বেলিংহামের জোড়া গোলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / ৭১ বার পড়া হয়েছে
খেলার শেষ বাশি বেজে উঠতেই ইংল্যান্ড শিবিরে উল্লাস। দীর্ঘদিন পর আধুনিক ফুটবলের জনক খ্যাত ইংলিশরা আবারো উঠলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। তাদের এই বিজয়ের উল্লাসে মাতিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। তার জোড়া গোলেই পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড শেষ ২-১ গোলে নরওয়েকে পরাজিত করে।
পক্ষান্তরে ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। ম্যাচটির তারকা ছিলেন হালান্ড। কিন্তু আজ রোববার কোয়ার্টারে সেই হালান্ডই ছিলেন নিষ্প্রভ। উল্টো তার অপ্রয়োজনীয় এক ফাউলের কারণে নরওয়ের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। তা না হয় ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন রুপ ধারণ করার সুযোগটা ছিলো অনেকটা।
যদিও শুরু থেকেই ছন্দময় ফুটবল খেলে একের পর এক আক্রমনের পসরা তৈরি করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে ৩৬ মিনিটে থমাস টুখেলের দল গোল হজম করে বসে। বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দারুণ এক শটে দূরের পোস্টে গোল করেছেন নরওয়ে ফরোয়ার্ড আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মূহুর্তে নরওয়ের লিড ভেঙে বিরতির আগেই সমতায় ফিরল ইংল্যান্ড বিরতির আগে যোগ করা সময়ে সেই গোল শোধ করেছেন রিয়াল জুড বেলিংহ্যাম। ১-১ সমতায় রেখে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হয়।
এরপর আক্রমন পাল্টা-আক্রমনে দুদলই বেশ কিছু সুযোগ পেলেও এমন ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ড বিজয়ের পথ খুঁজে পায় সেই বেলিংহামের কল্যাণে। ৯৩ মিনিটের সময় ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। যে ব্যবধানটি শেষ পর্যন্ত বিজয় উদযাপন করেন ইংলিশরা। ২-১ গোলের বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের শীর্ষরা।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে খেলার শুরু থেকে ছন্দময় ইংল্যান্ড। অনবরত আক্রমণে উঠলেও অবশ্য সেসব কার্যকরী ছিল না। বিপরীতে নরওয়েও মাঝেমধ্যে হানা দিচ্ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণে। তবে আর্লিন হালান্ড ঝুঁকি তৈরি করতে পারছিলেন না ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৮তম ম্যাচ খেলতে নামা গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে।
ধারার বিপরীতে নরওয়েই ম্যাচে প্রথম গোল করল। যদিও মাঝমাঠ পেরিয়ে ইংল্যান্ডের বক্সের কাছে বার্গে হ্যারি কেইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বল দখলের পর ফাউলের দাবি উঠেছিল। তবে তার পা বলে আগে স্পর্শ করায় সম্ভবত সেটি রিভিউ করার প্রয়োজন মনে হয়নি রেফারির। বার্গে থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পিকফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে দূরের পোস্ট ঘেঁষে জাল কাঁপান শেলদেরুপ।
৪৫ মিনিটে অতিরিক্ত ৪ মিনিট দেওয়া হয়। দ্বিতীয় মিনিটেই অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল নিয়ে কয়েকজনের বাধা এড়িয়ে বেলিংহ্যাম ডি-বক্সে ঢুকে নরওয়ে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান। ১১ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। এরপর বিরতির আগমুহূর্তে ইংল্যান্ডকে লিড এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন, তবে সেটি অফসাইডে কাটা পড়ে।
বিরতির পর দু’দলই আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলা উপহার দেয়। এতে করে দুটি দলেরই গোলের সুযোগ তৈরি হলেও মিস হয়ে যায়। কিন্তু গোলবারে নিশানা খুঁজে পায়নি কেউ। এরই মধ্যে খেলার ৫৭ মিনিটে নরওয়ে একবার ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে উঠলেও বিআরএ সেটি বাতিল হয়ে যায়। রাজ্যের স্বস্তি নেমে আসে ইংলিশদের দলে। এরপর যোগ করা সময় ইংল্যান্ডও এগিয়ে যাওয়ার দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করলে ম্যাচটি অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে গড়ায়।
কর্নার থেকে আসা বল আলতো ছোঁয়ায় আলেক্সান্দার সরলথের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। তার শট দারুণভাবে ঠেকান জর্ডান পিকফোর্ড। কিন্তু বলটি ফিরে যায় টরবইয়র্ন হেগেমের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠাতে ভুল করেননি তিনি।
তবে গোলটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, কর্নার থেকে বল আসার সময় ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে জোরে ধাক্কা দেন আর্লিং হলান্ড। সেই ফাউলের কারণেই মনিটরে দেখে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
নরওয়ের বাতিল হওয়া সেই গোলটি
আর সেখান থেকে শুরুতেই গোলের সুযোগ আদায় করে নেয় ইংল্যান্ড। দলের হয়ে সে গোলটি করে সেই বেলিংহাম। ৯৩ মিনিটের সময় গোল করে তিনি দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিলান্ড সহজেই ধরে ফেলবেন বলেই মনে হচ্ছিল । কিন্তু বলটি তাঁর হাত ফসকে বেরিয়ে যায়।
জোড়া গোলের পর জুড বেলিংহামের উল্লাস
আর ঠিক সেই জায়গাতেই ছিলেন জুড বেলিংহাম। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার দক্ষতা আবারও দেখালেন ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার। ফিরতি বলে পা ছুঁইয়ে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। এই গোলে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড ২–১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর এবার পেনাল্টি পায়। ১০১ মিনিটে বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হয়েছেন জেড স্পেনস। মনিটরে দেখে পেনাল্টি সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন রেফারি। শুরুতে পেনাল্টি পেয়েছেন মনে হলেও পরে দেখা যায় স্পেনস ফাউলের শিকার হননি। যে কারণে রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। এভাবেই ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ের প্রথম হাফ শেষ করে।



















