ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অস্ট্রেলিয়া জয়কে ক্রিকেট কূটনীতিতে কাজে লাগাতে চান তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 ২৩ বছর পর  টেস্ট খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারালো সাড়ে তিনদিনে৷ কঠিন কন্ডিশনে প্রতিটি সেশন দাপটের সঙ্গে খেলে অজিদের বিপক্ষে করেছে অবিশ্বাস্য জয়৷ যা কিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কোন ফরমেটে বড় জয়৷ যার কৃতিত্ব পুরো দলের৷ 

সত্যিকার অর্থে এই জয়ের নেপথ্যে কোনো একক নায়ক নয়; খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই শতভাগ কৃতিত্ব দিয়েছেন যেমন অধিনায়ক শান্ত,ঠিক তেমনি সকলের সমান কৃতিত্ব দেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল খান৷

বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে শন টেইটের রেখে যাওয়া ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তালহা জুবায়েরের অসাধারণ কাজও আলাদা করে তুলে ধরেছেন তামিম।

রোববার বিকেলে মিরপুরে তামিম বলেন, ‘অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় এটি একটি অসাধারণ জয়, অসাধারণ অর্জন। অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো দলের জন্য খেলা অনেক কঠিন। ২৩ বছর পর ওখানে গিয়ে যেভাবে ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ দল জিতেছে, তার কৃতিত্ব শতভাগ তাদের। খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক সবাইকে কৃতিত্ব দিতে হয়। আমরা বোর্ডে শুধু তাদের সহায়তা করতে, সুযোগ-সুবিধা দিতে এবং গাইড করতে আছি। এই অর্জনে অন্য কারো কৃতিত্ব নেই, এটি সম্পূর্ণ টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক এবং খেলোয়াড়দের।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তামিম যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সম্ভবত এটি সবচেয়ে বড় জয়। আমরা সবাই এই অর্জনে সমানভাবে খুশি। আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

জয়ের পেছনে খুটিনাটি বিষয়গুলো সামনে এনেছেন তামিম, ‘প্রতিটি সেশন জেতা এবং ম্যাচটি জেতা দলের জন্য একটি অসাধারণ অর্জন ছিল। এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণ খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের। আলাদাভাবে আমাদের ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইটের কথা বলতে চাই যিনি খুব ভালো কাজ করেছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আমরা স্থানীয় কোচ তালহা জুবায়েরকে দায়িত্ব দিই। তিনি শন টেইটের রেখে যাওয়া মান ধরে রেখেছেন এবং ভালো করছেন। তার প্রশংসা করা উচিত।’

বাংলাদেশ যে ধারাবাহিকতায় টেস্ট খেলছে তাতে এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও অসম্ভব কোনো বিষয় নয়। গাণিতিকভাবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আছে খেলার। ৫ ম্যাচে ৩ জয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চার নম্বরে। সামনে আরও সাত ম্যাচ রয়েছে। বোর্ড প্রধান হিসেবে তামিম নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘আমরা যে এই সম্ভাবনার কথা বলছি, তাতেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। গাণিতিকভাবে এটি সম্ভব। তবে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা এখন যে ধরনের ক্রিকেট খেলছে সেটি বজায় রাখা। ঘরের মাঠে চারটি টেস্ট আছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি এবং অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট। তারা যেভাবে খেলছে তাতে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমি খুব বেশি দূরের চিন্তা করতে চাই না। এটি টিম ম্যানেজমেন্ট এবং খেলোয়াড়দের কাজ, তারা এটি নিয়ে ভাববে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করায় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ বড় বার্তা দিয়েছে নিশ্চিতভাবেই। টেস্ট ক্রিকেটে যে দেশগুলো বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে চায় না কিংবা এড়িয়ে যায় তাদের বিপক্ষে সিরিজের দরকষাকষি করা সম্ভব বলে মনে করেন তামিম, ‘এটি (বেশি সিরিজ নিশ্চিত করা) আমাদের দায়িত্ব। আগামী মাসে এফটিপি মিটিং হবে। সেখানে আমরা অন্য দলগুলোকে কনভিন্স করে আরও ভালো সিরিজ নেওয়ার চেষ্টা করব। এই জয়টি অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করবে। আমরা এফটিপিকে যতটা সম্ভব প্রতিযোগিতামূলক করার এবং বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার চেষ্টা করব।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অস্ট্রেলিয়া জয়কে ক্রিকেট কূটনীতিতে কাজে লাগাতে চান তামিম

আপডেট সময় : ০৯:২৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 ২৩ বছর পর  টেস্ট খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারালো সাড়ে তিনদিনে৷ কঠিন কন্ডিশনে প্রতিটি সেশন দাপটের সঙ্গে খেলে অজিদের বিপক্ষে করেছে অবিশ্বাস্য জয়৷ যা কিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কোন ফরমেটে বড় জয়৷ যার কৃতিত্ব পুরো দলের৷ 

সত্যিকার অর্থে এই জয়ের নেপথ্যে কোনো একক নায়ক নয়; খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই শতভাগ কৃতিত্ব দিয়েছেন যেমন অধিনায়ক শান্ত,ঠিক তেমনি সকলের সমান কৃতিত্ব দেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল খান৷

বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে শন টেইটের রেখে যাওয়া ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তালহা জুবায়েরের অসাধারণ কাজও আলাদা করে তুলে ধরেছেন তামিম।

রোববার বিকেলে মিরপুরে তামিম বলেন, ‘অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় এটি একটি অসাধারণ জয়, অসাধারণ অর্জন। অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো দলের জন্য খেলা অনেক কঠিন। ২৩ বছর পর ওখানে গিয়ে যেভাবে ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ দল জিতেছে, তার কৃতিত্ব শতভাগ তাদের। খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক সবাইকে কৃতিত্ব দিতে হয়। আমরা বোর্ডে শুধু তাদের সহায়তা করতে, সুযোগ-সুবিধা দিতে এবং গাইড করতে আছি। এই অর্জনে অন্য কারো কৃতিত্ব নেই, এটি সম্পূর্ণ টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক এবং খেলোয়াড়দের।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তামিম যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সম্ভবত এটি সবচেয়ে বড় জয়। আমরা সবাই এই অর্জনে সমানভাবে খুশি। আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

জয়ের পেছনে খুটিনাটি বিষয়গুলো সামনে এনেছেন তামিম, ‘প্রতিটি সেশন জেতা এবং ম্যাচটি জেতা দলের জন্য একটি অসাধারণ অর্জন ছিল। এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণ খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের। আলাদাভাবে আমাদের ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইটের কথা বলতে চাই যিনি খুব ভালো কাজ করেছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আমরা স্থানীয় কোচ তালহা জুবায়েরকে দায়িত্ব দিই। তিনি শন টেইটের রেখে যাওয়া মান ধরে রেখেছেন এবং ভালো করছেন। তার প্রশংসা করা উচিত।’

বাংলাদেশ যে ধারাবাহিকতায় টেস্ট খেলছে তাতে এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও অসম্ভব কোনো বিষয় নয়। গাণিতিকভাবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আছে খেলার। ৫ ম্যাচে ৩ জয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চার নম্বরে। সামনে আরও সাত ম্যাচ রয়েছে। বোর্ড প্রধান হিসেবে তামিম নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘আমরা যে এই সম্ভাবনার কথা বলছি, তাতেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। গাণিতিকভাবে এটি সম্ভব। তবে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা এখন যে ধরনের ক্রিকেট খেলছে সেটি বজায় রাখা। ঘরের মাঠে চারটি টেস্ট আছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি এবং অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট। তারা যেভাবে খেলছে তাতে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমি খুব বেশি দূরের চিন্তা করতে চাই না। এটি টিম ম্যানেজমেন্ট এবং খেলোয়াড়দের কাজ, তারা এটি নিয়ে ভাববে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করায় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ বড় বার্তা দিয়েছে নিশ্চিতভাবেই। টেস্ট ক্রিকেটে যে দেশগুলো বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে চায় না কিংবা এড়িয়ে যায় তাদের বিপক্ষে সিরিজের দরকষাকষি করা সম্ভব বলে মনে করেন তামিম, ‘এটি (বেশি সিরিজ নিশ্চিত করা) আমাদের দায়িত্ব। আগামী মাসে এফটিপি মিটিং হবে। সেখানে আমরা অন্য দলগুলোকে কনভিন্স করে আরও ভালো সিরিজ নেওয়ার চেষ্টা করব। এই জয়টি অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করবে। আমরা এফটিপিকে যতটা সম্ভব প্রতিযোগিতামূলক করার এবং বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার চেষ্টা করব।’