ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের সহায়তার আশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রিকসে যোগ দেয়া, তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সহায়তার অংশ হিসেবে শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ব্রিকস-এ যোগদানের বিষয়েও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

খলিলুর রহমান বলেন, এবারের চীন সফর, আগের সফরগুলোর চেয়ে গুণগতভাবে আলাদা। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ জনসমর্থন নিয়ে গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে এই সফর করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও দেশটির অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যের প্রসার নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সফরে চীন-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং থেকে মিয়ানমারের বন্দরগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে পণ্য পরিবহন খরচ ও সময় অনেক কমে আসবে, যা বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার—উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করে দ্রুত এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে।

মন্ত্রী আরও জানান যে, মিয়ানমার সরকার এবং আরকান আর্মির সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি আশাবাদী যে বর্তমান সরকারের অধীনেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীন সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি মেকানিজম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ছিল।

তিনি এই সফরকে অত্যন্ত সফল হিসেবে দাবি করেন এবং জানান যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এখন আরও গভীর, বিস্তৃত ও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

চীন সফরের আগেই প্রধানমন্ত্রী মালয়শিয়া সফর করেন। সেখান থেকেই তিনি চীন সফর করেন। মালয়শিয়াতেও তিনি লাল গালিচা সংবর্ধনা পান এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে মালয়শিয়া সরকারের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মালয়েশিয়া সফরে অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণ এবং নতুন শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের সহায়তার আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৪:০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ব্রিকসে যোগ দেয়া, তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সহায়তার অংশ হিসেবে শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ব্রিকস-এ যোগদানের বিষয়েও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

খলিলুর রহমান বলেন, এবারের চীন সফর, আগের সফরগুলোর চেয়ে গুণগতভাবে আলাদা। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ জনসমর্থন নিয়ে গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে এই সফর করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও দেশটির অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যের প্রসার নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সফরে চীন-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং থেকে মিয়ানমারের বন্দরগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে পণ্য পরিবহন খরচ ও সময় অনেক কমে আসবে, যা বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার—উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করে দ্রুত এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে।

মন্ত্রী আরও জানান যে, মিয়ানমার সরকার এবং আরকান আর্মির সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি আশাবাদী যে বর্তমান সরকারের অধীনেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীন সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি মেকানিজম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ছিল।

তিনি এই সফরকে অত্যন্ত সফল হিসেবে দাবি করেন এবং জানান যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এখন আরও গভীর, বিস্তৃত ও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

চীন সফরের আগেই প্রধানমন্ত্রী মালয়শিয়া সফর করেন। সেখান থেকেই তিনি চীন সফর করেন। মালয়শিয়াতেও তিনি লাল গালিচা সংবর্ধনা পান এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে মালয়শিয়া সরকারের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মালয়েশিয়া সফরে অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণ এবং নতুন শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া।