ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

প্রাথমিক পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে খেলাধূলা,দশ হাজারেরও বেশি স্কুলে নেই মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খেলাধূলাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দেশে প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনও খেলার মাঠ নেই। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫২টিরই নিজস্ব মাঠ নেই। মাঠবিহীন এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯টি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৩ হাজার ৩৮টি। সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ১০ হাজার ৭৪০টিতে কোনও খেলার মাঠ নেই। আর রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৯০টিতে নিজস্ব মাঠ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত কাজের দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলার সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী হবে।

দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনও খেলার মাঠ নেই

কিন্তু খেলার মাঠ না থাকায় বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা এখন মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে শারিরীক বিকাশের পরিবর্তে মানসিক রুগী হয়ে যাচ্ছে এই প্রজম্মের সন্তানেরা।

শিশুরা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারছে না। ফলে তারা মানসিক বৈকল্য নিয়ে বেড়ে উঠছে। পাশাপাশি ধর্ষণ, পাচার, মানসিক নির্যাতন, অপুষ্টি ও শিশুশ্রমের মতো নানা ঝুঁকির মুখেও পড়ছে।

খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিশুদের ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলায় সবচে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সরকার প্রধান তারেক রহমান। তার আগ্রহতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে বলে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন।

ইতিমধ্যে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এমন কি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেয় অধিদফতর।

কিন্তু এ যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে মাঠ সঙ্কট। মাঠ না থাকলে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? যে সব বিদ্যালয়ের মাঠ রয়েছে সেগুলো না হয় অধিদপ্তরের নির্দেশনা মতে উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ নেয়ার সুযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু যে সব বিদ্যালয়ের মাঠই নেই সে বিদ্যালয়গুলোর কি হবে। তবে আস্থার বিষয় হচ্ছে সে সকল বিদ্যালয়গুলো মাঠ নেই সে বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় যৌথভাবে খেলাধুলার আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশ মোতাবেক এবার থেকে প্রত্যেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন পাঠদান শেষে ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সব খেলার মাঠ বেদখলে রয়েছে সেগুলো দখলমুক্ত করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।  গত ১৬ জুন জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ থেকে ১০ বিঘার একটি উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে অবৈধ দখলকৃত খেলার মাঠ উদ্ধার ও খেলাধুলার উপযোগী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সদস্য হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা রয়েছেন। ইতিমধ্যে কমিটি ঢাকার মাঠগুলোও পরিদর্শন করেছে এবং কার্যক্রম পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রাথমিক পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে খেলাধূলা,দশ হাজারেরও বেশি স্কুলে নেই মাঠ

আপডেট সময় : ১১:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

খেলাধূলাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দেশে প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনও খেলার মাঠ নেই। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫২টিরই নিজস্ব মাঠ নেই। মাঠবিহীন এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯টি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৩ হাজার ৩৮টি। সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ১০ হাজার ৭৪০টিতে কোনও খেলার মাঠ নেই। আর রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৯০টিতে নিজস্ব মাঠ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত কাজের দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলার সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী হবে।

দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনও খেলার মাঠ নেই

কিন্তু খেলার মাঠ না থাকায় বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা এখন মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে শারিরীক বিকাশের পরিবর্তে মানসিক রুগী হয়ে যাচ্ছে এই প্রজম্মের সন্তানেরা।

শিশুরা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারছে না। ফলে তারা মানসিক বৈকল্য নিয়ে বেড়ে উঠছে। পাশাপাশি ধর্ষণ, পাচার, মানসিক নির্যাতন, অপুষ্টি ও শিশুশ্রমের মতো নানা ঝুঁকির মুখেও পড়ছে।

খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিশুদের ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলায় সবচে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সরকার প্রধান তারেক রহমান। তার আগ্রহতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে বলে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন।

ইতিমধ্যে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এমন কি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেয় অধিদফতর।

কিন্তু এ যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে মাঠ সঙ্কট। মাঠ না থাকলে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? যে সব বিদ্যালয়ের মাঠ রয়েছে সেগুলো না হয় অধিদপ্তরের নির্দেশনা মতে উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ নেয়ার সুযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু যে সব বিদ্যালয়ের মাঠই নেই সে বিদ্যালয়গুলোর কি হবে। তবে আস্থার বিষয় হচ্ছে সে সকল বিদ্যালয়গুলো মাঠ নেই সে বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় যৌথভাবে খেলাধুলার আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশ মোতাবেক এবার থেকে প্রত্যেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন পাঠদান শেষে ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সব খেলার মাঠ বেদখলে রয়েছে সেগুলো দখলমুক্ত করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।  গত ১৬ জুন জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ থেকে ১০ বিঘার একটি উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে অবৈধ দখলকৃত খেলার মাঠ উদ্ধার ও খেলাধুলার উপযোগী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সদস্য হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা রয়েছেন। ইতিমধ্যে কমিটি ঢাকার মাঠগুলোও পরিদর্শন করেছে এবং কার্যক্রম পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও চিঠি দেওয়া হয়েছে।