চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২ চুক্তিসহ ১৩ সমঝোতা স্মারক সই
- আপডেট সময় : ১০:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের দিকে তাকিয়ে ছিলো গোটা বিশ্ব। চীন যেহেতু একটি বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্র, তাই এর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা কেমন হবে সে দিকে বেশি নজর রয়েছে পাশবর্তী দেশ ভারতের। পতিত শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন অপরাধীদের আশ্রয় দেয়ার ফলে বাংলাদেশের সাথে তাদের সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রী থেকে দা-কুমড়ায় রুপ নিয়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে বাংলাদেশকে পানিতে ডুবিয়ে মারা, আবার পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়া, সীমান্ত এলকায় বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করা, পুসইন করা সব কিছু মিলে ভারত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের পরম বন্ধু থেকে চরম শত্রু। এরই মধ্যে বাংলাদেশের সরকার প্রধান তারেক রহমানের মালয়শিয়া ও চীন সফর ভারত সরকারের চোখ নড়বড় হয়ে উঠে।
তবে সেদিকে তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশ সরকার প্রধান নির্বাচিত হবার পরেই মালয়শিয়া ও চীন সফর করলেন। সেখানে তিনি রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন। মালয়শিয়া সফর শেষে চীন পৌছাতেই চীনের রাষ্ট্র প্রধান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
চীনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকেও মিলিত হন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব পিপলে’ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠক শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ছাড়াও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
এর আগে বিকেলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব পিপলে’ অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠকে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অন্যদিকে চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। পরে বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দু’টি চুক্তি ছাড়াও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসব সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন।
বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ১৩টি মোমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যাডিং রয়েছে। ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন কীভাবে আমরা গ্রিন ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে প্রমোট করতে পারি ও জয়েন্ট অ্যাকশন প্লানের বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের এক্সপোর্ট ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে যেন চীনে আমরা রপ্তানি করতে পারি এবং বিভিন্ন ডেভেলপমেন্টাল কো-অপারেশন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়াও কনসেশনাল লোন অর্থাৎ, চীন থেকে বাংলাদেশে যে ঋণ যাচ্ছে, সেখানে কীভাবে আমরা ইন্টারেস্ট রেট কমাতে পারি এবং গ্রেস পিরিয়ড বাড়াতে পারি, সেটি নিয়েও কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ, যার অধীনে আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামগ্রিক অ্যালাইনমেন্ট রিলেটেড ম্যানপাওয়ার ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট রিলেটেড কাজগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমইউ হয়েছে। সেই সঙ্গে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের একটি ডিফারেন্ট কো-অপারেশন প্ল্যান সাইন করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের রপ্তানির বিষয়েও একটি এমইউ হয়েছে।
এর আগে, সকালে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাইয়ে’ চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্বারক সই হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মন্ত্রী লুই হাইজিং (Liu haixing) এই সমঝোতায় সই করেন।
এই সমঝোতার আওতায় দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা লুই হাইজিং।




















