ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ছয় দফা দাবি রেখে সচিবালয়ের সামনে থেকে সরে দাড়ালো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল মিলনের পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার পর রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় থেকে লংমার্চ নিয়ে সচিবালয়ের সামনে জড়ো হন তারা। পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সচিবালয়ের সামনে থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরে গেছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এডিসি রব্বানী হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষে সরে যাওয়ায় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এ কে এম রিয়াজুল বলেন, আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা আছে, তাই এখানের কর্মসূচি আমরা শেষ করেছি। তবে আমাদের দাবি বহাল থাকবে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের স্থান ছাড়ার আগে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করে। তাদের ওই দাবিগুলো মানা না হলে পুনরায় আন্দোলনে মাঠে নামবে তারা। দাবিগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- পুনরায় পরীক্ষা ও সর্বোচ্চ নম্বর ( দুর্যোগপূর্ণ সময়ে হওয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পুনরায় সুযোগ দেওয়া এবং দুই পরীক্ষার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর গণ্য করা।), ভুল প্রশ্নের নম্বর ( প্রশ্নপত্রে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে পূর্ণ নম্বর প্রদান।),পরীক্ষার সময়সূচি (বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য সময় দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ।),প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন (হঠাৎ প্রশ্নের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা।), পরিদর্শকদের আচরণ(পরীক্ষার হলে শিক্ষকদের কঠোর বা বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করা।)

রমনা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা প্রধানমন্ত্রী এখানে অফিস করেন। এখানকার কোনো বিষয়কে আমরা ছোট করে দেখি না। যার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সড়কটিকে বন্ধ করে দিয়েছি। ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় হীনতায় পরবর্তীতে নিজেরাই সড়ক ছেড়ে চলে যায়। এরপর আমরা সড়কে দেওয়া ব‍্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেই।

এই আন্দোলনে ছাত্র ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন ছাত্ররা বা অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা সেটা আমরা যাচাই করতে পারিনি। তথ্য প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।

প্রসঙ্গত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলমান রাখার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিজের বিদ্রুপ মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ক্ষমা চাইলেও তাদের দাবি পূরণ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র ও হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার পরীক্ষা নেয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডের সামনে, রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, উত্তরা, ময়মনসিংহ বরিশাল, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একপর্যায়ে বিকেলে সংসদ ভবন এলাকার সামনে অবস্থান নেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এরপর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ আহত হয়ে থাকলে, সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ছয় দফা দাবি রেখে সচিবালয়ের সামনে থেকে সরে দাড়ালো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৭:০০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল মিলনের পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার পর রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় থেকে লংমার্চ নিয়ে সচিবালয়ের সামনে জড়ো হন তারা। পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সচিবালয়ের সামনে থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরে গেছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এডিসি রব্বানী হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষে সরে যাওয়ায় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এ কে এম রিয়াজুল বলেন, আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা আছে, তাই এখানের কর্মসূচি আমরা শেষ করেছি। তবে আমাদের দাবি বহাল থাকবে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের স্থান ছাড়ার আগে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করে। তাদের ওই দাবিগুলো মানা না হলে পুনরায় আন্দোলনে মাঠে নামবে তারা। দাবিগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- পুনরায় পরীক্ষা ও সর্বোচ্চ নম্বর ( দুর্যোগপূর্ণ সময়ে হওয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পুনরায় সুযোগ দেওয়া এবং দুই পরীক্ষার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর গণ্য করা।), ভুল প্রশ্নের নম্বর ( প্রশ্নপত্রে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে পূর্ণ নম্বর প্রদান।),পরীক্ষার সময়সূচি (বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য সময় দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ।),প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন (হঠাৎ প্রশ্নের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা।), পরিদর্শকদের আচরণ(পরীক্ষার হলে শিক্ষকদের কঠোর বা বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করা।)

রমনা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা প্রধানমন্ত্রী এখানে অফিস করেন। এখানকার কোনো বিষয়কে আমরা ছোট করে দেখি না। যার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সড়কটিকে বন্ধ করে দিয়েছি। ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় হীনতায় পরবর্তীতে নিজেরাই সড়ক ছেড়ে চলে যায়। এরপর আমরা সড়কে দেওয়া ব‍্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেই।

এই আন্দোলনে ছাত্র ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন ছাত্ররা বা অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা সেটা আমরা যাচাই করতে পারিনি। তথ্য প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।

প্রসঙ্গত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলমান রাখার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিজের বিদ্রুপ মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ক্ষমা চাইলেও তাদের দাবি পূরণ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র ও হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার পরীক্ষা নেয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডের সামনে, রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, উত্তরা, ময়মনসিংহ বরিশাল, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একপর্যায়ে বিকেলে সংসদ ভবন এলাকার সামনে অবস্থান নেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এরপর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ আহত হয়ে থাকলে, সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’