ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্পিকারের উদ্দেশ্যে লেখা পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই ব্যাধির কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবজনিত শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং তাঁর দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজন। এ অবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে তৈরি হওয়া শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট কাটাতে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করেছিলেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। ওই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছে। ফলে তাঁর সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি বলে তিনি পত্রে দাবি করেন।

২০২৩ সালের য২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা নিজের এই পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন৷ যদিও রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত৷

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ঢাকা ফিরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তবে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নির্বাচনের মাধ্যামে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এটাই সংবিধানের নিয়ম।’

স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছেই করবেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ সচিবালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতেই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্পিকারের উদ্দেশ্যে লেখা পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই ব্যাধির কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবজনিত শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং তাঁর দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজন। এ অবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে তৈরি হওয়া শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট কাটাতে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করেছিলেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। ওই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছে। ফলে তাঁর সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি বলে তিনি পত্রে দাবি করেন।

২০২৩ সালের য২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা নিজের এই পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন৷ যদিও রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত৷

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ঢাকা ফিরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তবে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নির্বাচনের মাধ্যামে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এটাই সংবিধানের নিয়ম।’

স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছেই করবেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ সচিবালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতেই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।