ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্যের ঘাটতি খতিয়ে দেখছে দুই দেশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদান ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতি ছিল বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনায় তথ্যের ঘাটতি কোথায় ছিল, তা জানতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুই দেশ সফর শেষে দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশই জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী। এ অবস্থায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি কী কারণে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অবশ্যই তথ্যের ও প্রক্রিয়ার কোনো এক জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। আমরা এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষ কথাবার্তা বলছি।’

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ বা অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক। মক্কায় পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া মানুষের কাছ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে থাকলে তা দুঃখজনক। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ক্ষতিপূরণের সুযোগ নেই

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো সুযোগ পাবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, রায় কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আর সুযোগ থাকে না। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল এবং কীভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খুঁজে বের করা।

দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁদের পরিচয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিদেশে কোনো অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিক জড়িত থাকলে কনস্যুলার যোগাযোগ ও সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সৌদি আরবের আইন মানার ওপর গুরুত্ব

সৌদি আরবে অপরাধের অভিযোগ ও দেশটির স্থানীয় আইন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র স্থানগুলোতে মানুষ ধর্মীয় ও পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সৌদি আরবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশটির স্থানীয় আইন মেনে চলতে হয়।

তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদান ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতির বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা এবং দুই দেশের আলোচনায় উঠে আসা তথ্যের ওপর। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হলেও ঠিক কোন পর্যায়ে ঘাটতি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্যের ঘাটতি খতিয়ে দেখছে দুই দেশ

আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদান ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতি ছিল বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনায় তথ্যের ঘাটতি কোথায় ছিল, তা জানতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুই দেশ সফর শেষে দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশই জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী। এ অবস্থায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি কী কারণে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অবশ্যই তথ্যের ও প্রক্রিয়ার কোনো এক জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। আমরা এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষ কথাবার্তা বলছি।’

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ বা অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক। মক্কায় পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া মানুষের কাছ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে থাকলে তা দুঃখজনক। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ক্ষতিপূরণের সুযোগ নেই

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো সুযোগ পাবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, রায় কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আর সুযোগ থাকে না। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল এবং কীভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খুঁজে বের করা।

দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁদের পরিচয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিদেশে কোনো অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিক জড়িত থাকলে কনস্যুলার যোগাযোগ ও সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সৌদি আরবের আইন মানার ওপর গুরুত্ব

সৌদি আরবে অপরাধের অভিযোগ ও দেশটির স্থানীয় আইন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র স্থানগুলোতে মানুষ ধর্মীয় ও পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সৌদি আরবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশটির স্থানীয় আইন মেনে চলতে হয়।

তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদান ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতির বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা এবং দুই দেশের আলোচনায় উঠে আসা তথ্যের ওপর। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হলেও ঠিক কোন পর্যায়ে ঘাটতি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।