ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, হাসান ম্যাচ সেরা

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টেস্ট ক্রিকেটে শক্তি-সামর্থ্য, অতীত ইতিহাস, টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য, আইসিসি র‌্যাঙ্কিং এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সব বিচারেই বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। এখানেই শেষ নয়, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া বরবরই ভিন্ন এক শক্তিধর দল। ক্যাঙারুদের মাটিতে খেলতে গিয়ে বিশ্বসেরা দলগুলোও রীতিমতো দিশেহারা হয়ে যায়। আর সেখানে র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানীতে থাকা বাংলাদেশ কিনা তুলে নিয়ে ৯ উইকেটের এক নিলো দাপুটে!

মনে হতে পারে নেশা নিমগ্ন থাকা কোন গল্প শোনার মতোই। আগের দিনের পারফরম্যান্সে জেগে উঠা স্বপ্নের অঙ্ক রাতভর ঘুমের ঘোরে এদিক ওদিক মিলাতে গিয়ে যে সত্যিকারে রুপ নিবে, তা এক অবিশ্বাস্যই বটে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলেই তো জেগে উঠা স্বপ্নটাকেও অবিশ্বাস্য দেখায়। কারণ, ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে এমনি এক জেগে ‍উঠা স্বপ্নের মৃত্যু খুব কাছ থেকে দেখা হয়েছিল। রাতভর দেখা সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হয়নি।তা হাইজ্যাক হয়ে যায়, রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য সেঞ্চরিতে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ইতিহাস, অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্ট হারালেন টাইগাররা | sangbadpratidin

তবে এবার আর সেটা হতে দেয়নি টাইগাররা। ডারউইনের গর্জনটা এবার টাইগারদের মতোই দিয়েছেন শান্তবাহিনী। ম্যাচ জয়ই শুধু নয়, বাংলাদেশও ‍পারে চারদিনে ম্যাচ জিতে নিতে,তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার মাঠে,তাদের বিপক্ষে। এটা যেন কল্পনাকে হার মানায়।তবে এটা সত্য ইতিহাস গড়তে হলে অতীতের সব রেকর্ডই যে পেছনে ফেলে আসতে হয়, বাংলাদেশ ঠিক তা-ই করে দেখাল।

ডারউইনের মাঠে টানা চারদিন অসিদের অহংকার চূর্ণ করে দাপুটে ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন টাইগাররা। জিতেছে এক ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ। অবশ্য ম্যাচের তৃতীয় দিনেই নাজমুল হোসেন শান্তর দল পাচ্ছিল জয়ের সুবাস। চতুর্থ দিনে জয়টা কত দ্রুত ধরা দেয়, সেটাই ছিল দেখার বিষয়। ঐতিহাসিক জয়ের ক্ষুধায় উন্মুখ মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদরা কোনো আত্মতুষ্টিতে ভোগেননি, বরং অসিদের ছুঁড়ে দেওয়া সব চ্যালেঞ্জ দারুণভাবে মোকাবিল করে অনবদ্য এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তাতেই ধরা দিল ঐতিহাসিক সাফল্য—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ।

Mehidy Hasan Miraz finished with five wickets in the second innings, Australia vs Bangladesh, 1st Test, Darwin, 4th day, August 16, 2026

আর তাই আজকের দিনটি ( রোববার, ১৬ আগস্ট) বাংলাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকলো।আজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রানের। ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৯৮ ও ২৮৪ রান করে।বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে।

সহজ জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। কোনো রান না করেই ফিরে যান আগের ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। জস হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

সেই ধাক্কা বড় হতে দেননি অন্য ওপেনার সাদমান ইসলাম আর মুমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৫ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত জুটিতে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান এই দুজন।অপরাজিত থেকে সাদমান ৪২ বলে ২৫ রানে আর মুমিনুল ৩৯ বলে ৩০ রান করেন।

এর আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন শেষ বিকেলে জুটি গড়ে অসিদের রক্ষা করা ক্যামেরন গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারির কাঁধে দায়িত্ব ছিল সকালটা পার করার। তবে সেই সুযোগ দেননি মিরাজ। দিনের সপ্তম ওভারেই ক্যারিকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। ৭২ বলে ৩০ রান করে ক্যারি ফিরলে ভাঙে ৫৬ রনানের জুটি।

Easy Drinking Water updated their... - Easy Drinking Water

পরের দুই ব্যাটারকেও সুযোগ দেননি মিরাজ। বেউ ওয়েবস্টার উইকেটে এসে দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য হুমকি হওয়ার আগেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান মিরাজ। ২১ বলে ৫ রান করা ওয়েভস্টারের স্টাম্প ভেঙে দেন এই টাইগার অলরাউন্ডার।

এরপর রাজ্য জয়ের দায়িত্ব নিয়ে উইকেটে আসেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও তাকে সফল হতে দেননি মিরাজ। ৩২ বলে ৮ রান করা কামিন্সকে ফিরিয়েছেন সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে।

ক্যামেরনের গ্রিনের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মিচেল স্টার্ক। বিরতি থেকে ফিরে তাকে আর সেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের দারুণ এক ডিলিভারিতে পরাস্ত হয়েছেন তিনি। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ বলে ১৮ রান করে ফিরেছেন তিনি। এতে ভাঙে ৭৭ বলে ৪৩ রানের জুটি।

বাকিদের যাওয়া-আসার ভিড়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে গতকাল থেকে লড়াই করে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ানদের আশার প্রদ্বীপ হয়ে থাকা এই অলরাউন্ডার ডারউইন টেস্টে একমাত্র অস্ট্রেলিয়ার হিসেবে তুলে নেন সেঞ্চুরিও। তবে আর তাকে বেশি দূল যেতে দেননি হাসান মাহমুদ। ইনিংসের ৯৩তম ওভারে গ্রিনকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। ফেরার আগে ২০১ বলে ১০৪ রানেআসে গ্রিনের ব্যাট থেকে।

এরপর আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। দুই ওভার পরই অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন মিরাজ। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফেরান মিরাজ। ২৭ বলে ১৫ রান করেন লায়ন।
লায়নকে ফেরানোর মাধ্যমে ফাইফার তুলে নেন মিরাজ। হাসান মাহমুদের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফাইফার তুলে নিলেন তিনি। এই ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফাইফার তুলেছিলেন হাসান।

বাংলাদেশের সামনে এবার টেস্ট সিরিজ জয়ের পালা। আগামী ২২ আগস্ট, ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

অস্ট্রেলিয়াকে 'গুঁড়িয়ে' বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস) : ৫৩ ওভারে ১৯৮/১০ (হেড ২২, ওয়েদেরল্ড ২৩, লাবুশেন ১, স্মিথ ৭১, গ্রিন ১৩, কেয়ারি ১৯, ওয়েবস্টার ১২, কামিন্স ৯, স্টার্ক ১, লায়ন ৭, হেইজেলউড ৪*; তাসকিন ১৬-২-৫৫-২, হাসান মাহমুদ ১৭-৩-৫৫-৬, ইবাদত ১১-২-৩৯-২, মিরাজ ৪-০-১২-০, তাইজুল ৫-০-২৪-০)
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ১৩৮ ওভারে ৪২৬/১০ (সাদমান ২০, তামিম ১০১, মুমিনুল ৪৯, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৬৫, হাসান ১৪, তাইজুল ১৭, ইবাদত ৭, তাসকিন ১৪*; স্টার্ক ২৬-৩-৭৯-২, হ্যাজলউড ২৮-৩-৮৯-৬, গ্রিন ১০-২-৩৪-০, কামিন্স ২৭-৪-৭৫-১, লায়ন ৩১-৪-১০২-১, ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৪-০, লাবুশেন ৪-১-৪-০।
অস্ট্রেলিয়া (দ্বিতীয় ইনিংস) : ৯৫.১ ওভারে ২৮৪/১০ (ওয়েদারাল্ড ০, হেড ১৭, লাবুশেন ৩১, স্মিথ ৪৪, ক্যারি ৩০, ওয়েবস্টার ৫, কামিন্স ৮, স্টার্ক ১৮, গ্রিন ১০৪, লায়ন ১৫, হ্যাজলউড ০*; তাসকিন ১৮-৩-৬৬-‘, হাসান ১৯-৩-৫৬-৩, ইবাদত ৮-০-৩৮-০, তাইজুল ১৭-১-৫১-১, মিরাজ ৩৩.১-৬-৬৬-৫)
বাংলাদেশ (দ্বিতীয় ইনিংস) : ১৪.২ ওভারে ৫৭/১ (তামিম ০, সাদমান ২৫*, মুমিনুল ৩০*; স্টার্ক ৪-০-১৫-০, হ্যাজলউড ৩-১-৫-১, লায়ন ৫-০-২৩-০, ওয়েবস্টার ২.২-০-১২-০
ম্যাচ : বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : হাসান মাহমুদ
সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, হাসান ম্যাচ সেরা

আপডেট সময় : ০৪:৩০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

টেস্ট ক্রিকেটে শক্তি-সামর্থ্য, অতীত ইতিহাস, টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য, আইসিসি র‌্যাঙ্কিং এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সব বিচারেই বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। এখানেই শেষ নয়, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া বরবরই ভিন্ন এক শক্তিধর দল। ক্যাঙারুদের মাটিতে খেলতে গিয়ে বিশ্বসেরা দলগুলোও রীতিমতো দিশেহারা হয়ে যায়। আর সেখানে র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানীতে থাকা বাংলাদেশ কিনা তুলে নিয়ে ৯ উইকেটের এক নিলো দাপুটে!

মনে হতে পারে নেশা নিমগ্ন থাকা কোন গল্প শোনার মতোই। আগের দিনের পারফরম্যান্সে জেগে উঠা স্বপ্নের অঙ্ক রাতভর ঘুমের ঘোরে এদিক ওদিক মিলাতে গিয়ে যে সত্যিকারে রুপ নিবে, তা এক অবিশ্বাস্যই বটে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলেই তো জেগে উঠা স্বপ্নটাকেও অবিশ্বাস্য দেখায়। কারণ, ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে এমনি এক জেগে ‍উঠা স্বপ্নের মৃত্যু খুব কাছ থেকে দেখা হয়েছিল। রাতভর দেখা সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হয়নি।তা হাইজ্যাক হয়ে যায়, রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য সেঞ্চরিতে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ইতিহাস, অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্ট হারালেন টাইগাররা | sangbadpratidin

তবে এবার আর সেটা হতে দেয়নি টাইগাররা। ডারউইনের গর্জনটা এবার টাইগারদের মতোই দিয়েছেন শান্তবাহিনী। ম্যাচ জয়ই শুধু নয়, বাংলাদেশও ‍পারে চারদিনে ম্যাচ জিতে নিতে,তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার মাঠে,তাদের বিপক্ষে। এটা যেন কল্পনাকে হার মানায়।তবে এটা সত্য ইতিহাস গড়তে হলে অতীতের সব রেকর্ডই যে পেছনে ফেলে আসতে হয়, বাংলাদেশ ঠিক তা-ই করে দেখাল।

ডারউইনের মাঠে টানা চারদিন অসিদের অহংকার চূর্ণ করে দাপুটে ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন টাইগাররা। জিতেছে এক ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ। অবশ্য ম্যাচের তৃতীয় দিনেই নাজমুল হোসেন শান্তর দল পাচ্ছিল জয়ের সুবাস। চতুর্থ দিনে জয়টা কত দ্রুত ধরা দেয়, সেটাই ছিল দেখার বিষয়। ঐতিহাসিক জয়ের ক্ষুধায় উন্মুখ মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদরা কোনো আত্মতুষ্টিতে ভোগেননি, বরং অসিদের ছুঁড়ে দেওয়া সব চ্যালেঞ্জ দারুণভাবে মোকাবিল করে অনবদ্য এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তাতেই ধরা দিল ঐতিহাসিক সাফল্য—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ।

Mehidy Hasan Miraz finished with five wickets in the second innings, Australia vs Bangladesh, 1st Test, Darwin, 4th day, August 16, 2026

আর তাই আজকের দিনটি ( রোববার, ১৬ আগস্ট) বাংলাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকলো।আজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রানের। ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৯৮ ও ২৮৪ রান করে।বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে।

সহজ জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। কোনো রান না করেই ফিরে যান আগের ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। জস হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

সেই ধাক্কা বড় হতে দেননি অন্য ওপেনার সাদমান ইসলাম আর মুমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৫ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত জুটিতে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান এই দুজন।অপরাজিত থেকে সাদমান ৪২ বলে ২৫ রানে আর মুমিনুল ৩৯ বলে ৩০ রান করেন।

এর আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন শেষ বিকেলে জুটি গড়ে অসিদের রক্ষা করা ক্যামেরন গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারির কাঁধে দায়িত্ব ছিল সকালটা পার করার। তবে সেই সুযোগ দেননি মিরাজ। দিনের সপ্তম ওভারেই ক্যারিকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। ৭২ বলে ৩০ রান করে ক্যারি ফিরলে ভাঙে ৫৬ রনানের জুটি।

Easy Drinking Water updated their... - Easy Drinking Water

পরের দুই ব্যাটারকেও সুযোগ দেননি মিরাজ। বেউ ওয়েবস্টার উইকেটে এসে দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য হুমকি হওয়ার আগেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান মিরাজ। ২১ বলে ৫ রান করা ওয়েভস্টারের স্টাম্প ভেঙে দেন এই টাইগার অলরাউন্ডার।

এরপর রাজ্য জয়ের দায়িত্ব নিয়ে উইকেটে আসেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও তাকে সফল হতে দেননি মিরাজ। ৩২ বলে ৮ রান করা কামিন্সকে ফিরিয়েছেন সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে।

ক্যামেরনের গ্রিনের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মিচেল স্টার্ক। বিরতি থেকে ফিরে তাকে আর সেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের দারুণ এক ডিলিভারিতে পরাস্ত হয়েছেন তিনি। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ বলে ১৮ রান করে ফিরেছেন তিনি। এতে ভাঙে ৭৭ বলে ৪৩ রানের জুটি।

বাকিদের যাওয়া-আসার ভিড়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে গতকাল থেকে লড়াই করে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ানদের আশার প্রদ্বীপ হয়ে থাকা এই অলরাউন্ডার ডারউইন টেস্টে একমাত্র অস্ট্রেলিয়ার হিসেবে তুলে নেন সেঞ্চুরিও। তবে আর তাকে বেশি দূল যেতে দেননি হাসান মাহমুদ। ইনিংসের ৯৩তম ওভারে গ্রিনকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। ফেরার আগে ২০১ বলে ১০৪ রানেআসে গ্রিনের ব্যাট থেকে।

এরপর আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। দুই ওভার পরই অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন মিরাজ। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফেরান মিরাজ। ২৭ বলে ১৫ রান করেন লায়ন।
লায়নকে ফেরানোর মাধ্যমে ফাইফার তুলে নেন মিরাজ। হাসান মাহমুদের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফাইফার তুলে নিলেন তিনি। এই ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফাইফার তুলেছিলেন হাসান।

বাংলাদেশের সামনে এবার টেস্ট সিরিজ জয়ের পালা। আগামী ২২ আগস্ট, ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

অস্ট্রেলিয়াকে 'গুঁড়িয়ে' বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস) : ৫৩ ওভারে ১৯৮/১০ (হেড ২২, ওয়েদেরল্ড ২৩, লাবুশেন ১, স্মিথ ৭১, গ্রিন ১৩, কেয়ারি ১৯, ওয়েবস্টার ১২, কামিন্স ৯, স্টার্ক ১, লায়ন ৭, হেইজেলউড ৪*; তাসকিন ১৬-২-৫৫-২, হাসান মাহমুদ ১৭-৩-৫৫-৬, ইবাদত ১১-২-৩৯-২, মিরাজ ৪-০-১২-০, তাইজুল ৫-০-২৪-০)
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ১৩৮ ওভারে ৪২৬/১০ (সাদমান ২০, তামিম ১০১, মুমিনুল ৪৯, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৬৫, হাসান ১৪, তাইজুল ১৭, ইবাদত ৭, তাসকিন ১৪*; স্টার্ক ২৬-৩-৭৯-২, হ্যাজলউড ২৮-৩-৮৯-৬, গ্রিন ১০-২-৩৪-০, কামিন্স ২৭-৪-৭৫-১, লায়ন ৩১-৪-১০২-১, ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৪-০, লাবুশেন ৪-১-৪-০।
অস্ট্রেলিয়া (দ্বিতীয় ইনিংস) : ৯৫.১ ওভারে ২৮৪/১০ (ওয়েদারাল্ড ০, হেড ১৭, লাবুশেন ৩১, স্মিথ ৪৪, ক্যারি ৩০, ওয়েবস্টার ৫, কামিন্স ৮, স্টার্ক ১৮, গ্রিন ১০৪, লায়ন ১৫, হ্যাজলউড ০*; তাসকিন ১৮-৩-৬৬-‘, হাসান ১৯-৩-৫৬-৩, ইবাদত ৮-০-৩৮-০, তাইজুল ১৭-১-৫১-১, মিরাজ ৩৩.১-৬-৬৬-৫)
বাংলাদেশ (দ্বিতীয় ইনিংস) : ১৪.২ ওভারে ৫৭/১ (তামিম ০, সাদমান ২৫*, মুমিনুল ৩০*; স্টার্ক ৪-০-১৫-০, হ্যাজলউড ৩-১-৫-১, লায়ন ৫-০-২৩-০, ওয়েবস্টার ২.২-০-১২-০
ম্যাচ : বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : হাসান মাহমুদ
সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে