ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা পাবে ৫ কোটি ডলার

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
দেখতে দেখতে বিশ্বকাপেরও শেষ বাঁশি বেজে উঠার সময় হয়েছে। রোববার স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রায় মাস ‍জুড়ে চলমান বিশ্বকাপের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারের আসরটি ছিলো সবচে বড় ইভেন্ট। বেশি দেশ,বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে গোলের সংখ্যাও বেড়েছে। এমন কি এবারের বিশ্বকাপে প্রাইজ মানিও আগের বিশ্বকাপগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের ক্রীড়া পোর্টাল দ্য অ্যাথলেটিক এই প্রাইজমানির বিস্তারিত হিসাব এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আর্থিক পুরস্কারের বিবরণ তুলে ধরেছে।

 বিশ্বকাপের প্রাইজমানি

গত বছরের ডিসেম্বরে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের (প্রায় ৪ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা) প্রাইজ ফান্ড বা পুরস্কারের তহবিল উন্মোচন করে। যা কিনা চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।

চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালের বিজয়ী দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৩৭৪ কোটি টাকা)। আর রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।  তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের জয়ী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া চার দল মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড প্রত্যেকেদল পাচ্ছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। শেষ ১৬ বা রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে বাদ পড়া আটটি দল পাচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে। আর রাউন্ড অব থার্টিটু বা ৩২ দলের পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল পেয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে।

ফাইনালের ৩৮ দিন আগে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্যই অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিত ছিল। এর মধ্যে যারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তারা পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার এবং এর সঙ্গে ‘প্রস্তুতি খরচ’ হিসেবে আরও ১৫ লাখ ডলার যোগ হয়েছে।

এই পুরস্কারের অর্থ সরাসরি প্রতিটি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ফেডারেশনকে দেওয়া হয়। এরপর সেই সংস্থাগুলো ঠিক করে যে এর কত অংশ খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। প্রাইজমানির বাকি অংশ সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

২০২২ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থের ৮০ শতাংশ পুরুষ ও নারী জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তহবিলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে, যদি তাদের নারী দলটি আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় নারী বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কাছ থেকে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য যে ২ হাজার পাউন্ড ফি পান, তা দাতব্য সংস্থায় দান করে দেন।

একটি অলাভজনক সংস্থা ফিফা প্রথমবার ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ থেকে ১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি (১০ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই হিসাবে এই পুরস্কারের তহবিলটি টুর্নামেন্টের মোট আয়ের প্রায় ৬.৫ শতাংশের সমান।

আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এবারের চিত্র

রাজস্বের এই বড় লাফ ফিফার চার বছরের চক্রের (চলতি টুর্নামেন্টসহ) আয়কে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে (১৩ বিলিয়ন ডলার) নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগের চার বছরের সময়কালে (২০২২ বিশ্বকাপসহ) এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৬০ কোটি ডলার।

কাতারের তুলনায় এবারের আসরে কেবল চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কারের অর্থেই বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। কাতারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা এবারের চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে ৮০ লাখ ডলার কম। এবার দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দেশ ২০২২ সালের ফ্রান্সের চেয়ে ৩০ লাখ ডলার বেশি পাবে। আর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলোর অর্থ আগের চেয়ে ২০ লাখ ডলার করে বেড়েছে।

ফিফা মূলত ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে প্রাইজমানির বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করা শুরু করে। সে বছর স্পেনের মাটিতে বিশ্বজয় করে ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার, যেখানে পুরো টুর্নামেন্টের মোট তহবিল ছিল ২ কোটি ডলার। এরপর থেকে প্রতি বিশ্বকাপেই প্রাইজমানির পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের বিজয়ীরা যে অর্থ পেতে যাচ্ছেন, তা ৪৪ বছর আগে ইতালির পাওয়া অর্থের চেয়ে ২০ গুণেরও বেশি।

অন্যান্য পুরস্কার

আগামী রবিবার যে দলটি বিশ্বকাপ জিতবে, সেই দলের ২৬ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের প্রত্যেকে একটি করে স্বর্ণপদক পাবেন। একইভাবে রানার্স-আপ দল রৌপ্যপদক এবং শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের বিজয়ী দল ব্রোঞ্জপদক লাভ করবে।

১৯৭৮ সালের আগে কেবল ফাইনাল ম্যাচে খেলা ১১ জন খেলোয়াড়কে পদক দেওয়া হতো। তবে ২০০৭ সালে ফিফা ঘোষণা করে যে, ১৯৭৪ এবং তার আগের বিশ্বকাপগুলোতে বিজয়ী দলের যে স্কোয়াড সদস্যরা মূল একাদশে না থাকার কারণে পদক পাননি, তাদের ভূতাপেক্ষভাবে ১২২টি বিজয়ী পদক দেওয়া হবে। এছাড়া ফাইনাল ম্যাচের ম্যাচ অফিশিয়াল বা রেফারিরাও টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পদক পেয়ে থাকেন।

ফাইনাল শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) এবং সেরা গোলরক্ষকের (গোল্ডেন গ্লাভস) জন্য ব্যক্তিগত পুরস্কার দেওয়া হবে, যা ফিফা-স্বীকৃত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ভোটে নির্ধারিত হয়। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’-এর লড়াইটি এবার আধুনিক সময়ের মধ্যে সেরা রূপ নিয়েছে, যেখানে মেসি, এমবাপ্পে, হাল্যান্ড, বেলিংহাম এবং হ্যারি কেইন প্রত্যেকেই দারুণ ছন্দে রয়েছেন। তবে এই ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর সঙ্গে আলাদা কোনও আর্থিক পুরষ্কার বা অর্থ দেওয়া হয় না, এটি মূলত ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার এক পরম সম্মান মাত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা পাবে ৫ কোটি ডলার

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
দেখতে দেখতে বিশ্বকাপেরও শেষ বাঁশি বেজে উঠার সময় হয়েছে। রোববার স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রায় মাস ‍জুড়ে চলমান বিশ্বকাপের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারের আসরটি ছিলো সবচে বড় ইভেন্ট। বেশি দেশ,বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে গোলের সংখ্যাও বেড়েছে। এমন কি এবারের বিশ্বকাপে প্রাইজ মানিও আগের বিশ্বকাপগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের ক্রীড়া পোর্টাল দ্য অ্যাথলেটিক এই প্রাইজমানির বিস্তারিত হিসাব এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আর্থিক পুরস্কারের বিবরণ তুলে ধরেছে।

 বিশ্বকাপের প্রাইজমানি

গত বছরের ডিসেম্বরে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের (প্রায় ৪ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা) প্রাইজ ফান্ড বা পুরস্কারের তহবিল উন্মোচন করে। যা কিনা চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।

চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালের বিজয়ী দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৩৭৪ কোটি টাকা)। আর রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।  তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের জয়ী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া চার দল মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড প্রত্যেকেদল পাচ্ছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। শেষ ১৬ বা রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে বাদ পড়া আটটি দল পাচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে। আর রাউন্ড অব থার্টিটু বা ৩২ দলের পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল পেয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে।

ফাইনালের ৩৮ দিন আগে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্যই অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিত ছিল। এর মধ্যে যারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তারা পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার এবং এর সঙ্গে ‘প্রস্তুতি খরচ’ হিসেবে আরও ১৫ লাখ ডলার যোগ হয়েছে।

এই পুরস্কারের অর্থ সরাসরি প্রতিটি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ফেডারেশনকে দেওয়া হয়। এরপর সেই সংস্থাগুলো ঠিক করে যে এর কত অংশ খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। প্রাইজমানির বাকি অংশ সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

২০২২ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থের ৮০ শতাংশ পুরুষ ও নারী জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তহবিলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে, যদি তাদের নারী দলটি আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় নারী বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কাছ থেকে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য যে ২ হাজার পাউন্ড ফি পান, তা দাতব্য সংস্থায় দান করে দেন।

একটি অলাভজনক সংস্থা ফিফা প্রথমবার ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ থেকে ১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি (১০ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই হিসাবে এই পুরস্কারের তহবিলটি টুর্নামেন্টের মোট আয়ের প্রায় ৬.৫ শতাংশের সমান।

আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এবারের চিত্র

রাজস্বের এই বড় লাফ ফিফার চার বছরের চক্রের (চলতি টুর্নামেন্টসহ) আয়কে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে (১৩ বিলিয়ন ডলার) নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগের চার বছরের সময়কালে (২০২২ বিশ্বকাপসহ) এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৬০ কোটি ডলার।

কাতারের তুলনায় এবারের আসরে কেবল চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কারের অর্থেই বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। কাতারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা এবারের চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে ৮০ লাখ ডলার কম। এবার দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দেশ ২০২২ সালের ফ্রান্সের চেয়ে ৩০ লাখ ডলার বেশি পাবে। আর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলোর অর্থ আগের চেয়ে ২০ লাখ ডলার করে বেড়েছে।

ফিফা মূলত ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে প্রাইজমানির বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করা শুরু করে। সে বছর স্পেনের মাটিতে বিশ্বজয় করে ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার, যেখানে পুরো টুর্নামেন্টের মোট তহবিল ছিল ২ কোটি ডলার। এরপর থেকে প্রতি বিশ্বকাপেই প্রাইজমানির পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের বিজয়ীরা যে অর্থ পেতে যাচ্ছেন, তা ৪৪ বছর আগে ইতালির পাওয়া অর্থের চেয়ে ২০ গুণেরও বেশি।

অন্যান্য পুরস্কার

আগামী রবিবার যে দলটি বিশ্বকাপ জিতবে, সেই দলের ২৬ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের প্রত্যেকে একটি করে স্বর্ণপদক পাবেন। একইভাবে রানার্স-আপ দল রৌপ্যপদক এবং শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের বিজয়ী দল ব্রোঞ্জপদক লাভ করবে।

১৯৭৮ সালের আগে কেবল ফাইনাল ম্যাচে খেলা ১১ জন খেলোয়াড়কে পদক দেওয়া হতো। তবে ২০০৭ সালে ফিফা ঘোষণা করে যে, ১৯৭৪ এবং তার আগের বিশ্বকাপগুলোতে বিজয়ী দলের যে স্কোয়াড সদস্যরা মূল একাদশে না থাকার কারণে পদক পাননি, তাদের ভূতাপেক্ষভাবে ১২২টি বিজয়ী পদক দেওয়া হবে। এছাড়া ফাইনাল ম্যাচের ম্যাচ অফিশিয়াল বা রেফারিরাও টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পদক পেয়ে থাকেন।

ফাইনাল শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) এবং সেরা গোলরক্ষকের (গোল্ডেন গ্লাভস) জন্য ব্যক্তিগত পুরস্কার দেওয়া হবে, যা ফিফা-স্বীকৃত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ভোটে নির্ধারিত হয়। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’-এর লড়াইটি এবার আধুনিক সময়ের মধ্যে সেরা রূপ নিয়েছে, যেখানে মেসি, এমবাপ্পে, হাল্যান্ড, বেলিংহাম এবং হ্যারি কেইন প্রত্যেকেই দারুণ ছন্দে রয়েছেন। তবে এই ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর সঙ্গে আলাদা কোনও আর্থিক পুরষ্কার বা অর্থ দেওয়া হয় না, এটি মূলত ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার এক পরম সম্মান মাত্র।