ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অস্ট্রেলিয়া সংবাদ মাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের আলোচনা বাংলাদেশের টেস্ট জয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এখনো পুরো একদিন বাকি। কিন্তু সে পর্যন্ত যেতে হয়নি। তার অনেক আগেই খেলা শেষ। খেলতে হয়নি চতুর্থ দিনের পুরো দুটো সেশনও। বিরতির পরেই টাইগাররা বিজয়োউল্লাসে মেতে উঠলেন।টেস্ট ক্রিকেটের এক নম্বর দলটির এমন ত্রাহি দশা পূর্বে কখনো ঘটেছে কিনা তা কেবল রেকর্ডই বলতে পারে। তবে আন্ডারডগ বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ে অসেট্রলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা বইছে দলটির উপর। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ। তার কারণও তো রয়েছে। ডারউইনে বাংলাদেশ দল যেভাবে অস্ট্রেলিয়াকে নাচিয়ে ছেড়েছে, তা যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বদলে যাওয়ার গল্প। এমন সাফল্যের প্রশংসা অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াতেও স্থান পেয়েছে …

রিকি পন্টিং :  ‘খুবই বিব্রতকর’। এই হার বলছে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে পরিবর্তনের সময় এসেছে। আমি দলের পরিবর্তনের পক্ষে নই, তবে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টপ অর্ডার নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মার্ক ওয়াহ : এই হার অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ায় এর চেয়ে তিক্ত হার হতে পারে না। যা মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর।  বিশেষ করে বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ বোলার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতির পরেও।  র‌্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য এবং অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এই ফল আরও বড় অঘটন।

ম্যাথিউ হেইডেন : অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামোর দেশে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়। তবে নতুন খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ম্যাচ-ফিট ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে, নাকি প্রতিভাবান তরুণদের; সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমি মনে করি ট্রাভিস হেডকে আবার পাঁচ নম্বরে ফিরিয়ে নেয়া যেতে পারে।ওপেনিং হেডের সেরা জায়গা নয়। পাঁচ নম্বরেই তিনি বেশি কার্যকর। একই সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারিকে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করানো ঠিক হবে।

হাবিুবল বাশার : আমরা এর আগেও অনেক বড় বড় ম্যাচ জিতেছি। নিউজিল্যান্ডে জিতেছি একবার, অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম যখন কার্ডিফে জিতলাম। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ তো আলাদা। অস্ট্রেলিয়ায় এসে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো অবশ্যই বাংলাদেশ দলের অন্যতম বড় জয়, সম্ভবত সবচেয়ে বড়। ওরা তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১ নম্বর দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইয়ান বিশপ :  ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার। হাসান মাহমুদ পুরোপুরি ফিট থাকলে কয়েক বছর ধরেই দুর্দান্ত লাইন-লেন্থে বোলিং করে আসছেন এই পেসার। তাঁর বোলিং অ্যাকশন খুব কার্যকর ও ছন্দময়।’

ক্রিকেট বিশ্লেষক শশী থারুর:  ‘ভারতের টেস্ট দল যখন গলে বৃষ্টির সঙ্গে লড়ছে, বাংলাদেশ তখন ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তাদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে।’  বাংলাদেশের লড়াই, মানসিক শক্তি ও হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

 শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস :  বাংলাদেশের এই জয়ই প্রমাণ করে,  দ্বি-স্তরের টেস্ট ব্যবস্থার মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইসিসির পুনর্বিবেচনা করা উচিত। কারণ সুযোগ পেলে ছোট দলগুলোও যে বড় দলকে হারাতে পারে, সেটিই দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাভিচন্দ্রন আশউইন :  এই জয় আবারও প্রমাণ করেছে নির্দিষ্ট টেস্ট ভেন্যুর গুরুত্ব।

ভারতের সাবেক ওপেনার ওয়াসিম জাফর : এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় এক মুহূর্ত। তানজিদ হাসান, হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং অধিনায়ক শান্তর পারফরম্যান্সের প্রশংসশনীয়। এটি শুধু একটি জয় নয়; বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে বাংলাদেশের উন্নতির বড় বার্তা।

 ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা কেভিন পিটারসেন :  ‘বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য।’

 অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যম

টেলিগ্রাফ :  বাংলাদেশের জয় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি।  ১১টি পর্বেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত পেছনে ফেলেছে।

ফক্স স্পোর্টস : অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে বাংলাদেশর জয় একটি বড় অঘটন৷ অস্ট্রেলিয়া দলটিকে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে৷

দ্য অস্ট্রেলিয়ান : বাংলাদেশ তাদের ছাড়িয়ে গেছে৷ নতুন করে দল গঠনের সময় এসেছে৷

অর্থাৎ ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বর্তমান কাঠামো, দল নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অস্ট্রেলিয়া সংবাদ মাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের আলোচনা বাংলাদেশের টেস্ট জয়

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

এখনো পুরো একদিন বাকি। কিন্তু সে পর্যন্ত যেতে হয়নি। তার অনেক আগেই খেলা শেষ। খেলতে হয়নি চতুর্থ দিনের পুরো দুটো সেশনও। বিরতির পরেই টাইগাররা বিজয়োউল্লাসে মেতে উঠলেন।টেস্ট ক্রিকেটের এক নম্বর দলটির এমন ত্রাহি দশা পূর্বে কখনো ঘটেছে কিনা তা কেবল রেকর্ডই বলতে পারে। তবে আন্ডারডগ বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ে অসেট্রলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা বইছে দলটির উপর। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ। তার কারণও তো রয়েছে। ডারউইনে বাংলাদেশ দল যেভাবে অস্ট্রেলিয়াকে নাচিয়ে ছেড়েছে, তা যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বদলে যাওয়ার গল্প। এমন সাফল্যের প্রশংসা অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াতেও স্থান পেয়েছে …

রিকি পন্টিং :  ‘খুবই বিব্রতকর’। এই হার বলছে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে পরিবর্তনের সময় এসেছে। আমি দলের পরিবর্তনের পক্ষে নই, তবে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টপ অর্ডার নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মার্ক ওয়াহ : এই হার অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ায় এর চেয়ে তিক্ত হার হতে পারে না। যা মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর।  বিশেষ করে বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ বোলার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতির পরেও।  র‌্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য এবং অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এই ফল আরও বড় অঘটন।

ম্যাথিউ হেইডেন : অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামোর দেশে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়। তবে নতুন খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ম্যাচ-ফিট ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে, নাকি প্রতিভাবান তরুণদের; সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমি মনে করি ট্রাভিস হেডকে আবার পাঁচ নম্বরে ফিরিয়ে নেয়া যেতে পারে।ওপেনিং হেডের সেরা জায়গা নয়। পাঁচ নম্বরেই তিনি বেশি কার্যকর। একই সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারিকে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করানো ঠিক হবে।

হাবিুবল বাশার : আমরা এর আগেও অনেক বড় বড় ম্যাচ জিতেছি। নিউজিল্যান্ডে জিতেছি একবার, অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম যখন কার্ডিফে জিতলাম। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ তো আলাদা। অস্ট্রেলিয়ায় এসে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো অবশ্যই বাংলাদেশ দলের অন্যতম বড় জয়, সম্ভবত সবচেয়ে বড়। ওরা তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১ নম্বর দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইয়ান বিশপ :  ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার। হাসান মাহমুদ পুরোপুরি ফিট থাকলে কয়েক বছর ধরেই দুর্দান্ত লাইন-লেন্থে বোলিং করে আসছেন এই পেসার। তাঁর বোলিং অ্যাকশন খুব কার্যকর ও ছন্দময়।’

ক্রিকেট বিশ্লেষক শশী থারুর:  ‘ভারতের টেস্ট দল যখন গলে বৃষ্টির সঙ্গে লড়ছে, বাংলাদেশ তখন ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তাদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে।’  বাংলাদেশের লড়াই, মানসিক শক্তি ও হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

 শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস :  বাংলাদেশের এই জয়ই প্রমাণ করে,  দ্বি-স্তরের টেস্ট ব্যবস্থার মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইসিসির পুনর্বিবেচনা করা উচিত। কারণ সুযোগ পেলে ছোট দলগুলোও যে বড় দলকে হারাতে পারে, সেটিই দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাভিচন্দ্রন আশউইন :  এই জয় আবারও প্রমাণ করেছে নির্দিষ্ট টেস্ট ভেন্যুর গুরুত্ব।

ভারতের সাবেক ওপেনার ওয়াসিম জাফর : এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় এক মুহূর্ত। তানজিদ হাসান, হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং অধিনায়ক শান্তর পারফরম্যান্সের প্রশংসশনীয়। এটি শুধু একটি জয় নয়; বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে বাংলাদেশের উন্নতির বড় বার্তা।

 ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা কেভিন পিটারসেন :  ‘বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য।’

 অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যম

টেলিগ্রাফ :  বাংলাদেশের জয় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি।  ১১টি পর্বেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত পেছনে ফেলেছে।

ফক্স স্পোর্টস : অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে বাংলাদেশর জয় একটি বড় অঘটন৷ অস্ট্রেলিয়া দলটিকে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে৷

দ্য অস্ট্রেলিয়ান : বাংলাদেশ তাদের ছাড়িয়ে গেছে৷ নতুন করে দল গঠনের সময় এসেছে৷

অর্থাৎ ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বর্তমান কাঠামো, দল নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।