টেসলা বিদ্যুৎ ডিমান্ড বাড়াচ্ছে, রাতেও চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন বদলে গেছে। রাত ১২টার পরও চাহিদা থাকছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট, যা খুবই অস্বাভাবিক। সিংহভাগই যেখানে অবৈধ সংযোগে চার্জ হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা : তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এতদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়কে পিক আওয়ার ধরা হলেও এখন মধ্যরাতেও রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ চাহিদা থাকছে। এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ ব্যাটারিচালিত যানবাহন বা ‘গরিবের টেসলা’।
তিনি বলেন, আগে আমাদের পিক আওয়ার ছিল সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত, তারপর ডিমান্ড কমে যেত। এখন রাত ১২টাতেও বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এটা কোনোদিনও হওয়ার কথা না। সারাদিন চলার পর এই বিশাল পরিমাণ ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতে একযোগে চার্জে বসানো হয়, যার ফলেই এই গ্রিড চাপ তৈরি হচ্ছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, রাতের বেলায় ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহন চার্জ করার জন্য ব্যবহৃত সংযোগগুলোর অধিকাংশই অবৈধ বা অননুমোদিত। যেসব সংযোগ দিয়ে এসব যানবাহন চার্জ দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগই অবৈধ সংযোগ। আমরা এসব অননুমোদিত সংযোগ চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব অবৈধ সংযোগ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে এবং আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।
বর্তমানে এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্প খাত ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমান সংকট সাময়িক এবং সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর ভিত্তি করে দেশটাকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবার আমদানির জন্য হলেও যদি ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা তৈরি ঠিকমতো করতো, দুটো এফএসআরইউর জায়গায় যদি ৪টি এফএসআরইউ বসাতো, তাহলে আমি মনে করি যে আজকে এই সমস্যাটা আমাদের দেখতে হতো না। আমেরিকা থেকে একটি বড় দল আসছে ইনভেস্ট করার জন্য, তারা এফএসআরইউতে ইনভেস্ট করতে চায়। তাদেরকে আমরা অনুরোধ করেছি দ্রুত আমাদের কাছে যেন ইন্টারেস্ট সম্পর্কে চিঠি দেয়।




















