মিরপুরে তীব্র পানিসংকটে জনজীবন অতিষ্ট
- আপডেট সময় : ০৭:০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাস ধরে পানির তীব্র সঙ্কটে পড়লেও প্রশাসন থেকে কার্যকর প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশ মিরপুর বাসি। কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, কাফরুল, বিভিন্ন সেকশনসহ পল্লবী এলাকায় এলাকায় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
মেট্রোরেলের যাতায়াতে শহরের ছোট পরিবার গুলোর পছন্দের জায়গা এখন মিরপুর। কিন্তু নাগরিক এই সুবিধা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের ভিতর হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানিসঙ্কট লেগে থাকায় ছোট পরিবারের গুলো এখন এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছে।
মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই মাসে বারবার পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। খাবার পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। আর গোসল বা কাপড় ধোয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় লাইনে পানি থাকছে না। সপ্তাহে কয়েকদিন পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে পানি এলেও তাতে প্রায়ই দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আবার ওয়াসার গাড়ি থেকে পানি কেনার জন্য লম্বা লাইন দিতে হচ্ছে। সেখানেও সঙ্কট। পানির ট্যাংকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রায় ৩০০ টাকা হলেও, বাস্তবে একটি ছোট ট্যাংকারের জন্য বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
বিষয়টি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতা সংসদ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও কোন সুরাহা দেখা যায়নি। মিরপুর এলাকায় রীতিমতো পানি নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। ক্ষুব্ধ ফেঁসে উঠেছেন এলকা বাসী। শেওড়াপাড়ার শতাধিক বাসিন্দা বালতি-বোতল নিয়ে মূল সড়ক অবরোধ করেন, প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পর রাতের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস পেয়ে সড়ক ছাড়েন। এর কিছুদিন পর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকাতেও বালতি-জগ হাতে বিক্ষোভে নামেন বাসিন্দারা। সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুর-১০ এর সি-ব্লক এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত একটি নতুন পানির পাম্প বসানোর দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন, তবে এখনও পানির সঙ্কট কাটেনি, সমাধানও পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ভাকুর্তা পানি শোধনাগারে বিঘ্ন হওয়ায় পূর্ব ও পশ্চিম কাজীপাড়ায় কিছু দিন পরপর পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। ভাকুর্তা প্ল্যান্টের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ব্যাপকভাবে নিচে নেমে গেছে বলে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা জানায়, রাজধানীতে প্রতিদিন পানির মোট চাহিদা প্রায় ৩০০ কোটি লিটার। এই বিপুল চাহিদা পূরণে তারা প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি গভীর নলকূপ বসিয়েছে, যার মধ্যে কেবল মিরপুর এলাকাতেই আছে প্রায় ১৮০টি। এত আয়োজনের পরও প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াসা। ফলস্বরূপ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মনিপুর, ৬০ ফিট ও পীরবাগের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে ওয়াসার পুরোনো নলকূপগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ার কারণে আগামী দিনগুলোতে মিরপুরের এই পানি সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ঢাকা ওয়াসার পরিসংখ্যান বলছে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভাকুর্তা শোধনাগার থেকে দৈনিক প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এই পানির সিংহভাগই যায় বৃহত্তর মিরপুর অঞ্চলে। ফলে সেখানে সরবরাহে সামান্য তারতম্য হলেই তার বড় প্রভাব পড়ে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে। যেসব এলাকায় আগে থেকেই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম ছিল, কারিগরি এই সংকটে সেখানকার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি শোধনাগারটির ট্রান্সফর্মার ও জেনারেটরে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে সেসময় মাত্র ৭ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এর পরের দৈনিক ১০ কোটি লিটার করে পানি পাওয়া যায়। সেই ঘাটতি থেকে পানির সঙ্কট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এসব এলাকায়।






















