ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কার্যকর কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে চায় সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম, ক্লাসরুম এবং কনসিস্টেন্সি এই তিন মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে

প্রতি বছর শিক্ষিত বেকার বাড়ছে। যা কিনা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় দূশ্চিন্তার কারন হয়ে উঠেছে। বেকারত্বে দিশে হারা তরুণ সমাজ। অথচ শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়। কিন্তু কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা না হওয়ায় বেকারত্বের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই গতাণুগতিক শিক্ষ্যা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স টেনিং ইনস্টিডিউটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলার কারণে বেকারত্ব বাড়ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমাতে ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট। মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাংলা ভাষা বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর একটি এবং এর সংরক্ষণে বাংলাদেশের অবদান অনন্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের নৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিত্তি দুর্বল হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে—পাঠ্যক্রম, ক্লাসরুম এবং কনসিস্টেন্সি (ধারাবাহিকতা)। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কার্যকর কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে চায় সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:২৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম, ক্লাসরুম এবং কনসিস্টেন্সি এই তিন মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে

প্রতি বছর শিক্ষিত বেকার বাড়ছে। যা কিনা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় দূশ্চিন্তার কারন হয়ে উঠেছে। বেকারত্বে দিশে হারা তরুণ সমাজ। অথচ শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়। কিন্তু কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা না হওয়ায় বেকারত্বের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই গতাণুগতিক শিক্ষ্যা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স টেনিং ইনস্টিডিউটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলার কারণে বেকারত্ব বাড়ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমাতে ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট। মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাংলা ভাষা বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর একটি এবং এর সংরক্ষণে বাংলাদেশের অবদান অনন্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের নৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিত্তি দুর্বল হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে—পাঠ্যক্রম, ক্লাসরুম এবং কনসিস্টেন্সি (ধারাবাহিকতা)। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।