ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনটিও শান্তদের অনুকুলে

মো.বদরুল আলম চৌধুরী
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডারউইন টেস্টের প্রথম দিন থেকেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার উপর ছুরি ঘুরিয়ে আসছে বাংলাদেশ৷ আজ ম্যাচের তৃতীয় দিনেও সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন শান্ত বাহনী৷ দাপুটে ব্যাটিং বোলিংয়ে দিনশেষে এখনো ৬৭ রানে এগিয়ে টাইগাররা৷ হাতে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস পরাজয় রুখতে লড়ছেন ক্যাঙারু বাহিনী৷

ঘরের মাঠে ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার এমন বিবর্ণ চেহারা স্বাগতিক কাছে হতাশারই বটে৷ তবে তাদের চাপে রেখে এই তিনদিনে প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছেন শান্ত বাহিনী৷ বাকি দুদিন একই ধারাবাহিকতা বজায়  রাখতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় করাটা হতে পারে সময়ের  ব্যাপার৷

অথচ তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে ছিলো রাজ্যের হতাশা৷ অচেনা অস্ট্রেলিয়ান একাদশের বোলারদের সামনেই দাঁড়াতে পারেনি৷

ডারউইন টেস্টে সেই দলটি কিনা অস্ট্রেলিয়ার মুল দলটিকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে বেঁধে ফেলে ৪২৮ রান গড়ে ছুড়ে দিয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ৷ হাঁ, এটিই হচ্ছে ডারউইন টেস্টে গত তিন দিন ধরে বাংলাদেশ দলের সফলতার গল্প৷ যে গল্পের সুন্দর সমাপ্তির দ্বায়িত্ব এখন বোলারদের হাতে৷

আগামীকাল চতুর্থদিনে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস যতটা দ্রুত বেঁধে ফেলা যাবে ততটাি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল৷ যদিও আপাতত দৃষ্টিতে ইনিংস পরাজয় এড়াতে লড়ছে অস্ট্রেলিয়া৷ তৃতীয়দিন শেষে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে সংগ্রহ করেছে ১৬১ রান৷ ৮৬ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন ক্যামেরন গ্রিন আর ৫০ বলে ১৯ রানে অ্যালেক্স ক্যারি। ম্যাচের প্রথমদিনের নায়ক হাসান মাহমুদ দখলে নেন দুই উইকেট৷

তবে অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দল যারা যে কোন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর যোগ্যতা রাখে৷ ২০০৪ সালের ফতুল্লা টেস্টে এমনি একটি বিপদ পড়েও শেষ দিকে ঘুরে দাড়ায়৷ রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাড়েতিন চালকের আসনে থেকেও বাংলাদেশের সম্ভাব্য জয় ছুটে যায়৷ ম্যাচের পঞ্চমদিনে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া৷ সেদিন পরে ব্যাটিং করার সুযোগটা নিয়েছিল৷ এবার অবশ্য আগেই ব্যাটিং করছে বলে থাকছে কঠিন চ্যালেঞ্জ৷ তার উপর বাংলাদেশের লিড টপকায়ে জয়ের টার্গেট দেয়া৷

তার আগে আজ ডারউইন টেস্টের তৃতীয়দিনের ব্যাটিংয়ে সুন্দর সকাল কাটিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদরা। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করে দ্বিতীয় সেশনেও কিছুটা ব্যাটিং করে বড় লিড দিয়েছিল স্বাগতিকদের। এরপর বোলিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন টাইগাররা। প্রথমে হাসান মাহমুদদের পেস, পরে তাইজুল ইসলাম-মিরাজদের স্পিনে আটকেছে স্বাগতিকরা ব্যাটাররা। দারুণ পারফরম্যান্সে এগিয়ে থেকেই তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ৷

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নিজের প্রথম ওভারে আক্রমণে এসে ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে ফেরান হাসান মাহমুদ। রানের খাতাই খুলতে পারেননি অসি ওপেনার।

এরপর উইকেটে কিছুটা সময় কাটিয়ে হাত খুলে খেলা শুরু করেছিলেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১০ ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে এসে তাকেও ফিরিয়ে দেন হাসান। ৩৫ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন স্টিভেন স্মিথ আর মার্নাস লাবুশেন। ৫৮ বলে ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ২০ ওভারে টাইগার স্পিনারের মিডল ও লেগ স্টাম্প বরাবর ফুল লেংথের বল মিস করে বোল্ড হন লাবুশেন। এর আগে ৫৯ বলে ৩১ রান করেন তিনি।

দ্রুতই ৩ উইকেট হারানো অসিদের বাঁচানোর দায়িত্ব এসে পড়ে স্মিথের কাঁধে। এবার তিনি প্রতিরোধ গড়েন ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে। এই দুজন মিলে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে দেন উইকেটে। বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়িয়ে গড়েন ১০৬ বলে ৪৯ রানের জুটি।

অবশেষে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৮তম ওভারে স্মিথের দারুণ একটি ফিরতি ক্যাচ নেন মিরাজ। অভিজ্ঞ এই তারকাকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ফেরে বাংলাদেশ। ৮৮ বলে ৪৪ রান আসে স্মিথের ব্যাট থেকে।

শেষ বিকেলে আর কোনো উইকেট পায়নি বাংলাদেশ। গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারি মিলে নিরাপদে অস্ট্রেলিয়াকে পার করে নেন। ৯৪ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছেন তারা।

এর আগে ৪ উইকেট হাতে রেখে ৩৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান আগেরদিন ব্যাটহাতে অসি বোলারদের হতাশ করা হাসান মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত ৯২ বল খেলে ১৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এতে ভাঙে ৪৬ রানের জুটি।

এরপর উইকেটে এসে শুরুটা ভালোই করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। মিরাজের সঙ্গে ২৫ বলে ১৮ রানের জুটিও গড়েছিলেন তিনি। তবে বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি। ২৩ বলে ১৭ রান করে হ্যাজলউডের শিকার হন তিনি।

দিনের শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর সেই ধাক্কা সামলে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও স্বাগতিক বোলারদের শাসন করতে থাকেন মিরাজ। এর মাঝেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম হাফসেঞ্চুরি। দারুণ একটি সেশন কাটিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরে অবশ্য আর সুবিধা করতে পারেননি টাইগাররা। প্রথম ওভারেই হাফসেঞ্চুরি করা মিরাজের উইকেট তুলে নেন হ্যাজলউড। উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে টাইগার অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ১৫৪ বলে ৬৫ রান।

এরপর আর ৫ ওভার টিকতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাসকিন-ইবাদত হোসেনের শেষ উইকেট জুটিতে আসে ২৬ বলে ৮ রান। ১৮ বলে ৭ রান করে ইবাদত ফিরলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ দুই উইকেটই নেন হ্যাজলউড। প্রথম ইনিংসে সর্বমোট ৬ উইকেট পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি নবম বোলার হিসাবে ৩০০ উইকেটের মাইল ফলক স্পর্শ করেন৷

বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান করেছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে থেমে যায় ১৯৮ রানে। ফলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড পায় ২২৮ রানের। বাংলাদেশের ইনিংসে তানজিম তামিম ম্যাচের দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি হাঁকান, ১০২ রান করেন৷ এছাড়া শান্ত ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মেহেদী হাসান সিরাজ ৬৭ রান করেন৷

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনটিও শান্তদের অনুকুলে

আপডেট সময় : ০৪:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইন টেস্টের প্রথম দিন থেকেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার উপর ছুরি ঘুরিয়ে আসছে বাংলাদেশ৷ আজ ম্যাচের তৃতীয় দিনেও সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন শান্ত বাহনী৷ দাপুটে ব্যাটিং বোলিংয়ে দিনশেষে এখনো ৬৭ রানে এগিয়ে টাইগাররা৷ হাতে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস পরাজয় রুখতে লড়ছেন ক্যাঙারু বাহিনী৷

ঘরের মাঠে ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার এমন বিবর্ণ চেহারা স্বাগতিক কাছে হতাশারই বটে৷ তবে তাদের চাপে রেখে এই তিনদিনে প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছেন শান্ত বাহিনী৷ বাকি দুদিন একই ধারাবাহিকতা বজায়  রাখতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় করাটা হতে পারে সময়ের  ব্যাপার৷

অথচ তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে ছিলো রাজ্যের হতাশা৷ অচেনা অস্ট্রেলিয়ান একাদশের বোলারদের সামনেই দাঁড়াতে পারেনি৷

ডারউইন টেস্টে সেই দলটি কিনা অস্ট্রেলিয়ার মুল দলটিকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে বেঁধে ফেলে ৪২৮ রান গড়ে ছুড়ে দিয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ৷ হাঁ, এটিই হচ্ছে ডারউইন টেস্টে গত তিন দিন ধরে বাংলাদেশ দলের সফলতার গল্প৷ যে গল্পের সুন্দর সমাপ্তির দ্বায়িত্ব এখন বোলারদের হাতে৷

আগামীকাল চতুর্থদিনে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস যতটা দ্রুত বেঁধে ফেলা যাবে ততটাি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল৷ যদিও আপাতত দৃষ্টিতে ইনিংস পরাজয় এড়াতে লড়ছে অস্ট্রেলিয়া৷ তৃতীয়দিন শেষে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে সংগ্রহ করেছে ১৬১ রান৷ ৮৬ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন ক্যামেরন গ্রিন আর ৫০ বলে ১৯ রানে অ্যালেক্স ক্যারি। ম্যাচের প্রথমদিনের নায়ক হাসান মাহমুদ দখলে নেন দুই উইকেট৷

তবে অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দল যারা যে কোন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর যোগ্যতা রাখে৷ ২০০৪ সালের ফতুল্লা টেস্টে এমনি একটি বিপদ পড়েও শেষ দিকে ঘুরে দাড়ায়৷ রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাড়েতিন চালকের আসনে থেকেও বাংলাদেশের সম্ভাব্য জয় ছুটে যায়৷ ম্যাচের পঞ্চমদিনে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া৷ সেদিন পরে ব্যাটিং করার সুযোগটা নিয়েছিল৷ এবার অবশ্য আগেই ব্যাটিং করছে বলে থাকছে কঠিন চ্যালেঞ্জ৷ তার উপর বাংলাদেশের লিড টপকায়ে জয়ের টার্গেট দেয়া৷

তার আগে আজ ডারউইন টেস্টের তৃতীয়দিনের ব্যাটিংয়ে সুন্দর সকাল কাটিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদরা। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করে দ্বিতীয় সেশনেও কিছুটা ব্যাটিং করে বড় লিড দিয়েছিল স্বাগতিকদের। এরপর বোলিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন টাইগাররা। প্রথমে হাসান মাহমুদদের পেস, পরে তাইজুল ইসলাম-মিরাজদের স্পিনে আটকেছে স্বাগতিকরা ব্যাটাররা। দারুণ পারফরম্যান্সে এগিয়ে থেকেই তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ৷

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নিজের প্রথম ওভারে আক্রমণে এসে ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে ফেরান হাসান মাহমুদ। রানের খাতাই খুলতে পারেননি অসি ওপেনার।

এরপর উইকেটে কিছুটা সময় কাটিয়ে হাত খুলে খেলা শুরু করেছিলেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১০ ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে এসে তাকেও ফিরিয়ে দেন হাসান। ৩৫ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন স্টিভেন স্মিথ আর মার্নাস লাবুশেন। ৫৮ বলে ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ২০ ওভারে টাইগার স্পিনারের মিডল ও লেগ স্টাম্প বরাবর ফুল লেংথের বল মিস করে বোল্ড হন লাবুশেন। এর আগে ৫৯ বলে ৩১ রান করেন তিনি।

দ্রুতই ৩ উইকেট হারানো অসিদের বাঁচানোর দায়িত্ব এসে পড়ে স্মিথের কাঁধে। এবার তিনি প্রতিরোধ গড়েন ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে। এই দুজন মিলে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে দেন উইকেটে। বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়িয়ে গড়েন ১০৬ বলে ৪৯ রানের জুটি।

অবশেষে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৮তম ওভারে স্মিথের দারুণ একটি ফিরতি ক্যাচ নেন মিরাজ। অভিজ্ঞ এই তারকাকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ফেরে বাংলাদেশ। ৮৮ বলে ৪৪ রান আসে স্মিথের ব্যাট থেকে।

শেষ বিকেলে আর কোনো উইকেট পায়নি বাংলাদেশ। গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারি মিলে নিরাপদে অস্ট্রেলিয়াকে পার করে নেন। ৯৪ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছেন তারা।

এর আগে ৪ উইকেট হাতে রেখে ৩৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান আগেরদিন ব্যাটহাতে অসি বোলারদের হতাশ করা হাসান মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত ৯২ বল খেলে ১৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এতে ভাঙে ৪৬ রানের জুটি।

এরপর উইকেটে এসে শুরুটা ভালোই করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। মিরাজের সঙ্গে ২৫ বলে ১৮ রানের জুটিও গড়েছিলেন তিনি। তবে বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি। ২৩ বলে ১৭ রান করে হ্যাজলউডের শিকার হন তিনি।

দিনের শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর সেই ধাক্কা সামলে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও স্বাগতিক বোলারদের শাসন করতে থাকেন মিরাজ। এর মাঝেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম হাফসেঞ্চুরি। দারুণ একটি সেশন কাটিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরে অবশ্য আর সুবিধা করতে পারেননি টাইগাররা। প্রথম ওভারেই হাফসেঞ্চুরি করা মিরাজের উইকেট তুলে নেন হ্যাজলউড। উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে টাইগার অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ১৫৪ বলে ৬৫ রান।

এরপর আর ৫ ওভার টিকতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাসকিন-ইবাদত হোসেনের শেষ উইকেট জুটিতে আসে ২৬ বলে ৮ রান। ১৮ বলে ৭ রান করে ইবাদত ফিরলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ দুই উইকেটই নেন হ্যাজলউড। প্রথম ইনিংসে সর্বমোট ৬ উইকেট পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি নবম বোলার হিসাবে ৩০০ উইকেটের মাইল ফলক স্পর্শ করেন৷

বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান করেছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে থেমে যায় ১৯৮ রানে। ফলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড পায় ২২৮ রানের। বাংলাদেশের ইনিংসে তানজিম তামিম ম্যাচের দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি হাঁকান, ১০২ রান করেন৷ এছাড়া শান্ত ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মেহেদী হাসান সিরাজ ৬৭ রান করেন৷