ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী বলার পর মামলার হুমকি অতপর সুর বদলালেন আমারিলা

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচের পর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্তে আমারিলার মধ্যে মাঠের বাইরে তুমুল দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে ফ্রান্সের জয়ের পর আমারিলা এমবাপ্পেকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণবাদী ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্তে আমারিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপ্পেকে “উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয়”, “বেশ্যার ছেলে”, “অহংকারী ও কুৎসিত” বলে আক্রমণ করেন। এছাড়া তিনি এমবাপ্পের আফ্রিকান শিকড়, শৈশব এবং দৈহিক গঠন নিয়েও কটূক্তি করেন।

এমবাপ্পে চুপ না থেকে এর কড়া জবাব দেন এবং আমারিলাকে “ঘৃণ্য নারী” ও “এমন পদের অযোগ্য” বলে আখ্যায়িত করেন। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (FFF) এই বর্ণবাদী মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায় এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এমবাপ্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তবে এবার সেই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এমবাপের বিরুদ্ধে উল্টো মানহানি ও অপবাদের অভিযোগ আনার কথা ভাবছেন আমারিলা। যদিও পরবর্তীতে সুর পাল্টালেন প্যারাগুয়ের সংসদ আমারিলা।

এই সিনেটরের আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস জানিয়েছেন, এমবাপে প্রকাশ্যে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তার ভিত্তিতে প্যারাগুয়ের আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা যায় কি না, তা তারা বিবেচনা করছেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেন, ‘যদি আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে, তাহলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।’

কিন্তু প্যারাগুয়ের নারী সংসদ সদস্য সেলেস্তে আমারিল্লার পক্ষে থাকেনি দেশটির সরকার। উল্টো এই নারী সংসদের মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়। প্যারাগুয়ে সরকার একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে যে, “আমারিলার বক্তব্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনুপ্রেরণাদায়ক নীতিমালার মূল্যবোধ এবং আমাদের দেশ কর্তৃক সমুন্নত মানব মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধার পরিপন্থী।”

তার পিছন থেকে প্যারাগুয়ে সরকার সরে দাড়াতেই দেশটির এই নারী সংসদ সুর বদলাতে শুরু করলেন। তার ইনস্ট্রগ্রামে এমবাপ্পেকে ঘিরে যে মন্তব্য করা হয়েছে সেটি তার ছিলো না। তার ইনস্টগ্রাম হ্যাক করা হয়েছে।

১০ই জুলাই, অ্যামারিলা অপ্রত্যাশিতভাবে ঘোষণা করেন, “আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে,” এবং যোগ করেন, “এতে পোস্ট করা কোনো কিছুর জন্য আমি দায়ী নই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী বলার পর মামলার হুমকি অতপর সুর বদলালেন আমারিলা

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচের পর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্তে আমারিলার মধ্যে মাঠের বাইরে তুমুল দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে ফ্রান্সের জয়ের পর আমারিলা এমবাপ্পেকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণবাদী ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্তে আমারিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপ্পেকে “উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয়”, “বেশ্যার ছেলে”, “অহংকারী ও কুৎসিত” বলে আক্রমণ করেন। এছাড়া তিনি এমবাপ্পের আফ্রিকান শিকড়, শৈশব এবং দৈহিক গঠন নিয়েও কটূক্তি করেন।

এমবাপ্পে চুপ না থেকে এর কড়া জবাব দেন এবং আমারিলাকে “ঘৃণ্য নারী” ও “এমন পদের অযোগ্য” বলে আখ্যায়িত করেন। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (FFF) এই বর্ণবাদী মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায় এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এমবাপ্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তবে এবার সেই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এমবাপের বিরুদ্ধে উল্টো মানহানি ও অপবাদের অভিযোগ আনার কথা ভাবছেন আমারিলা। যদিও পরবর্তীতে সুর পাল্টালেন প্যারাগুয়ের সংসদ আমারিলা।

এই সিনেটরের আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস জানিয়েছেন, এমবাপে প্রকাশ্যে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তার ভিত্তিতে প্যারাগুয়ের আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা যায় কি না, তা তারা বিবেচনা করছেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেন, ‘যদি আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে, তাহলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।’

কিন্তু প্যারাগুয়ের নারী সংসদ সদস্য সেলেস্তে আমারিল্লার পক্ষে থাকেনি দেশটির সরকার। উল্টো এই নারী সংসদের মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়। প্যারাগুয়ে সরকার একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে যে, “আমারিলার বক্তব্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনুপ্রেরণাদায়ক নীতিমালার মূল্যবোধ এবং আমাদের দেশ কর্তৃক সমুন্নত মানব মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধার পরিপন্থী।”

তার পিছন থেকে প্যারাগুয়ে সরকার সরে দাড়াতেই দেশটির এই নারী সংসদ সুর বদলাতে শুরু করলেন। তার ইনস্ট্রগ্রামে এমবাপ্পেকে ঘিরে যে মন্তব্য করা হয়েছে সেটি তার ছিলো না। তার ইনস্টগ্রাম হ্যাক করা হয়েছে।

১০ই জুলাই, অ্যামারিলা অপ্রত্যাশিতভাবে ঘোষণা করেন, “আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে,” এবং যোগ করেন, “এতে পোস্ট করা কোনো কিছুর জন্য আমি দায়ী নই।”