ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ, ১০০টিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শত শত মাদরাসা নিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যটিতে জরিপ ও পর্যালোচনার পর ২৫২ টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছ৷  বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তথ্য সূত্র -সংবাদমাধ্যম এনডিটিভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ দেয়া ২৫২টি মাদরাসার বেশিরভাগই খারিজি সম্প্রদায়ের। এর মধ্যে মালদায় অন্তত ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদরাসা রয়েছে।

সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মাদরাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে। তা না হলে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

এর আগে রাজ্যের স্বীকৃত ও অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা নির্ধারণে গত জুন মাসে রাজ্যজুড়ে জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং রাজ্যের আরও ২২টি জেলায় জরিপ চালায়। এতে মাদরাসাগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সংগঠন, অর্থের উৎস এবং নিবন্ধনের অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।

টুডু বলেন, ‘জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১০০টি মাদরাসায় গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যাওয়ায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে সেগুলো বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসা চলছে। অন্যদিকে অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।

এদিকে মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘উগ্রপন্থা’ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতার কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, মাদরাসা শিক্ষার আড়ালে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অগ্নিমিত্রা পালও মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘দেশবিরোধী শিক্ষা’ দেয়া হতো। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এসব অননুমোদিত মাদরাসায় আশ্রয় নিত। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে চাই।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, মাদরাসা মূলত একটি শিক্ষাব্যবস্থা। তাই মাদরাসার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের’ যোগসূত্র টানা ঠিক নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ, ১০০টিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আপডেট সময় : ০৭:২২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শত শত মাদরাসা নিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যটিতে জরিপ ও পর্যালোচনার পর ২৫২ টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছ৷  বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তথ্য সূত্র -সংবাদমাধ্যম এনডিটিভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ দেয়া ২৫২টি মাদরাসার বেশিরভাগই খারিজি সম্প্রদায়ের। এর মধ্যে মালদায় অন্তত ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদরাসা রয়েছে।

সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মাদরাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে। তা না হলে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

এর আগে রাজ্যের স্বীকৃত ও অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা নির্ধারণে গত জুন মাসে রাজ্যজুড়ে জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং রাজ্যের আরও ২২টি জেলায় জরিপ চালায়। এতে মাদরাসাগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সংগঠন, অর্থের উৎস এবং নিবন্ধনের অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।

টুডু বলেন, ‘জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১০০টি মাদরাসায় গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যাওয়ায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে সেগুলো বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসা চলছে। অন্যদিকে অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।

এদিকে মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘উগ্রপন্থা’ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতার কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, মাদরাসা শিক্ষার আড়ালে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অগ্নিমিত্রা পালও মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘দেশবিরোধী শিক্ষা’ দেয়া হতো। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এসব অননুমোদিত মাদরাসায় আশ্রয় নিত। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে চাই।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, মাদরাসা মূলত একটি শিক্ষাব্যবস্থা। তাই মাদরাসার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের’ যোগসূত্র টানা ঠিক নয়।