ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ফ্রান্সকে হতাশ করে ষোল বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিলিয়ান এমবাপ্পের সব দম্ভ চুরমার করে দিয়ে আবারো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন৷ 

গতি, কৌশল আর নিখুঁত ফুটবলের প্রদর্শনীতে ২-০ গোলে জিতে ফরাসিদের স্তব্ধ করে দিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে স্পেনের টিকিটাকা আর আগ্রাসী ফুটবলের সামনে বোকা বনে যান এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা৷ 

এর ফলে ১৬ বছর পর আবারো স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। আমেরিকার ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল (২২ মিনিট, পেনাল্টি) এবং দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো (৫৮ মিনিট)।

 

এর আগে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল স্পেন৷ এ নিয়ে দুবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে তারা৷ অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স পুরো ম্যাচ জুড়ে চেষ্টা করেও স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্স ও রক্ষণভাগের দেওয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো৷ 

n

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তি আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে। মাঝমাঠে রদ্রি ও দানি ওলমোর দারুণ নিয়ন্ত্রণে বল পজেশনে এগিয়ে ছিল স্পেন। খেলার ২০তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী প্রথম মুহূর্তটি আসে। স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালকে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে নিজেদের ডি-বক্সে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ২২তম মিনিটে স্পট কিক থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জাল পাঠান মিকেল ওইয়ারসাবাল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন। 

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৩০ মিনিটে ফরাসি শিবিরে বড় ধাক্কা লাগে, চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তাদের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে এমবাপের গতিময় কিছু আক্রমণ স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কিউবারসি ও লাপোর্তে দক্ষতার সাথে রুখে দিলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন৷ 

ম্যাচে ফেরার প্রত্যাশায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম মাঝমাঠে পরিবর্তন আনেন। তবে স্পেনের হাই-প্রেসিং ফুটবল তাদের পরিকল্পনা সফল হতে দেয়নি। খেলার ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর সহায়তায় ফ্রান্সের ডি-বক্সের বাইরে বল পান ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। সেখান থেকে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত বুলেট শটে বল জালে জড়ান তিনি।

২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ফরাসিদের ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে হয়। ম্যাচের শেষভাগে উসমান দেম্বেলে এবং এমবাপে বেশ কিছু প্রচেষ্টা চালালেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্স ফরাসিদের কোনো সুযোগই দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই স্প্যানিশ শিবিরে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
এই জয়ের মাধ্যমে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে থাকা স্পেন জাতীয় ফুটবল দল ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি অপরাজিত থাকার এক দুর্দান্ত রেকর্ড বজায় রাখল। পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য বিস্তারকারী ফুটবল খেলে স্পেন প্রমাণ করেছে তারা এবার ট্রফি জয়ের প্রধান দাবিদার।

অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপের মতো বিশ্বমানের তারকা থাকা সত্ত্বেও ফরাসিদের আক্রমণভাগের সমন্বয়হীনতা এবং রক্ষণভাগের অসতর্কতা তাদের বিদায়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৬ বছর পর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চের ফাইনালে ওঠা স্পেন এখন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায়৷ 


নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফ্রান্সকে হতাশ করে ষোল বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

আপডেট সময় : ০৩:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

কিলিয়ান এমবাপ্পের সব দম্ভ চুরমার করে দিয়ে আবারো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন৷ 

গতি, কৌশল আর নিখুঁত ফুটবলের প্রদর্শনীতে ২-০ গোলে জিতে ফরাসিদের স্তব্ধ করে দিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে স্পেনের টিকিটাকা আর আগ্রাসী ফুটবলের সামনে বোকা বনে যান এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা৷ 

এর ফলে ১৬ বছর পর আবারো স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। আমেরিকার ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল (২২ মিনিট, পেনাল্টি) এবং দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো (৫৮ মিনিট)।

 

এর আগে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল স্পেন৷ এ নিয়ে দুবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে তারা৷ অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স পুরো ম্যাচ জুড়ে চেষ্টা করেও স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্স ও রক্ষণভাগের দেওয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো৷ 

n

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তি আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে। মাঝমাঠে রদ্রি ও দানি ওলমোর দারুণ নিয়ন্ত্রণে বল পজেশনে এগিয়ে ছিল স্পেন। খেলার ২০তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী প্রথম মুহূর্তটি আসে। স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালকে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে নিজেদের ডি-বক্সে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ২২তম মিনিটে স্পট কিক থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জাল পাঠান মিকেল ওইয়ারসাবাল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন। 

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৩০ মিনিটে ফরাসি শিবিরে বড় ধাক্কা লাগে, চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তাদের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে এমবাপের গতিময় কিছু আক্রমণ স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কিউবারসি ও লাপোর্তে দক্ষতার সাথে রুখে দিলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন৷ 

ম্যাচে ফেরার প্রত্যাশায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম মাঝমাঠে পরিবর্তন আনেন। তবে স্পেনের হাই-প্রেসিং ফুটবল তাদের পরিকল্পনা সফল হতে দেয়নি। খেলার ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর সহায়তায় ফ্রান্সের ডি-বক্সের বাইরে বল পান ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। সেখান থেকে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত বুলেট শটে বল জালে জড়ান তিনি।

২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ফরাসিদের ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে হয়। ম্যাচের শেষভাগে উসমান দেম্বেলে এবং এমবাপে বেশ কিছু প্রচেষ্টা চালালেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্স ফরাসিদের কোনো সুযোগই দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই স্প্যানিশ শিবিরে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
এই জয়ের মাধ্যমে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে থাকা স্পেন জাতীয় ফুটবল দল ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি অপরাজিত থাকার এক দুর্দান্ত রেকর্ড বজায় রাখল। পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য বিস্তারকারী ফুটবল খেলে স্পেন প্রমাণ করেছে তারা এবার ট্রফি জয়ের প্রধান দাবিদার।

অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপের মতো বিশ্বমানের তারকা থাকা সত্ত্বেও ফরাসিদের আক্রমণভাগের সমন্বয়হীনতা এবং রক্ষণভাগের অসতর্কতা তাদের বিদায়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৬ বছর পর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চের ফাইনালে ওঠা স্পেন এখন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায়৷