ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মোবাইল ও মাদকের আসক্তি দূর করতে খেলাধুলাই প্রধান হাতিয়ার: রাষ্ট্রপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক, মোবাইল ফোন এবং প্রযুক্তির নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এ খেলায় একজন ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। অ্যাথলেটিকসের ভিত্তি শক্তিশালী হলে অন্যান্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার, মোবাইল স্ক্রিনে অতিরিক্ত আসক্তি এবং মাদকের নীল দংশন আমাদের যুবসমাজের সম্ভাবনাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মহামারি থেকে তরুণদের রক্ষা করতে হলে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে। আর এর সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো মাঠের খেলাধুলা।”
তিনি মাঠের সংকটের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন প্রতিটি এলাকায় তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও ক্রীড়া চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, বরং সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ অন্যান্য আউটডোর গেমসে অংশ নিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “সন্তানদের কেবল ঘরের কোণে বন্দি রেখে জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেবেন না। তাদের মাঠে পাঠান, প্রকৃতির সাথে মিশতে দিন। খেলাধুলা তরুণদের শুধু সুস্থ দেহই দেয় না, বরং তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে, যা তাদের মাদক ও অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে।”

দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি এবারের প্রতিযোগিতা উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পুরুষ ও নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে বিজয়ীদের হাতে মেডেল তুলে দেন তিনি।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মোবাইল ও মাদকের আসক্তি দূর করতে খেলাধুলাই প্রধান হাতিয়ার: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক, মোবাইল ফোন এবং প্রযুক্তির নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এ খেলায় একজন ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। অ্যাথলেটিকসের ভিত্তি শক্তিশালী হলে অন্যান্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার, মোবাইল স্ক্রিনে অতিরিক্ত আসক্তি এবং মাদকের নীল দংশন আমাদের যুবসমাজের সম্ভাবনাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মহামারি থেকে তরুণদের রক্ষা করতে হলে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে। আর এর সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো মাঠের খেলাধুলা।”
তিনি মাঠের সংকটের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন প্রতিটি এলাকায় তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও ক্রীড়া চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, বরং সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ অন্যান্য আউটডোর গেমসে অংশ নিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “সন্তানদের কেবল ঘরের কোণে বন্দি রেখে জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেবেন না। তাদের মাঠে পাঠান, প্রকৃতির সাথে মিশতে দিন। খেলাধুলা তরুণদের শুধু সুস্থ দেহই দেয় না, বরং তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে, যা তাদের মাদক ও অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে।”

দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি এবারের প্রতিযোগিতা উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পুরুষ ও নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে বিজয়ীদের হাতে মেডেল তুলে দেন তিনি।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।