ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ব্রাজিলের সাথে নক আউটে মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, দ.আফ্রিকা,কানাডা ও মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপ ফুটবলের নক আউট পর্বে  বুধবার আরো ছয়টি দেশ নিশ্চিত করলো। প্রত্যাশিত ব্রাজিল,মেক্সিকো,সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা। ব্রাজিল ৩-০ গোলে স্কল্যান্ডকে, মেক্সিকো ৩-০ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে, সুইজারল্যান্ড ২-১ গোলে কানাডাকে,মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে প্রথম রাউন্ডের বাধা অতিক্রম করে। কানাডা হারলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে নক আউটে জায়গা করে নেয় কানাডা। 

চেনা রুপে ব্রাজিল

এবারের বিশ্বকাপ মঞ্চের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর কাছে হারতে হারতে শেষ ড্রয়ে সম্মান রক্ষা হয় ব্রাজিলের। সেই দলটিই শেষ গ্রুপ সেরা হয়ে গেল। ক্রমাগত চেনা রুপে ফিরে ব্রাজিল পরের দুই ম্যাচে পেল টানা জয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো কোন প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। শেষ ম্যাচে প্রথমবারের মতো নেইমারের মাঠে নামার দিকে ছিল সবার দৃষ্টি। শেষ বিশ মিনিট তাকে মাঠে নামালেন ব্রাজিলিয়ান কোচ।  নেইমবার মাঠে নামতেই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমস্ত ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

South Africa

যদিও এর আগেই ম্যাচ জয়ের চাপ মাটিতে নামিয়ে রেখেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতি ম্যাচেই পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন তিনি। তিন ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচসেরা, গোল চারটি। গোল্ডেন বুটের জয়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির চেয়ে এক গোল পেছনে। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের দুই গোলের মাঝেরটি বাতিল না হলে হ্যাটট্রিক হতো এবং নামের পাশে গোলসংখ্যা হতে পারতো পাঁচটি।

দুই বছরেরও বেশি সময় পর ‘হলুদ জার্সি’ গায়ে জড়িয়ে নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামা কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে গেছে। দলের একজন অন্যতম নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ভিনিসিয়ুস। তিনি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে নামেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। তরুণ এই ফুটবলারের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘রায়ান আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই অসাধারণ। বয়স কম হলেও তার মধ্যে পরিণতিবোধ দারুণ। কঠোর পরিশ্রমী গুণ সবই আছে। সত্যি বলতে, তার সামর্থ্যের শেষ কোথায়, সেটা কেউ জানে না।’

ভিনিসিয়ুসের হেড গোল নজর কেড়েছে আনচেলত্তির, ‘আজ সে হেড থেকেও গোল করেছে, যা তার ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায় না। ভিনিসিয়ুসকে নতুন করে আবিষ্কার করার কিছু নেই। আমার কাছে সে বিশ্বের সেরাদের একজন।’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ যে ব্রাজিলের জন্য বিপজ্জনক নয়, তা দ্রুতই প্রমাণিত হয়। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের কৌশল ছিল কাউন্টার-অ্যাটাকের সঠিক সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা, কিন্তু সেই সুযোগ আসেইনি। বরং রায়ান, কুনহা ও ভিনির আক্রমণ থামাতে বেশিরভাগ সময় রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ইউরোপীয় দলটির। তাদের হাইপ্রেসে ঘাটতির কারণে ব্রাজিল খুব সহজেই বল দেওয়া-নেওয়া করার সুযোগ পায় এবং গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগায়। গোল তিনটি করেন ভিনিয়ুস যথাক্রম ৭ ও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়, মাতেউস কুনিয়া ৬০ মিনিট।

তিন গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড বাধ্য হয়ে আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিল রক্ষণভাগে কিছুটা চাপে পড়ে। আর ঠিক তখনই দলের সাথে সাথে নিজেকে সামনে নিয়ে আসেন আলিসন। ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক তার কাছে আসা প্রতিটি আক্রমণ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে সামাল দিয়েছেন। এই অর্ধে পাঁচ পাঁচটি শট ঠেকিয়ে ব্যবধান কমতে দেননি তিনি। ৬৪ মিনিটে ফার্গুসনের ফ্রি কিক ও পরের মিনিটে ম্যাকটমিনের হেড ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন আলিসন।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটের সময় ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সি পরা ফরোয়ার্ড নেইমার একটি গোলের অপেক্ষায় দর্শকরা অধীর আগ্রহে ছিলেন। ৯০ মিনিটে তার লক্ষ্যে নেওয়া একটি শট ঠেকাতে কষ্ট করতে হয়নি গোলকিপার গুনকে। তার পাস থেকেই ভিনিসিয়ুসের হ্যাটট্রিকের একটি সুযোগ এসেছিল। তিনি গোল করতে না পারলেও আভাস দিলেন, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে তার জুটি ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষকে বড় বিপদে ফেলতে যাচ্ছে।

দু’বার পিছিয়ে থেকেও দারুণ জয়ে নকআউটে মরক্কো

চলতি বিশ্বকাপে ছোট দলগুলোর কড়া পারফরম্যান্স লক্ষণীয়। হাইতির বাধা অতিক্রম করতে গিয়ে যেমন ব্রাজিলকে বেগ পেতে হয়েছিলো,ঠিক মরক্কোকে প্রায় কাঁদিয়ে ছাড়ে ৫২ বছর পর ফুটবলের সবচে বড় মঞ্চে ফেরা হাইতি। মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্টের আশায় দু’দুবার এগিয়ে যায় দলটি। আশরাফ হাকিমি-ইসমাইল সাইবারিদের গোলে শেষ ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় মরক্কো এবং ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে।

Image

গোল চারটি হয় যথাক্রমে মরক্কোর পক্ষে হাকিমি ৩৯,ইসমাইল সাইবেরি প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে, মরক্কোর হয়ে সুপিয়ান রহিমী ৭৮ মিনিটে, গেসিম ইয়াসিন ৮৯ মিনিটে এবং হাইতির হয়ে ইয়াসিন বনো ১০ মিনিটে ও উইলসন ইসিদোর ৪৮ মিনিটে গোল করেন।

যদিও সবদিক থেকেই ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল হাকিমি-দিয়াজদের। ৭০ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি তাদের ২২ শটের ১১টিই লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে কেবল দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে হাইতি। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে ২-২ গোলের সমতায় ছিলো।

ম্যাচের দশম মিনিটেই চমক দেখিয়ে এগিয়ে যায় হাইতি। ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে গোলের দেখা পায় দলটি। লেনি জোসেফ নিকটবর্তী পোস্টে ব্যাক-হিল ফ্লিক করে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে পরাস্ত করেন। এর মাধ্যমে ১৯৭৪ আসরের পর বিশ্বকাপে হাইতির প্রথম গোলদাতা হলেন লেনি। সর্বশেষ আসরে দেশটির হয়ে গোল করেছিলেন ইমানুয়েল স্যানন।

৩৯তম মিনিটে মরক্কোকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক হাকিমি। বিলাল আল খানুসের ডিফ্লেক্টেড ক্রস হাইতির গোলরক্ষক জনি প্ল্যাসাইড হাত ছোঁয়াতে সক্ষম হলেও বল পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হাকিমি বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান মরক্কোকে।

 আশা জিঁইয়ে থাকলো বসনিয়ার
জয়টা একটু দেরিতেই এসেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার। যদিও ব্যবধানটা আরও বেশ বড় হলে তারা সরাসরি বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে যেতো। এখন গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় হওয়ায় নক আউটে উঠার ভালোভাবে আশা জিঁইয়ে থাকলো  বসনিয়ার। কাতারের নিশ্চিত বিদায় ম্যাচে তারা জিতেছে ৩-১ গোলে। বিজয়ী দলের গোল তিনটি করেন যথাকমে- করিম আলাম বেগভিচ ২৯ মিনিট, মাহমুদ আবুনাদা ৩৪ মিনিটে,এরমিন মাহমিক ৮০ মিনিটে। অন্যদিকে কাতারের একমাত্র গোলটি করেন হাসসান আল হেইদোস ৪২ মিনিটে।

Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বনাম কাতার হাইলাইটস | ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: BHI ৩-১ QAT; বসনিয়ার হয়ে গোল করলেন মাহমিচ ও আলাদবেগোভিচ - SportstarImage

নক আউটে ৩২ দল খেলবে। গ্রুপ সেরা ২৪ দলের সাথে তৃতীয় সেরা ৮ দল খেলবে নক আউটে। একই গ্রুপ থেকে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা নক আউটে খেলবে। কানাডারও পয়েন্ট বসনিয়ার সমান ৪ ছিলো। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তারা সুযোগ পেয়ে যায়। এর আগে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল, ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসরে ইরানকে হারালেও তাদের বিদায় হয় গ্রুপপর্বে। এবার তাদের সামনে নকআউটে উঠে ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাগতিকদের হারিয়ে গ্রুপ সেরা সুইজারল্যান্ড

ঘরের মাঠে দারুণ লড়াই করেছিলো কানাডা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আক্রমান-পাল্টা আক্রমনে গোলশুন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় কানাডা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সুইসদের আক্রমনে শেষ ঠেকিয়ে রাখতে পারিনি কানাডা। বিরতির পর মাঠে নেমেই গোল হজম করে। বারো মিনিটের ব্যবধানে আরা একটি গোল। ২-০ গোলে পিছিয়ে যায় ম্যাচের ৫৬ মিনিটের সময়। শেষ দিকে এক গোল পরিশোধ করে সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ আর হয়নি। মাঠ ছাড়তে হয় শেষ ২-১ ব্যবধানে। এই জয় তাদের গ্রুপ সেরা করেছে। তবে হারলেও সুইসদের সাথে কানাডাও দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুসংবাদ পেয়ে যায়।

সুইজারল্যান্ড ২-১ কানাডা, বিশ্বকাপ ২০২৬: ইউরোপীয় দল গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করল, আয়োজকরা ইতিহাস গড়ল।

সুইজারল্যান্ডের হয়ে একটি করে গোল করেছেন রুবেন ভার্গাস এবং জোহান মানজাম্বি। অন্যদিকে কানাডার হয়ে শেষ দিকে প্রোমিস ডেভিড একমাত্র গোলে ব্যবধান কমান। ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সুইসরা আগামী ২ জুলাই ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ৩২-এর ম্যাচে কোনো একটি তৃতীয়-স্থানধারী দলের মুখোমুখি হবে।

অন্যদিকে গ্রুপের শীর্ষে থেকে নিজ দেশে খেলার সুযোগ ধরে রাখতে কানাডার জয় বা ড্র প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হারের কারণে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে যেতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। আগামী রোববার সেখানে তারা গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে।

দ.কোরিয়াকে হতাশায় ডুবিয়ে নক আউটে দ.আফ্রিকা

প্রথম ম্যাচে দারুন জয় ছিলো এশিয়ার শক্তিশালী দলটির। কিন্তু এরপরেই টানা দুই হারে বিদায়ের শঙ্কা। আর একটি মাত্র ড্র করতে পারলেই চলতো। কিন্তু কোরিয়া পারেনি নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় নক আউটে অনিশ্চয়তা দুলছে দলটি।

দ. কোরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসKorea

অন্যদিকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিশ্বকাপে উঠে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবার গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে। এছাড়া একটি ব্যক্তিগত রেকর্ডও হয়েছে। ৭৪ বছর ও ৭৫ দিন বয়সী বেলজিয়ান হুগো ব্রুস সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে জাতীয় দলকে টুর্নামেন্টের নকআউটে তুলেছেন।

এখানে কোচ ব্রুস ভেঙেছেন অস্কার তাবারেজের রেকর্ড। উরুগুয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ, যিনি ‘মায়েস্ত্রো’ নামেও পরিচিত। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে আগের রেকর্ড গড়েন ৭১ বছর ও ১২৫ দিন বয়সী তাবারেজ।

মেক্সিকো তিনে তিন

গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচেও হারেনি মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে বিশ্বকাপ যৌথ তিন আয়োজকের একটি এই দেশ। ঘরের মাঠে চেক রিপাবালিকান দলটিকে রীতিমতো উড়িয়ে দিলো,হারালো ৩-০ গোলে।

মেক্সিকো চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে: ওচোয়ার ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড এবং গ্রুপ 'এ'-এর শক্তি।

মাতেও শাভেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে মেক্সিকো তিন ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়েছে। তাতে এ গ্রুপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেকদের।
চেকদের হয়ে একটি প্রচেষ্টা গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন ডেনিস ভিসিনস্কি। তবে মেক্সিকো সিটিতে প্রথমার্ধে এমন সুযোগ খুব কমই এসেছে। আগেই গ্রুপের এক নম্বর জায়গা নিশ্চিত করা মেক্সিকো বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রথম শট নিতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৬ মিনিট। বক্সের প্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের ওভারহেড কিক গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

ডেভিড দোদেরা ও কুইনোনেস দূর পাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে যায়। হোর্হে সানচেজের শটে প্রথম সেভ করেন চেক গোলকিপার মাতেজ কোভার।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। এক ঘণ্টার আগেই ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে তারা। দল ভালো অবস্থানে থাকার পর মেক্সিকো ৪০ বছর বয়সী কিপার গুইলেরমো ওচোয়াকে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেন। স্টপেজ টাইমে মেক্সিকো আরেকটি গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা আগামী ১ জুলাই শেষ ৩২ এর ম্যাচ খেলবে তৃতীয় সেরা একটি দলের সঙ্গে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্রাজিলের সাথে নক আউটে মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, দ.আফ্রিকা,কানাডা ও মরক্কো

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের নক আউট পর্বে  বুধবার আরো ছয়টি দেশ নিশ্চিত করলো। প্রত্যাশিত ব্রাজিল,মেক্সিকো,সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা। ব্রাজিল ৩-০ গোলে স্কল্যান্ডকে, মেক্সিকো ৩-০ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে, সুইজারল্যান্ড ২-১ গোলে কানাডাকে,মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে প্রথম রাউন্ডের বাধা অতিক্রম করে। কানাডা হারলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে নক আউটে জায়গা করে নেয় কানাডা। 

চেনা রুপে ব্রাজিল

এবারের বিশ্বকাপ মঞ্চের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর কাছে হারতে হারতে শেষ ড্রয়ে সম্মান রক্ষা হয় ব্রাজিলের। সেই দলটিই শেষ গ্রুপ সেরা হয়ে গেল। ক্রমাগত চেনা রুপে ফিরে ব্রাজিল পরের দুই ম্যাচে পেল টানা জয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো কোন প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। শেষ ম্যাচে প্রথমবারের মতো নেইমারের মাঠে নামার দিকে ছিল সবার দৃষ্টি। শেষ বিশ মিনিট তাকে মাঠে নামালেন ব্রাজিলিয়ান কোচ।  নেইমবার মাঠে নামতেই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমস্ত ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

South Africa

যদিও এর আগেই ম্যাচ জয়ের চাপ মাটিতে নামিয়ে রেখেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতি ম্যাচেই পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন তিনি। তিন ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচসেরা, গোল চারটি। গোল্ডেন বুটের জয়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির চেয়ে এক গোল পেছনে। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের দুই গোলের মাঝেরটি বাতিল না হলে হ্যাটট্রিক হতো এবং নামের পাশে গোলসংখ্যা হতে পারতো পাঁচটি।

দুই বছরেরও বেশি সময় পর ‘হলুদ জার্সি’ গায়ে জড়িয়ে নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামা কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে গেছে। দলের একজন অন্যতম নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ভিনিসিয়ুস। তিনি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে নামেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। তরুণ এই ফুটবলারের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘রায়ান আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই অসাধারণ। বয়স কম হলেও তার মধ্যে পরিণতিবোধ দারুণ। কঠোর পরিশ্রমী গুণ সবই আছে। সত্যি বলতে, তার সামর্থ্যের শেষ কোথায়, সেটা কেউ জানে না।’

ভিনিসিয়ুসের হেড গোল নজর কেড়েছে আনচেলত্তির, ‘আজ সে হেড থেকেও গোল করেছে, যা তার ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায় না। ভিনিসিয়ুসকে নতুন করে আবিষ্কার করার কিছু নেই। আমার কাছে সে বিশ্বের সেরাদের একজন।’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ যে ব্রাজিলের জন্য বিপজ্জনক নয়, তা দ্রুতই প্রমাণিত হয়। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের কৌশল ছিল কাউন্টার-অ্যাটাকের সঠিক সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা, কিন্তু সেই সুযোগ আসেইনি। বরং রায়ান, কুনহা ও ভিনির আক্রমণ থামাতে বেশিরভাগ সময় রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ইউরোপীয় দলটির। তাদের হাইপ্রেসে ঘাটতির কারণে ব্রাজিল খুব সহজেই বল দেওয়া-নেওয়া করার সুযোগ পায় এবং গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগায়। গোল তিনটি করেন ভিনিয়ুস যথাক্রম ৭ ও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়, মাতেউস কুনিয়া ৬০ মিনিট।

তিন গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড বাধ্য হয়ে আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিল রক্ষণভাগে কিছুটা চাপে পড়ে। আর ঠিক তখনই দলের সাথে সাথে নিজেকে সামনে নিয়ে আসেন আলিসন। ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক তার কাছে আসা প্রতিটি আক্রমণ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে সামাল দিয়েছেন। এই অর্ধে পাঁচ পাঁচটি শট ঠেকিয়ে ব্যবধান কমতে দেননি তিনি। ৬৪ মিনিটে ফার্গুসনের ফ্রি কিক ও পরের মিনিটে ম্যাকটমিনের হেড ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন আলিসন।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটের সময় ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সি পরা ফরোয়ার্ড নেইমার একটি গোলের অপেক্ষায় দর্শকরা অধীর আগ্রহে ছিলেন। ৯০ মিনিটে তার লক্ষ্যে নেওয়া একটি শট ঠেকাতে কষ্ট করতে হয়নি গোলকিপার গুনকে। তার পাস থেকেই ভিনিসিয়ুসের হ্যাটট্রিকের একটি সুযোগ এসেছিল। তিনি গোল করতে না পারলেও আভাস দিলেন, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে তার জুটি ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষকে বড় বিপদে ফেলতে যাচ্ছে।

দু’বার পিছিয়ে থেকেও দারুণ জয়ে নকআউটে মরক্কো

চলতি বিশ্বকাপে ছোট দলগুলোর কড়া পারফরম্যান্স লক্ষণীয়। হাইতির বাধা অতিক্রম করতে গিয়ে যেমন ব্রাজিলকে বেগ পেতে হয়েছিলো,ঠিক মরক্কোকে প্রায় কাঁদিয়ে ছাড়ে ৫২ বছর পর ফুটবলের সবচে বড় মঞ্চে ফেরা হাইতি। মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্টের আশায় দু’দুবার এগিয়ে যায় দলটি। আশরাফ হাকিমি-ইসমাইল সাইবারিদের গোলে শেষ ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় মরক্কো এবং ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে।

Image

গোল চারটি হয় যথাক্রমে মরক্কোর পক্ষে হাকিমি ৩৯,ইসমাইল সাইবেরি প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে, মরক্কোর হয়ে সুপিয়ান রহিমী ৭৮ মিনিটে, গেসিম ইয়াসিন ৮৯ মিনিটে এবং হাইতির হয়ে ইয়াসিন বনো ১০ মিনিটে ও উইলসন ইসিদোর ৪৮ মিনিটে গোল করেন।

যদিও সবদিক থেকেই ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল হাকিমি-দিয়াজদের। ৭০ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি তাদের ২২ শটের ১১টিই লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে কেবল দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে হাইতি। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে ২-২ গোলের সমতায় ছিলো।

ম্যাচের দশম মিনিটেই চমক দেখিয়ে এগিয়ে যায় হাইতি। ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে গোলের দেখা পায় দলটি। লেনি জোসেফ নিকটবর্তী পোস্টে ব্যাক-হিল ফ্লিক করে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে পরাস্ত করেন। এর মাধ্যমে ১৯৭৪ আসরের পর বিশ্বকাপে হাইতির প্রথম গোলদাতা হলেন লেনি। সর্বশেষ আসরে দেশটির হয়ে গোল করেছিলেন ইমানুয়েল স্যানন।

৩৯তম মিনিটে মরক্কোকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক হাকিমি। বিলাল আল খানুসের ডিফ্লেক্টেড ক্রস হাইতির গোলরক্ষক জনি প্ল্যাসাইড হাত ছোঁয়াতে সক্ষম হলেও বল পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হাকিমি বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান মরক্কোকে।

 আশা জিঁইয়ে থাকলো বসনিয়ার
জয়টা একটু দেরিতেই এসেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার। যদিও ব্যবধানটা আরও বেশ বড় হলে তারা সরাসরি বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে যেতো। এখন গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় হওয়ায় নক আউটে উঠার ভালোভাবে আশা জিঁইয়ে থাকলো  বসনিয়ার। কাতারের নিশ্চিত বিদায় ম্যাচে তারা জিতেছে ৩-১ গোলে। বিজয়ী দলের গোল তিনটি করেন যথাকমে- করিম আলাম বেগভিচ ২৯ মিনিট, মাহমুদ আবুনাদা ৩৪ মিনিটে,এরমিন মাহমিক ৮০ মিনিটে। অন্যদিকে কাতারের একমাত্র গোলটি করেন হাসসান আল হেইদোস ৪২ মিনিটে।

Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.Catch the live score and updates from the FIFA World Cup 2026 match.বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বনাম কাতার হাইলাইটস | ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: BHI ৩-১ QAT; বসনিয়ার হয়ে গোল করলেন মাহমিচ ও আলাদবেগোভিচ - SportstarImage

নক আউটে ৩২ দল খেলবে। গ্রুপ সেরা ২৪ দলের সাথে তৃতীয় সেরা ৮ দল খেলবে নক আউটে। একই গ্রুপ থেকে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা নক আউটে খেলবে। কানাডারও পয়েন্ট বসনিয়ার সমান ৪ ছিলো। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তারা সুযোগ পেয়ে যায়। এর আগে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল, ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসরে ইরানকে হারালেও তাদের বিদায় হয় গ্রুপপর্বে। এবার তাদের সামনে নকআউটে উঠে ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাগতিকদের হারিয়ে গ্রুপ সেরা সুইজারল্যান্ড

ঘরের মাঠে দারুণ লড়াই করেছিলো কানাডা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আক্রমান-পাল্টা আক্রমনে গোলশুন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় কানাডা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সুইসদের আক্রমনে শেষ ঠেকিয়ে রাখতে পারিনি কানাডা। বিরতির পর মাঠে নেমেই গোল হজম করে। বারো মিনিটের ব্যবধানে আরা একটি গোল। ২-০ গোলে পিছিয়ে যায় ম্যাচের ৫৬ মিনিটের সময়। শেষ দিকে এক গোল পরিশোধ করে সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ আর হয়নি। মাঠ ছাড়তে হয় শেষ ২-১ ব্যবধানে। এই জয় তাদের গ্রুপ সেরা করেছে। তবে হারলেও সুইসদের সাথে কানাডাও দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুসংবাদ পেয়ে যায়।

সুইজারল্যান্ড ২-১ কানাডা, বিশ্বকাপ ২০২৬: ইউরোপীয় দল গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করল, আয়োজকরা ইতিহাস গড়ল।

সুইজারল্যান্ডের হয়ে একটি করে গোল করেছেন রুবেন ভার্গাস এবং জোহান মানজাম্বি। অন্যদিকে কানাডার হয়ে শেষ দিকে প্রোমিস ডেভিড একমাত্র গোলে ব্যবধান কমান। ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সুইসরা আগামী ২ জুলাই ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ৩২-এর ম্যাচে কোনো একটি তৃতীয়-স্থানধারী দলের মুখোমুখি হবে।

অন্যদিকে গ্রুপের শীর্ষে থেকে নিজ দেশে খেলার সুযোগ ধরে রাখতে কানাডার জয় বা ড্র প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হারের কারণে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে যেতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। আগামী রোববার সেখানে তারা গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে।

দ.কোরিয়াকে হতাশায় ডুবিয়ে নক আউটে দ.আফ্রিকা

প্রথম ম্যাচে দারুন জয় ছিলো এশিয়ার শক্তিশালী দলটির। কিন্তু এরপরেই টানা দুই হারে বিদায়ের শঙ্কা। আর একটি মাত্র ড্র করতে পারলেই চলতো। কিন্তু কোরিয়া পারেনি নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় নক আউটে অনিশ্চয়তা দুলছে দলটি।

দ. কোরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসKorea

অন্যদিকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিশ্বকাপে উঠে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবার গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে। এছাড়া একটি ব্যক্তিগত রেকর্ডও হয়েছে। ৭৪ বছর ও ৭৫ দিন বয়সী বেলজিয়ান হুগো ব্রুস সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে জাতীয় দলকে টুর্নামেন্টের নকআউটে তুলেছেন।

এখানে কোচ ব্রুস ভেঙেছেন অস্কার তাবারেজের রেকর্ড। উরুগুয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ, যিনি ‘মায়েস্ত্রো’ নামেও পরিচিত। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে আগের রেকর্ড গড়েন ৭১ বছর ও ১২৫ দিন বয়সী তাবারেজ।

মেক্সিকো তিনে তিন

গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচেও হারেনি মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে বিশ্বকাপ যৌথ তিন আয়োজকের একটি এই দেশ। ঘরের মাঠে চেক রিপাবালিকান দলটিকে রীতিমতো উড়িয়ে দিলো,হারালো ৩-০ গোলে।

মেক্সিকো চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে: ওচোয়ার ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড এবং গ্রুপ 'এ'-এর শক্তি।

মাতেও শাভেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে মেক্সিকো তিন ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়েছে। তাতে এ গ্রুপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেকদের।
চেকদের হয়ে একটি প্রচেষ্টা গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন ডেনিস ভিসিনস্কি। তবে মেক্সিকো সিটিতে প্রথমার্ধে এমন সুযোগ খুব কমই এসেছে। আগেই গ্রুপের এক নম্বর জায়গা নিশ্চিত করা মেক্সিকো বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রথম শট নিতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৬ মিনিট। বক্সের প্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের ওভারহেড কিক গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

ডেভিড দোদেরা ও কুইনোনেস দূর পাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে যায়। হোর্হে সানচেজের শটে প্রথম সেভ করেন চেক গোলকিপার মাতেজ কোভার।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। এক ঘণ্টার আগেই ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে তারা। দল ভালো অবস্থানে থাকার পর মেক্সিকো ৪০ বছর বয়সী কিপার গুইলেরমো ওচোয়াকে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেন। স্টপেজ টাইমে মেক্সিকো আরেকটি গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা আগামী ১ জুলাই শেষ ৩২ এর ম্যাচ খেলবে তৃতীয় সেরা একটি দলের সঙ্গে।