মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনার আশঙ্কা, ইরানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সতর্কতা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
- মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন দূতাবাসে কর্মী কমানোর নির্দেশ
মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশটির কূটনৈতিক মিশনগুলোকে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের হাতে আসা ২৩ অক্টোবরের একটি মেমোতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক পাতার ওই মেমোতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য দ্রুত দূতাবাসগুলোর কর্মীদের জানানো প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে এই গোয়েন্দা তথ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তবে মেমোতে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কোনো নির্দিষ্ট দেশ কিংবা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকৃতি উল্লেখ করা হয়নি। এতে শুধু জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ইতোমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক মিশনগুলোর ঝুঁকিতে থাকা কর্মীদের কাছে তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তার মাত্রা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছেন ক্লেটন। এর উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আগেভাগে সতর্ক করা।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং জেদ্দা ও দাহরানের কনস্যুলেট থেকে কর্মীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একটি বড় অংশকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক্সিওস জানিয়েছে, গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও কর্মী কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, হুতিদের হামলা এবং ইরানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা-সংক্রান্ত হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এসব মিশনে শুধু জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন অভিযানের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি সীমিত সামরিক অভিযান চালাতে পারে, অথবা তেহরান একটি চুক্তিতে সম্মত হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ইরান যদি বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে আসবে। তবে ইরান সে পথে এগোবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এবং আলোচনার সুযোগ—দুই দিকই উঠে এসেছে। এর মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সতর্কতা ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে প্রকাশিত মেমোতে ইরানের কথিত পরিকল্পনার পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ, সম্ভাব্য হামলার সময় কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গোয়েন্দা সতর্কতার প্রকৃত ব্যাপ্তি ও সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।























