কিশোরদের বিশ্বকাপ ফুটবলে চমক দেখাতে চায় বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
বয়সভিত্তিক ফুটবলে এবার নতুন এক বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। আঞ্চলিক পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল ফেস্টিভ্যালকে বৈশ্বিক আয়োজনে রূপ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজারবাইজানে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে ১৯১টি দেশের দল। সেখানে গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা।
‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েলস, পর্তুগাল, বুরুন্ডি, ইন্দোনেশিয়া ও ফিজি। ইউরোপের দুই পরিচিত ফুটবল শক্তি ওয়েলস ও পর্তুগালের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না বাংলাদেশ। বরং নিজেদের প্রস্তুতি ও সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দলটি।
বাংলাদেশের অধিনায়ক ফাহিম হাসান নিজেদের লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। গ্রুপে সেরা হওয়ার জন্যই লড়ব।’
প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকলেও ভয় পাচ্ছেন না ফাহিম। নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। আমরা তাদের বিপক্ষে লড়াই করব।’
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই নকআউট
ফিফার এই আয়োজনের প্রতিযোগিতাপদ্ধতিও আলাদা। ১৯১টি দেশের দলকে ৩২টি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল উঠবে নকআউট পর্বে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা দলগুলো খেলবে প্লেট পর্যায়ে। ফলে বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ শুধু ভালো খেলা নয়, গ্রুপের অন্য দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা।
এমন প্রতিযোগিতায় ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কিশোরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়েলস ও পর্তুগালের মতো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান যাচাইয়ের সুযোগ পাবে তারা। তবে গ্রুপে বুরুন্ডি, ইন্দোনেশিয়া ও ফিজিকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
২০ মিনিটের দুই অর্ধ, দিনে দুই ম্যাচ
ফেস্টিভ্যালের খেলার ধরনও প্রচলিত ফুটবল ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন। প্রতিটি ম্যাচ হবে ২০ মিনিট করে দুই অর্ধে। অর্থাৎ, মূল খেলার সময় ৪০ মিনিট। প্রতি দলে খেলবে আটজন করে ফুটবলার। আগামী ২৫ ও ২৬ অক্টোবর প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত খেলার ছন্দে আসা, গোলের সুযোগ কাজে লাগানো এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
এক দিনে দুটি ম্যাচ খেলার চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ দল। কোচ আকবর হোসেন রিদন বলেন, ‘এক দিনে দুটি খেলা থাকবে, সেটা আমাদের জানা ছিল। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রায় তিন মাস দলের অনুশীলন হয়েছে।’
দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ম্যাচের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করেছে কোচিং স্টাফ। স্বল্প সময়ের ম্যাচে ভুলের সুযোগ কম থাকায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে হবে বাংলাদেশকে। একই সঙ্গে ম্যাচের বিরতিতে খেলোয়াড়দের দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করাও হবে কোচের বড় দায়িত্ব।
কিশোরদের পাশে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
বিশ্বমঞ্চে খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের উৎসাহ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক বাফুফে ভবনে গিয়ে কিশোর ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের ফুটবলজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাঁদের অনুপ্রাণিত করেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘এই ভবন ও ফুটবল আমার অস্তিত্ব। তোমাদের মতো আমিও এরকম চেয়ারে বসতাম। তোমরাই সামনে জাতীয় দলে খেলবে। ওয়েলস, পর্তুগালের মতো দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।’
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে বয়সভিত্তিক ফুটবলকে ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা। কিশোরদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে অধিনায়ক ফাহিম দলের খেলোয়াড়দের জন্য উন্নতমানের ফুটবল বুটের প্রয়োজনের কথা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। জবাবে দলের সব খেলোয়াড়ের জন্য বুট এবং দুই গোলরক্ষকের জন্য উন্নতমানের গ্লাভস উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন আমিনুল হক। বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল করতে পারলে আরও সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়
ফিফার প্রথম বৈশ্বিক অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল ফেস্টিভ্যাল বাংলাদেশের কিশোরদের জন্য নিজেদের তুলে ধরার বড় সুযোগ। এখানে প্রতিটি ম্যাচই হবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্র। তবে বাংলাদেশের অধিনায়ক ও কোচের বক্তব্যে স্পষ্ট, দলটি শুধু অংশগ্রহণের জন্য আজারবাইজানে যাচ্ছে না; তাদের লক্ষ্য গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।
সেই লক্ষ্য অর্জনে ওয়েলস ও পর্তুগালের মতো দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্রুপের বাকি প্রতিপক্ষগুলোর বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। তিন মাসের প্রস্তুতি, অধিনায়কের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিমন্ত্রীর উৎসাহ কাজে লাগিয়ে কিশোররা কতটা এগোতে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।






















