ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ধেয়ে আসছে কূলের দিকে, অতি প্রবল হওয়ার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৭-এ এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি বৃদ্ধির আশঙ্কায় এর গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাবের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া বিভাগ।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। কেন্দ্র থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এ গতিবেগের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হলে এর শক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব বাড়তে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ, উপকূল অতিক্রমের সময় এবং দেশের উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব সম্পর্কে পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য জারি করা আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করা জরুরি।
পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৫.৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি সোমবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




















