ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসভবনে উঠছেন মো. সাহাবুদ্দিন, পাবেন যে সব সুুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থ্যতার কারণ উল্লেখ করে তিনি শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হয়ে গেছেন। রোববার  সরকারি ভবন অর্থাৎ বঙ্গভবন ছেড়ে  তিনি  স্বপরিবারে  গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে উঠবেন। তবে পদত্যাগ করলেও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার পরও আজীবন অবসরভাতাসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন তিনি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব ছাড়ার পর রোববার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ ছাড়াও চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

এর আগে সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি। স্পিকার হিসেবে আমি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে দায়িত্ব ছাড়ার কারণ জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

পদত্যাগের পর যে সব সুযোগ সুবিধা পাবেন

আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। পাশাপাশি তার দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতা দেয়া হবে।

এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে সেই সংযোগের বিল পরিশোধের সুবিধাও পাবেন।

এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসেবা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সরকারি সফরের সময় সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুযোগও তার জন্য বহাল থাকবে।

মেয়াদের আগে বঙ্গভবন ছাড়তে হলো যাদের

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে ও সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রপ্রধানদের দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা এর আগে অনেকবারই হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিনসহ মোট পাঁচ রাষ্ট্রপতি তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই দ্বায়িত্ব ছাড়েন।

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী : ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল পুনরায় নির্বাচিত হলেও মেয়াদ শেষের আগেই ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।
মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ : ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন, যা পূর্ণ মেয়াদ ছিল না।
খন্দকার মোশতাক আহমেদ : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর ক্ষমতা দখল করেন এবং মাত্র ৮৩ দিন ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত হন।
জিয়াউর রহমান : ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হন এবং প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।
মো. সাহাবুদ্দিন : ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর আগেই ব্যক্তিগত ও শারীরিক কারণ দেখিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসভবনে উঠছেন মো. সাহাবুদ্দিন, পাবেন যে সব সুুবিধা

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থ্যতার কারণ উল্লেখ করে তিনি শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হয়ে গেছেন। রোববার  সরকারি ভবন অর্থাৎ বঙ্গভবন ছেড়ে  তিনি  স্বপরিবারে  গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে উঠবেন। তবে পদত্যাগ করলেও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার পরও আজীবন অবসরভাতাসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন তিনি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব ছাড়ার পর রোববার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ ছাড়াও চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

এর আগে সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি। স্পিকার হিসেবে আমি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে দায়িত্ব ছাড়ার কারণ জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

পদত্যাগের পর যে সব সুযোগ সুবিধা পাবেন

আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। পাশাপাশি তার দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতা দেয়া হবে।

এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে সেই সংযোগের বিল পরিশোধের সুবিধাও পাবেন।

এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসেবা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সরকারি সফরের সময় সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুযোগও তার জন্য বহাল থাকবে।

মেয়াদের আগে বঙ্গভবন ছাড়তে হলো যাদের

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে ও সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রপ্রধানদের দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা এর আগে অনেকবারই হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিনসহ মোট পাঁচ রাষ্ট্রপতি তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই দ্বায়িত্ব ছাড়েন।

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী : ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল পুনরায় নির্বাচিত হলেও মেয়াদ শেষের আগেই ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।
মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ : ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন, যা পূর্ণ মেয়াদ ছিল না।
খন্দকার মোশতাক আহমেদ : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর ক্ষমতা দখল করেন এবং মাত্র ৮৩ দিন ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত হন।
জিয়াউর রহমান : ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হন এবং প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।
মো. সাহাবুদ্দিন : ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর আগেই ব্যক্তিগত ও শারীরিক কারণ দেখিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।