ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আকাশ ছোঁয়ার পথে মেসি, আর্জেন্টিনা তিনে তিন

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একপেশে দাপট,অনন্য মেসি। প্রতিম্যাচেই যার নতুন নতুন রেকর্ড। মাঠে নামা মানেই তার যাদুকরী গোলের দেখা। বিশ্বকাপ মঞ্চে এই আর্জেন্টাইন একাই ছুটছেন আকাশ ছোঁয়ার পথে। শতবর্ষ ফুটবলেও যেখানে যার কৃতিত্ব অমর হয়ে থাকবে। মেসি এখন ফুটবলে নতুন সাহিত্য,গল্প-মহাকাব্য। বয়স হয়েছে! তাকে ঘিরে এমন ভাবনাই যেন অন্যায়। পাসিং,প্লেসি,ড্রিবলিং এমন কি গতিতেও তিনি এখনো অনন্য। দশর্ক চাহিদা মেটাতে গিয়ে শেষ পনের মিনিটেও দিলেন গোল উপহার। গ্রুপ পর্বে তার কল্যাণেই শতভাগ জয়ে আর্জেন্টিনা গ্রুপ শর্ষে। জর্দানকে হারালো ৩-১ গোলের ব্যবধানে। 

মাঠে নামার মোটেই ইচ্ছা ছিলো না মেসি। টানা দুই ম্যাচে তার পাঁচ গোলের কল্যাণে এক ম্যাচ আগেই নক আউট নিশ্চিত ছিলো আর্জেন্টিনার। জর্দোনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিলো নিতান্তই আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু যারা টিকিট কেটে মাঠে এসেছিলেন তারা যে মেসির খেলা থেকে অবাঞ্চিত হবেন! যে কারণে মেসিকে শেষের দিকে মাঠে নামিয়ে দর্শক চাহিদাই কি শুধু পূরণ করলেন। আর সেটা পূরণ করতে গিয়ে মেসিও নিজেকে নিয়ে গেলেন আরেকটু উচ্চতায়।

আর্জেন্টাইন অধিনায়কের মাঠে নামা ও রেকর্ড গড়া একটি আরেকটির সঙ্গে প্রবলভাবে জড়িয়ে গেছে। আগের ম্যাচেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা দখলে নিয়েছিলেন। আজ সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেলেন ১৯-এ। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করারও অনন্য এক কীর্তিতে নাম লেখালেন লিওনেল মেসি।

এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের দিনে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। এবার বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ৭ ম্যাচে গোল করার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন। এ ছাড়া চলমান বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোলও হয়ে গেল তার। গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা এই তারকা আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর  অস্ট্রিয়া ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন।

ম্যাচটিতেই জর্ডানের এক গোল বাদে তারা আর লড়াই জমিয়ে তোলার মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি। ৭৪ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি আর্জেন্টাইনদের ১১ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে ৪ শটের স্রেফ একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে জর্ডান। উল্টো আর্জেন্টিনার তিন গোলের সবকটিই নিজেদের বক্সের সামনে এবং গোলমুখে ফাউলের মাধ্যমে তারা সুযোগ করে দেয়।

এর আগে ডালাস স্টেডিয়ামে এদিন যেন নতুন এক দল নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। দুজন বাদে বাকি ৯ জনকে পরিবর্তন করে একাদশ সাজান। এ যেন নকআউটের আগে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষার দারুণ উপলক্ষ্য। শুরু থেকে জর্ডানের রক্ষণকে চেপে ধরা আর্জেন্টিনা প্রথম লিড পায় ১৯ মিনিটে, দারুণ এক ফ্রি-কিকে গোলটি করেন জিওভান্নি লো সেলসো। তিনি বল নিয়ে জর্ডানের বক্সে ঢোকার মুখে কড়া চ্যালেঞ্জে ফেলেন আবু তাহা। রেফারি ফ্রি-কিক দিলে আর্জেন্টিনার এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বাঁ পায়ে নিখুঁত শট নিয়েছেন।

তার সামনে জর্ডানের মানব দেয়াল দাঁড়ালেও, ফাঁকা ছিল একপাশ। সেই জায়গাটিকেই কাজে লাগিয়ে লো সেলসোর গোলবার ঘেঁষে নেওয়া শটটি যেন ঠেকানোরও চেষ্টা করলেন না জর্ডান গোলরক্ষক। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেলেন লো সেলসো।

৩০ মিনিটের মাথায় নিকোলাস তালিয়াফিকোর লো ক্রসে বল পেয়ে লাউতারো মার্টিনেজ শট নিলে ঠেকিয়ে দেন জর্ডান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লায়লা। এরপর ফিরতি বলে হেড দেন হুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু বল ক্লিয়ারের চেষ্টায় তাকে বুট দিয়ে আঘাত করেন এহসান হাদ্দাদ। অথচ আলভারেজের হেডটিও হাত ছুঁয়ে দারুণভাবে বারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন জর্ডান গোলরক্ষক। কিন্তু তার অনবদ্য দুই সেভই ভেস্তে গেল সতীর্থের ফাউলে। স্পটকিকে চলতি আসরে নিজের প্রথম গোল করতে ভুল হয়নি লাউতারোর।

এই ম্যাচে জর্দানের প্রাপ্তিটা আর্জেন্টিনার জালে এক গোল করা। অন্য দিকে আর্জেন্টিনার তিন ম্যাচেই তিনটি করে গোল করার কৃতিত্ব দেখালো। নক আউটে তাদের প্রতিপক্ষ নবাগত কেপভার্দে।

আগামী ৪ জুলাই ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। নবাগত এই দলটিকে হালকা করে দেখেন নি। জর্দনের বিপক্ষে জয়ের দিনে সেই দু:স্বপ্নটাই ব্যক্ত করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ স্ক্যালোনি।

তিনি বলেন, ‘ওরা ভালো দল, (গ্রুপপর্বে) তিন প্রতিপক্ষের জন্যই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, আমাদের জন্যও সমস্যা তৈরি করবে।’

তাদের ঘিরে আর্জেন্টাইন কোচের সতর্ক বার্তা, ‘কারণ তারা ইতোমধ্যে স্পেনের মতো অন্যতম ফেভারিট দল, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষেও তা (কঠিন লড়াই) করেছে। এই বিশ্বকাপে আমরা যেসব বিষয় দেখছি, তাতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তারা দ্রুতগতির দল, মানসম্পন্ন এবং ভালো একটি দল।’

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আকাশ ছোঁয়ার পথে মেসি, আর্জেন্টিনা তিনে তিন

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

একপেশে দাপট,অনন্য মেসি। প্রতিম্যাচেই যার নতুন নতুন রেকর্ড। মাঠে নামা মানেই তার যাদুকরী গোলের দেখা। বিশ্বকাপ মঞ্চে এই আর্জেন্টাইন একাই ছুটছেন আকাশ ছোঁয়ার পথে। শতবর্ষ ফুটবলেও যেখানে যার কৃতিত্ব অমর হয়ে থাকবে। মেসি এখন ফুটবলে নতুন সাহিত্য,গল্প-মহাকাব্য। বয়স হয়েছে! তাকে ঘিরে এমন ভাবনাই যেন অন্যায়। পাসিং,প্লেসি,ড্রিবলিং এমন কি গতিতেও তিনি এখনো অনন্য। দশর্ক চাহিদা মেটাতে গিয়ে শেষ পনের মিনিটেও দিলেন গোল উপহার। গ্রুপ পর্বে তার কল্যাণেই শতভাগ জয়ে আর্জেন্টিনা গ্রুপ শর্ষে। জর্দানকে হারালো ৩-১ গোলের ব্যবধানে। 

মাঠে নামার মোটেই ইচ্ছা ছিলো না মেসি। টানা দুই ম্যাচে তার পাঁচ গোলের কল্যাণে এক ম্যাচ আগেই নক আউট নিশ্চিত ছিলো আর্জেন্টিনার। জর্দোনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিলো নিতান্তই আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু যারা টিকিট কেটে মাঠে এসেছিলেন তারা যে মেসির খেলা থেকে অবাঞ্চিত হবেন! যে কারণে মেসিকে শেষের দিকে মাঠে নামিয়ে দর্শক চাহিদাই কি শুধু পূরণ করলেন। আর সেটা পূরণ করতে গিয়ে মেসিও নিজেকে নিয়ে গেলেন আরেকটু উচ্চতায়।

আর্জেন্টাইন অধিনায়কের মাঠে নামা ও রেকর্ড গড়া একটি আরেকটির সঙ্গে প্রবলভাবে জড়িয়ে গেছে। আগের ম্যাচেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা দখলে নিয়েছিলেন। আজ সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেলেন ১৯-এ। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করারও অনন্য এক কীর্তিতে নাম লেখালেন লিওনেল মেসি।

এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের দিনে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। এবার বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ৭ ম্যাচে গোল করার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন। এ ছাড়া চলমান বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোলও হয়ে গেল তার। গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা এই তারকা আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর  অস্ট্রিয়া ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন।

ম্যাচটিতেই জর্ডানের এক গোল বাদে তারা আর লড়াই জমিয়ে তোলার মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি। ৭৪ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি আর্জেন্টাইনদের ১১ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে ৪ শটের স্রেফ একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে জর্ডান। উল্টো আর্জেন্টিনার তিন গোলের সবকটিই নিজেদের বক্সের সামনে এবং গোলমুখে ফাউলের মাধ্যমে তারা সুযোগ করে দেয়।

এর আগে ডালাস স্টেডিয়ামে এদিন যেন নতুন এক দল নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। দুজন বাদে বাকি ৯ জনকে পরিবর্তন করে একাদশ সাজান। এ যেন নকআউটের আগে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষার দারুণ উপলক্ষ্য। শুরু থেকে জর্ডানের রক্ষণকে চেপে ধরা আর্জেন্টিনা প্রথম লিড পায় ১৯ মিনিটে, দারুণ এক ফ্রি-কিকে গোলটি করেন জিওভান্নি লো সেলসো। তিনি বল নিয়ে জর্ডানের বক্সে ঢোকার মুখে কড়া চ্যালেঞ্জে ফেলেন আবু তাহা। রেফারি ফ্রি-কিক দিলে আর্জেন্টিনার এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বাঁ পায়ে নিখুঁত শট নিয়েছেন।

তার সামনে জর্ডানের মানব দেয়াল দাঁড়ালেও, ফাঁকা ছিল একপাশ। সেই জায়গাটিকেই কাজে লাগিয়ে লো সেলসোর গোলবার ঘেঁষে নেওয়া শটটি যেন ঠেকানোরও চেষ্টা করলেন না জর্ডান গোলরক্ষক। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেলেন লো সেলসো।

৩০ মিনিটের মাথায় নিকোলাস তালিয়াফিকোর লো ক্রসে বল পেয়ে লাউতারো মার্টিনেজ শট নিলে ঠেকিয়ে দেন জর্ডান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লায়লা। এরপর ফিরতি বলে হেড দেন হুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু বল ক্লিয়ারের চেষ্টায় তাকে বুট দিয়ে আঘাত করেন এহসান হাদ্দাদ। অথচ আলভারেজের হেডটিও হাত ছুঁয়ে দারুণভাবে বারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন জর্ডান গোলরক্ষক। কিন্তু তার অনবদ্য দুই সেভই ভেস্তে গেল সতীর্থের ফাউলে। স্পটকিকে চলতি আসরে নিজের প্রথম গোল করতে ভুল হয়নি লাউতারোর।

এই ম্যাচে জর্দানের প্রাপ্তিটা আর্জেন্টিনার জালে এক গোল করা। অন্য দিকে আর্জেন্টিনার তিন ম্যাচেই তিনটি করে গোল করার কৃতিত্ব দেখালো। নক আউটে তাদের প্রতিপক্ষ নবাগত কেপভার্দে।

আগামী ৪ জুলাই ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। নবাগত এই দলটিকে হালকা করে দেখেন নি। জর্দনের বিপক্ষে জয়ের দিনে সেই দু:স্বপ্নটাই ব্যক্ত করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ স্ক্যালোনি।

তিনি বলেন, ‘ওরা ভালো দল, (গ্রুপপর্বে) তিন প্রতিপক্ষের জন্যই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, আমাদের জন্যও সমস্যা তৈরি করবে।’

তাদের ঘিরে আর্জেন্টাইন কোচের সতর্ক বার্তা, ‘কারণ তারা ইতোমধ্যে স্পেনের মতো অন্যতম ফেভারিট দল, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষেও তা (কঠিন লড়াই) করেছে। এই বিশ্বকাপে আমরা যেসব বিষয় দেখছি, তাতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তারা দ্রুতগতির দল, মানসম্পন্ন এবং ভালো একটি দল।’