বেলজিয়ামকে বিদায় করে সেমিফাইনালে স্পেন
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / ৬৩ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নিল স্পেন। পুরো ম্যাচ জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর নান্দনিক ফুটবলের পসরা। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে শিরোপার সুবাস পেতে শুরু করেছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের পক্ষে গোল দুটি করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। অন্যদিকে বেলজিয়ামের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলেইর।
লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে খেলার শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে স্পেন। তাদের চেনা ‘টিকি-টাকা’ ফুটবল এবং উইং দিয়ে দ্রুতগতির আক্রমণের মুখে প্রথমার্ধের শুরুতেই বেলজিয়ামকে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে যেতে হয়। মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে স্পেনই প্রথমার্ধে ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে।

ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন স্পেনের তারকা ফ্যাবিয়ান রুইজ। তার দুর্দান্ত এক গোল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। দারুণ এক আক্রমনে দানি ওলমোরের প্রচেষ্টা থামিয়ে দেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি শটে কাছাকাছি স্থানে থাকা ফাবিয়ান রুইজ বল জালে জড়ান। ম্যাচে এগিয়ে যাবার পরপরেই আরো বেশ কয়েকটি জোরালো আক্রমনে যায় স্পেন। ইয়ামেলের দারুণ এক শর্ট বার ঘেষে চলে যায়।
কিন্তু কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ঠিক এগার মিনিটে সমতাসূচক গোল পেয়ে যায় বেলজিয়াম। চার্লস ডি কেটেলারের গোলে সমতায় ফিরে বেলজিয়াম। কাউন্টার এ্যাটাকে বেলজিয়াম উঠে আসতেই স্পেনের রক্ষণের ওয়াল ভেঙ্গে যায়। ডান প্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তানিয়ের দারুণ এক ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে জাল খুঁজে নেন কেটেলারার। পাউ কুবারসি সামনে গিয়ে দূর্দান্তভাবে অবস্থান নিয়ে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান বেলজিয়ামের এই ফরোয়ার্ড। ৪১ মিনিটের সময় ম্যাচটি ১-১ সমতায় ফেরার পর প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোন গোল হয়নি।
তবে বিরতি থেকে ফেরার পর একটি বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম শিবির। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তাদের অতন্দ্র প্রহরী ও বিশ্বসেরা গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে কুর্তোয়ার মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে হারানো বেলজিয়ামের জন্য ছিল একটি বিশাল মনস্তাত্ত্বিক আঘাত।
তবে বিরতি থেকে ফেরার পর স্প্যানিশ ফুটবলাররা আক্রমন ভাগ একের পর এক চাপ সৃষ্টি করেও গোলের নিশানা খুজে পাচ্ছিলেন না। ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল এবং সবাই টাইব্রেকারের কথা ভাবছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় স্পেনের মিকেল মেরিনো। রক্ষণভাগের সামান্যতম মনোযোগহীনতার সুযোগ নিয়ে বেলজিয়ামের জালে দ্বিতীয়বারের মতো বল পাঠায় এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিট নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া করেনি স্পেন।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেনের ডাগআউট, আর অন্য প্রান্তে বিষাদের ছায়া নেমে আসে বেলজিয়ামের শিবিরে। এই হারের মাধ্যমে আরও একবার বিশ্বকাপের বড় মঞ্চ থেকে খালি হাতে বিদায় নিলো বেলজিয়াম।
রোমাঞ্চকর এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবে সেমিফাইনালে পা রাখল স্পেন। শিরোপা পুনরুদ্ধার থেকে তারা এখন মাত্র দুই ধাপ দূরে। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে ফুটবল বিশ্বের আরেক পরাশক্তি ফ্রান্স, যারা প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন মুখিয়ে আছেন স্পেন বনাম ফ্রান্সের সেই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল দ্বৈরথ দেখার জন্য।




















