ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সৌদি প্রবাসী জানে- আলমের খোঁজে দিশে হারা বাবা- মা, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়েও মেলেনি সন্ধ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম ভুঁইয়ার একমাত্র সৌদি প্রবাসী ছেলে জানে আলম ভুঁইয়ার খোঁজে বাবা- মায়ের চোখে পানিতে ভিজছে নামাজের বিছানা৷ সংসারের সুখের আশায় একমাত্র সন্তানকে সৌদি আরব পাঠিয়েছিলেন শাহ আলম ভুঁইয়া৷  যাবার পর থেকে বাবা- মায়ের সাথে প্রতিনিয়ত ফোনে কথা হতো তার৷ কিন্তু গত ৫/৬ মাস থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷ কোথায আছেন, কিভাবে আছেন, বেঁচে আছেন কিনা জানে না জানে-আলম ভুঁইয়ার বাবা-মা৷

সন্তানের খোঁজ নিতে প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে প্রায় দুই মাস আগে আবেদনও করা হয়েছিল৷ কিন্তু প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রণালয় আজোঅব্দি কোন সন্ধ্যান দিতে পারেনি৷

এদিকে প্রিয় সন্তান জানে আলমকে ফিরে পেতে দিক বেদিক ছুটাা-ছুটি করছেন তার বাবা শাহ আলম ভুঁইয়া৷ ঠিক বুজে উঠতে পারছেন না তার একমাত্র সন্তানকে তিনি কি ভাবে ফিরে পাবেন৷ ডেইলি ঢাকা মেট্রোর প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে শাহ আলম বলেন যে কোন উপায় হোক আমি আমার ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই৷ সরকারকে অনুরোধ করবো আপনারা একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে ফেরতদানের ব্যবস্থা করে দিন৷

জানা যায়, একটু নুন থেকে চুন খসলেই সৌদি প্রবাসীরা সৌদিতে গ্রেফতার হচ্ছেন৷ ফেসবুক স্টাটাসের কারণেও প্রবাসীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছেন সৌদি সরকার৷ এ নিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী সৌদি আরবের বিভিন্ন জেলে বন্দী আছেন৷

এছাড়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে অনেকে আবার আটকা পড়ে আছেন৷ তাদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ৷

আজ শুক্রবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা করছে সরকার।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শাহেদ আহমেদের মরদেহ গ্রহণ করতে যান প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

 

সৌদিতে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখনই যুদ্ধের কারণে অথবা অন্য কোনো দুর্ঘটনার খবর পাই, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কথা ভেবে আমরা দুশ্চিন্তা করি। কিন্তু এ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে।

‘আমরা চাই যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং বাংলাদেশিসহ কোনো দেশের নাগরিক বা কোনো মানুষই যেন এমন হামলার শিকার না হন,’ বলেন তিনি।

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি হিসেবে আছেন বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

 

সম্প্রতি সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় তারা আমাদের বন্দিদের বা দণ্ডিতদের তালিকা পাঠায়। সেখানে এই দুজনের নাম আছে কি না, আমরা খতিয়ে দেখছি। তাদের ব্যাপারে আর বিস্তারিত তথ্য আমরা পাইনি।’

‘দুই বাংলাদেশিকে শিরচ্ছেদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। আমরা সৌদি সরকারকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়েছি রায়ের কপি দেওয়ার জন্য। রায়ের কপি পেলেই আমরা বিস্তারিত জানতে পারব যে কী ঘটেছিল সেখানে,’ যোগ করেন তিনি।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘বিদেশে আমাদের কোনো নাগরিক যদি দণ্ডিত হয়, সেটা অবশ্যই আমাদের জানা প্রয়োজন আছে। চিঠি দিয়েছি, একটু ধৈর্য ধরতে হবে। এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু নয়, প্রবাসীকল্যাণ এবং আইনগত ব্যাপারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এতে যুক্ত আছেন।’

‘কোনো দেশে থাকা মিশন বা মন্ত্রণালয় যখন জানতে পারে কোনো বাংলাদেশি দণ্ডিত হয়েছে, তখন আমরা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে যোগাযোগ করি। সেদেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে দণ্ড মওকুফ করা যায় কি না, তা নিয়ে তার চেষ্টা করি। আমরা অন্য দেশের জুডিশিয়াল সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করি না। কিন্তু আমার দেশের নাগরিককে বাঁচানোর জন্য যতটুক দরকার সেটা করতে পারি। এই দুজনের ব্যাপারে যে সমস্যা হয়েছে সেটা হলো, আমরা জানতাম না,’ বলেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সৌদি প্রবাসী জানে- আলমের খোঁজে দিশে হারা বাবা- মা, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়েও মেলেনি সন্ধ্যান

আপডেট সময় : ০৬:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম ভুঁইয়ার একমাত্র সৌদি প্রবাসী ছেলে জানে আলম ভুঁইয়ার খোঁজে বাবা- মায়ের চোখে পানিতে ভিজছে নামাজের বিছানা৷ সংসারের সুখের আশায় একমাত্র সন্তানকে সৌদি আরব পাঠিয়েছিলেন শাহ আলম ভুঁইয়া৷  যাবার পর থেকে বাবা- মায়ের সাথে প্রতিনিয়ত ফোনে কথা হতো তার৷ কিন্তু গত ৫/৬ মাস থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷ কোথায আছেন, কিভাবে আছেন, বেঁচে আছেন কিনা জানে না জানে-আলম ভুঁইয়ার বাবা-মা৷

সন্তানের খোঁজ নিতে প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে প্রায় দুই মাস আগে আবেদনও করা হয়েছিল৷ কিন্তু প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রণালয় আজোঅব্দি কোন সন্ধ্যান দিতে পারেনি৷

এদিকে প্রিয় সন্তান জানে আলমকে ফিরে পেতে দিক বেদিক ছুটাা-ছুটি করছেন তার বাবা শাহ আলম ভুঁইয়া৷ ঠিক বুজে উঠতে পারছেন না তার একমাত্র সন্তানকে তিনি কি ভাবে ফিরে পাবেন৷ ডেইলি ঢাকা মেট্রোর প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে শাহ আলম বলেন যে কোন উপায় হোক আমি আমার ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই৷ সরকারকে অনুরোধ করবো আপনারা একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে ফেরতদানের ব্যবস্থা করে দিন৷

জানা যায়, একটু নুন থেকে চুন খসলেই সৌদি প্রবাসীরা সৌদিতে গ্রেফতার হচ্ছেন৷ ফেসবুক স্টাটাসের কারণেও প্রবাসীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছেন সৌদি সরকার৷ এ নিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী সৌদি আরবের বিভিন্ন জেলে বন্দী আছেন৷

এছাড়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে অনেকে আবার আটকা পড়ে আছেন৷ তাদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ৷

আজ শুক্রবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা করছে সরকার।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শাহেদ আহমেদের মরদেহ গ্রহণ করতে যান প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

 

সৌদিতে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখনই যুদ্ধের কারণে অথবা অন্য কোনো দুর্ঘটনার খবর পাই, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কথা ভেবে আমরা দুশ্চিন্তা করি। কিন্তু এ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে।

‘আমরা চাই যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং বাংলাদেশিসহ কোনো দেশের নাগরিক বা কোনো মানুষই যেন এমন হামলার শিকার না হন,’ বলেন তিনি।

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি হিসেবে আছেন বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

 

সম্প্রতি সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় তারা আমাদের বন্দিদের বা দণ্ডিতদের তালিকা পাঠায়। সেখানে এই দুজনের নাম আছে কি না, আমরা খতিয়ে দেখছি। তাদের ব্যাপারে আর বিস্তারিত তথ্য আমরা পাইনি।’

‘দুই বাংলাদেশিকে শিরচ্ছেদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। আমরা সৌদি সরকারকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়েছি রায়ের কপি দেওয়ার জন্য। রায়ের কপি পেলেই আমরা বিস্তারিত জানতে পারব যে কী ঘটেছিল সেখানে,’ যোগ করেন তিনি।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘বিদেশে আমাদের কোনো নাগরিক যদি দণ্ডিত হয়, সেটা অবশ্যই আমাদের জানা প্রয়োজন আছে। চিঠি দিয়েছি, একটু ধৈর্য ধরতে হবে। এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু নয়, প্রবাসীকল্যাণ এবং আইনগত ব্যাপারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এতে যুক্ত আছেন।’

‘কোনো দেশে থাকা মিশন বা মন্ত্রণালয় যখন জানতে পারে কোনো বাংলাদেশি দণ্ডিত হয়েছে, তখন আমরা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে যোগাযোগ করি। সেদেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে দণ্ড মওকুফ করা যায় কি না, তা নিয়ে তার চেষ্টা করি। আমরা অন্য দেশের জুডিশিয়াল সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করি না। কিন্তু আমার দেশের নাগরিককে বাঁচানোর জন্য যতটুক দরকার সেটা করতে পারি। এই দুজনের ব্যাপারে যে সমস্যা হয়েছে সেটা হলো, আমরা জানতাম না,’ বলেন তিনি।