ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

জীবনযাত্রার ব্যয় ঘিরে উত্তাল ফ্রান্স, সহিংসতা নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার অবনতি ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকট ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হয়েছে। এদিকে ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘চলুন যোগ দিই’।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের বড় একটি অংশ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিভিন্ন স্থানে সরকারি ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিমোজ শহরের সিটি হল, মার্সেইয়ের সিটি হল এবং লিওঁ শহরের পর্যটন কার্যালয়কে ঘিরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে একাধিক অসন্তোষ। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জনসেবার মান নিয়ে হতাশা এবং স্কুলগুলোতে শিক্ষকসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে তা বিস্তৃত হয়ে সরকারের নীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশে রূপ নেয়।

বিক্ষোভের বিস্তৃতি ও সহিংসতা নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সরকারি ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুর এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতার কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। সরকারবিরোধী অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন দেশটির প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্রাম্পের মন্তব্য

ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের বিপ্লবের ইতিহাসকে টেনে এনে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই এবং বিপ্লবে যোগ দিই।’ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলার দেওয়ার একটি প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতা নিয়ে কটাক্ষ করা; এটি বাস্তবে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক আহ্বান নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিবাসন ও অভিবাসীদের সমাজে একীভূত হওয়ার নীতিকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করেন। তবে ফ্রান্সের বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই অস্থিরতা দেশটির রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করেছে। জনজীবনের ব্যয় কমানো, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও ফরাসি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জীবনযাত্রার ব্যয় ঘিরে উত্তাল ফ্রান্স, সহিংসতা নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ

আপডেট সময় : ০৫:৩১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার অবনতি ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকট ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হয়েছে। এদিকে ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘চলুন যোগ দিই’।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের বড় একটি অংশ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিভিন্ন স্থানে সরকারি ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিমোজ শহরের সিটি হল, মার্সেইয়ের সিটি হল এবং লিওঁ শহরের পর্যটন কার্যালয়কে ঘিরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে একাধিক অসন্তোষ। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জনসেবার মান নিয়ে হতাশা এবং স্কুলগুলোতে শিক্ষকসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে তা বিস্তৃত হয়ে সরকারের নীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশে রূপ নেয়।

বিক্ষোভের বিস্তৃতি ও সহিংসতা নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সরকারি ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুর এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতার কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। সরকারবিরোধী অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন দেশটির প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্রাম্পের মন্তব্য

ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের বিপ্লবের ইতিহাসকে টেনে এনে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই এবং বিপ্লবে যোগ দিই।’ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলার দেওয়ার একটি প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতা নিয়ে কটাক্ষ করা; এটি বাস্তবে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক আহ্বান নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিবাসন ও অভিবাসীদের সমাজে একীভূত হওয়ার নীতিকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করেন। তবে ফ্রান্সের বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই অস্থিরতা দেশটির রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করেছে। জনজীবনের ব্যয় কমানো, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও ফরাসি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।