ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

জলবায়ু অর্থায়নে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশা
  • কপ-৩১-এ জলবায়ু অর্থায়নে জোর দেবে বাংলাদেশ
  • জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তবে রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এদিকে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রত্যাশা নিয়ে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ ও জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

জাপান সফরে বিনিয়োগের প্রত্যাশা

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কপ-৩১-এ জলবায়ু অর্থায়নে জোর

আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, সীমিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক সম্ভাবনাও তুলে ধরতে চায়। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জলবায়ু সম্মেলনে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন—দুই ক্ষেত্রকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।

অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে কম দায়ী হলেও অনেক দেশ এর বিরূপ প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব দেশের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যকর ও সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন।

কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ ও জাতীয় সংলাপের লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা। জলবায়ু অভিযোজন, জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশবান্ধব শিল্পের বিকাশ এবং ন্যায্য অর্থায়নের বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জলবায়ু অর্থায়নে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশা
  • কপ-৩১-এ জলবায়ু অর্থায়নে জোর দেবে বাংলাদেশ
  • জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তবে রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এদিকে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রত্যাশা নিয়ে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ ও জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

জাপান সফরে বিনিয়োগের প্রত্যাশা

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কপ-৩১-এ জলবায়ু অর্থায়নে জোর

আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, সীমিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক সম্ভাবনাও তুলে ধরতে চায়। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জলবায়ু সম্মেলনে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন—দুই ক্ষেত্রকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।

অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে কম দায়ী হলেও অনেক দেশ এর বিরূপ প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব দেশের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যকর ও সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন।

কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ ও জাতীয় সংলাপের লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা। জলবায়ু অভিযোজন, জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশবান্ধব শিল্পের বিকাশ এবং ন্যায্য অর্থায়নের বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।