফের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে তিনি ‘দ্বীপ’ নামের এক বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
তদন্তের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমি এই বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। কারণ, একটা প্রাথমিক তদন্ত হতে হবে আর লাশের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। তারপর আমরা সব বিষয় জেনে কথা বলব।”
ভিডিওচিত্র ফাঁসের যোগসূত্র: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সামরিক বিমানের ভিডিও ধারণের সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবেও মন্ত্রী ময়নাতদন্ত ও প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
২. তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি
- মরদেহ মর্গে প্রেরণ: তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া তাহসিফের মরদেহটি চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটনের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
- পরিচয় শনাক্তকরণ: নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকালে মরদেহটি অজ্ঞাতনামা হিসেবে থাকলেও পকেটে থাকা সচল আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে তাঁর আত্মীয় জহির হাসান এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
- সুরতহাল পর্যবেক্ষণ: প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাতের বাহ্যিক চিহ্ন মেলেনি, তবে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ধারণা করা হলেও পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর জোর দিচ্ছে।
- নিখোঁজের সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ: পুলিশ জানতে পেরেছে যে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে তাহসিফ নিখোঁজ ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি ‘দ্বীপ’ নামের এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, যার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷























