ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যে আলাপ হলো বাফুফে সভাপতির

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রাবিরতি। সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। আলোচনায় উঠে এসেছে ফিফার ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপক্ষে খেলা, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, অব্যবহৃত ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থ এবং দেশের স্টেডিয়াম অবকাঠামোর উন্নয়ন। তাবিথের আশা, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হলে বাংলাদেশ সফরে আসবেন ফিফা সভাপতি।

রবিবার ঢাকায় ট্রানজিটের সময় বাফুফে সভাপতি ও সহসভাপতিদের নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল ইনফান্তিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠক শেষে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘দুই ঘণ্টার ট্রানজিটে আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটি ডেলিগেশন নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। বাংলাদেশের উদ্দেশে তিনি একটি ভিডিও বার্তাও দিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে খুব ভালো পরিবেশে মিটিংটা করতে পেরেছি।’

ভবিষ্যতে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে আরও বেশি কাজ করতে পারে, সেটিই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। তাবিথ বলেন, ‘আমরা মূলত আলোচনা করেছি, ভবিষ্যতে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ আরও কীভাবে কাজ করতে পারে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছেন, আসিয়ান কাপে আমাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এবং এ ধরনের আরও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না।’

ইউরোপের দেশগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘আমরা আরও ইউরোপিয়ান দেশে খেলতে চাই, ইউরোপেও খেলতে চাই। কীভাবে ফিফা উইন্ডোকে আরও উন্মুক্ত করা যায়, যেন বিভিন্ন কনফেডারেশনের দলগুলো একে অপরের সঙ্গে খেলতে পারে, সেটা নিয়েও কথা হয়েছে।’

ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় বরাদ্দ অর্থের যে অংশ এখনো ব্যয় করা হয়নি, তা নিয়েও ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাবিথ। তার ভাষ্য, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় যে অর্থগুলো এখনো খরচ হয়নি, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। প্রকল্পগুলো প্রস্তুত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। একটু গতি পেলে ফিফা প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে এসে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করতে চান।’

বাংলাদেশে ফিফা সভাপতির ভবিষ্যৎ সফর নিয়েও আশাবাদী বাফুফে সভাপতি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের টেকনিক্যাল সেন্টারের কাজ শুরু হয়ে গেলে, সিলেটে হাইব্রিড পিচের কাজ শুরু হলে অথবা দুটি স্টেডিয়ামের মেরামত ও ফ্লাডলাইটের কাজ শুরু হলে ফিফা সভাপতির বাংলাদেশে আসার একটি কারণ তৈরি হবে। প্রেসিডেন্ট ইজ রেডি টু কাম এনিটাইম।’

স্টেডিয়ামগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্কুল পর্যায়ে ফুটবলসহ খেলাধুলার প্রসার নিয়েও ফিফা সভাপতিকে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে আলো জ্বালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। পাশাপাশি ক্লাস ফোর থেকে স্কুলে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছি। এসব অগ্রগতি নিয়ে ফিফা প্রেসিডেন্ট অনেক এক্সাইটেড হয়েছেন।’

ফিফা সভাপতি নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘ইলেকশন বা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আমাদের কোনো কথা হয়নি। আমরা মূলত ফুটবল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কথা বলেছি। ১৮ নভেম্বর কারা ফিফা সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেন, আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। এরপর হয়তো আমরা আমাদের অবস্থান নিতে বা প্রকাশ করতে পারব।’

বাংলাদেশের ফুটবল ফিফার কাছে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে- এমন প্রশ্নে তাবিথের জবাব, ‘আমি তো অনেস্টলি মনে করি, বাংলাদেশ ফুটবল অনেক অগ্রাধিকার পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি সরেজমিনে যেসব তথ্য নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তিনি আমাদের কাজে অগ্রগতি দেখে ইমপ্রেসড হবেন।’

ফিফার কাছ থেকে আরও সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। তার কথায়, ‘আমরাও আশা করি, ফিফা থেকে আমরা আরও অ্যাসিস্ট্যান্স পাব। কারণ এক্সাইটমেন্টটা এখন তৈরি হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকেও ফিফার কাছে দেশের ফুটবলের গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিটি ফিফা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। এতে অন্তত ফিফার কাছে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন অত্যন্ত সিরিয়াস এবং বাংলাদেশ সরকার ফুটবলের পেছনে খুবই প্যাশনেট।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যে আলাপ হলো বাফুফে সভাপতির

আপডেট সময় : ১২:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রাবিরতি। সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। আলোচনায় উঠে এসেছে ফিফার ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপক্ষে খেলা, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, অব্যবহৃত ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থ এবং দেশের স্টেডিয়াম অবকাঠামোর উন্নয়ন। তাবিথের আশা, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হলে বাংলাদেশ সফরে আসবেন ফিফা সভাপতি।

রবিবার ঢাকায় ট্রানজিটের সময় বাফুফে সভাপতি ও সহসভাপতিদের নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল ইনফান্তিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠক শেষে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘দুই ঘণ্টার ট্রানজিটে আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটি ডেলিগেশন নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। বাংলাদেশের উদ্দেশে তিনি একটি ভিডিও বার্তাও দিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে খুব ভালো পরিবেশে মিটিংটা করতে পেরেছি।’

ভবিষ্যতে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে আরও বেশি কাজ করতে পারে, সেটিই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। তাবিথ বলেন, ‘আমরা মূলত আলোচনা করেছি, ভবিষ্যতে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ আরও কীভাবে কাজ করতে পারে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছেন, আসিয়ান কাপে আমাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এবং এ ধরনের আরও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না।’

ইউরোপের দেশগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘আমরা আরও ইউরোপিয়ান দেশে খেলতে চাই, ইউরোপেও খেলতে চাই। কীভাবে ফিফা উইন্ডোকে আরও উন্মুক্ত করা যায়, যেন বিভিন্ন কনফেডারেশনের দলগুলো একে অপরের সঙ্গে খেলতে পারে, সেটা নিয়েও কথা হয়েছে।’

ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় বরাদ্দ অর্থের যে অংশ এখনো ব্যয় করা হয়নি, তা নিয়েও ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাবিথ। তার ভাষ্য, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় যে অর্থগুলো এখনো খরচ হয়নি, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। প্রকল্পগুলো প্রস্তুত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। একটু গতি পেলে ফিফা প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে এসে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করতে চান।’

বাংলাদেশে ফিফা সভাপতির ভবিষ্যৎ সফর নিয়েও আশাবাদী বাফুফে সভাপতি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের টেকনিক্যাল সেন্টারের কাজ শুরু হয়ে গেলে, সিলেটে হাইব্রিড পিচের কাজ শুরু হলে অথবা দুটি স্টেডিয়ামের মেরামত ও ফ্লাডলাইটের কাজ শুরু হলে ফিফা সভাপতির বাংলাদেশে আসার একটি কারণ তৈরি হবে। প্রেসিডেন্ট ইজ রেডি টু কাম এনিটাইম।’

স্টেডিয়ামগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্কুল পর্যায়ে ফুটবলসহ খেলাধুলার প্রসার নিয়েও ফিফা সভাপতিকে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে আলো জ্বালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। পাশাপাশি ক্লাস ফোর থেকে স্কুলে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছি। এসব অগ্রগতি নিয়ে ফিফা প্রেসিডেন্ট অনেক এক্সাইটেড হয়েছেন।’

ফিফা সভাপতি নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘ইলেকশন বা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আমাদের কোনো কথা হয়নি। আমরা মূলত ফুটবল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কথা বলেছি। ১৮ নভেম্বর কারা ফিফা সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেন, আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। এরপর হয়তো আমরা আমাদের অবস্থান নিতে বা প্রকাশ করতে পারব।’

বাংলাদেশের ফুটবল ফিফার কাছে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে- এমন প্রশ্নে তাবিথের জবাব, ‘আমি তো অনেস্টলি মনে করি, বাংলাদেশ ফুটবল অনেক অগ্রাধিকার পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি সরেজমিনে যেসব তথ্য নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তিনি আমাদের কাজে অগ্রগতি দেখে ইমপ্রেসড হবেন।’

ফিফার কাছ থেকে আরও সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। তার কথায়, ‘আমরাও আশা করি, ফিফা থেকে আমরা আরও অ্যাসিস্ট্যান্স পাব। কারণ এক্সাইটমেন্টটা এখন তৈরি হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকেও ফিফার কাছে দেশের ফুটবলের গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিটি ফিফা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। এতে অন্তত ফিফার কাছে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন অত্যন্ত সিরিয়াস এবং বাংলাদেশ সরকার ফুটবলের পেছনে খুবই প্যাশনেট।’