গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি, আছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, সর্বত্রে ঝরছে ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১০:১৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৯২ বার পড়া হয়েছে
শরিফ ওসমান হাদি। বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে অতি পরিচিত নতুন মুখ। ঢাকা -৮ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী। মির্জা আব্বাসের প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়িয়ে নিজেই নিজের প্রচারনা চালাচ্ছিলেন। রিকশায় চড়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে দূর্বৃত্তদের গুলি বর্ষণের শিকার হন এই তরুণ রাজনৈতিক। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায় মোটর সাইকেল থাকা দু’জন সন্ত্রাসী রিকশার ঠিক কাছে গিয়ে গুলি চালিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বিজয় নগর বক্স কালভার্ট এলাকায়। দূর্বৃত্তদের গুলিতে হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাদি।
পাঁচ আগস্টের পর দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে উঠেন তিনি। যদিও ঝালকাঠির নলছিটি থেকে উঠে আসা হাদিকে এর আগে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যায়নি। মাদ্রাসার শিক্ষকের ছেলে হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে পড়াশোনা করেন নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা যায়। তফসিল ঘোষণার ঠিক একদিন পর ভোটের রাজনীতিতে নামার পর শুরু হয়ে গেলো গুলি।
যা কিনা রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশা ঝরছে। প্রশ্ন উঠেছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল এরই সুযোগে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী দলের ঘাড়ে দোষ চাপানো চেষ্টা করছে। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে কড়া বার্তা এসেছে যে কোন কিছুর বিনিময়ে তারা সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করবেই। এ ব্যাপারে কড়া হুশিয়ারী দিয়েছেন স্বয়ং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
মঞ্চ এবং টক শোতে মাতিয়ে রেখে হাদি আলোচনায় স্থান করে নেন। আবার স্লোগানে ভব্যতার সীমা লঙ্ঘনের কারণে তাঁর নিন্দাও চলে সমানতালে। এসব মিলিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বছরজুড়ে আলোচিত চরিত্র শরিফ ওসমান হাদি। দুর্বৃত্তের গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে এখন হাসপাতালে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছেন তিনি।
তার সাহসী বক্তব্যে প্রশসংশিত হন হাদি। যা কিনা জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের চরমভাবে আহত করে। যার ফলে আওয়ামী সমর্থকদের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা এক মাস আগেই জানিয়েছিলেন হাদি। তাঁর ওপর হামলাকারীরা এখনো চিহ্নিত না হলেও এটা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন হাদি। সাংস্কৃতিক এই প্ল্যাটফর্ম তাদের লক্ষ্য ঠিক করে—‘সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণ’। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়েই একটি সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তোলেন তিনি।
প্রতিষ্ঠার পরপরই জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদ–আহত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি এবং জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণার দাবি তুলে শাহবাগে সমাবেশ আয়োজন শুরু করেন হাদি। বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোয় ডাক পেতে থাকেন। প্রথমে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিতেন তিনি। পরে নেন আহ্বায়কের দায়িত্ব।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভে যোগ দেন ওসমান হাদি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিতেও সরব হয়ে ওঠেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।




















